Categories
Foods

যেসব খাবার কখনোই একসঙ্গে খাওয়া উচিত নয়

খাদ্য ছাড়া বেঁচে থাকার কথা ভাবাই যায়না! কেউ কেউ ভালবাসে সাধারণভাবে রান্না করা খাবার আবার কেউ কেউ ভালবাসে একটু তীব্র সুগন্ধযুক্ত ও ভিন্ন কম্বিনেশনের খাবার খেতে। 

তবে খেয়াল রাখবেন ভিন্ন কিছু খেতে গিয়ে যেন শরীরের ১২ টা না বেজে যায়! দুধ আর আনারস একসঙ্গে খেলে যেমন শরীরের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে তেমনি আরও কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো একসঙ্গে খেলে অনেক বড় বিপদ ঘটতে পারে।

ডায়েট স্পেশালিষ্টদের মতামত অনুসারে, এমন ৬জোড়া খাবারের কম্বিনেশন তুলে ধরা হল যেগুলো একসঙ্গে না খাওয়াই আপনার জন্য মঙ্গলজনক। 

যে খাবারগুলো একসঙ্গে খাওয়া উচিত নয়

১। কলা ও দুধ জাতীয় খাবার

ঘাবড়ে গেলেন নিশ্চয়? স্বাস্থ্যসচেতন লোকদের মাঝেই এই দুইটি খাবার একসঙ্গে খাওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। কারণ কলা ও দুধ সহজলভ্য এবং একই সাথে পুষ্টিকর ও তাড়াতাড়ি এর স্মুদি তৈরি করা যায়। আয়ুর্বেদের মতে, এই খাবার দুইটির সংমিশ্রণ সবচাইতে ভারী ও বিষাক্ত। এটা শরীরে একরকম ভারী ভাব এনে দেয় এবং মনকেও মন্থর করে দেয়। 

তবে কলা ও দুধের স্মুদি ছাড়া যদি চলতে না পারেন, সেক্ষেত্রে অবশ্যই লক্ষ্য রাখুন কলা যেন ভালভাবে পাকা হয়। আর হজমের সুবিধার জন্য এতে এলাচের গুড়ো মিশিয়ে দিন। 

২। কফি ও স্যান্ডউইচ 

অধিকাংশ লোকই সকালের নাস্তা শুরু করেন কফি এবং স্যান্ডউইচ দিয়ে। যখন হাতে মোটেই সময় থাকেনা এবং বাইরের থেকে কিছু খেয়ে নিতে হয় তখন তো এর থেকে ভালো সমাধান আর হতেই পারেনা। 

কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত চিজ স্যান্ডউইচের সাথে কফি খাওয়া মানেই চিজের সব গুণাগুণকে বিদায় করে দেওয়া। এর প্রধান কারণ হচ্ছে পাউরুটিতে থাকা কার্বোহাইড্রেট, ক্যালসিয়ামকে হজম হতে বাধা প্রদান করে। 

যার ফলে আপনার স্নায়ুতন্ত্র এবং রক্ত সংবহনতন্ত্রের কাজ ঠিকভাবে সম্পন্ন হয়। তাই সেক্ষেত্রে যদি স্যান্ডউইচের সাথে ইনস্ট্যান্ট কফি খান তাহলে সেটা আপনার শরীরের কোন কাজেই লাগেনা। 

তবে দুঃখ পাবেন না, যদি চিজ স্যান্ডউইচ আপনার খুব প্রিয় হয়ে থাকে তাহলে কফির পরিবর্তে গ্রিন টি পান করুন। এটা শুধু আপনার তৃপ্তি-ই মিটাবে না, আপনাকে এনারজেটিক ও রিফ্রেসশড রাখবে যা ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাবে ও আপনার ত্বককে সুন্দর করবে। 

৩। টমেটো ও শশা 

এটা শুনে আপনি এতক্ষণ হয়ত রীতিমতো চমকে গিয়েছেন তাইনা? কারণ সালাদ হিসাবে তো টমেটো ও শশার কম্বিনেশন ছাড়া কিছু চিন্তায় করা যায় না! সারা বিশ্বেও এর প্রচলন চোখে পড়ার মতো। তবে আধুনিক গবেষণাগুলো বলছে, এই দুটো সবজি একসঙ্গে খাওয়া মোটেই স্বাস্থ্যকর নয়। কারণ এটা আপনার শরীরের প্রাণরসায়নিক ব্যবস্থাপনাকে বিপাকে ফেলছে। 

এই দুইটি সবজি একসঙ্গে খেলে আপনার শরীরে বেশি পরিমাণে ক্যালসিয়াম জমে যায় এবং যে পরিমাণে ভিটামিন এগুলো বহন করে তা সঠিকভাবে পরিপাক হয়না। ফলে আপনার শরীর ফুলে যাবে যেটা হয়ত আপনি মেনে নিতে পারবেন না!

এই দুইটি খাবারের হজমের সময় ভিন্ন ভিন্ন হওয়ায় আজকে টমেটোর সালাদ খেলে কালকে শশার সালাদ খান। এতে আপনার শরীর পরিপূর্ণ ভিটামিন পাবে এবং আপনি থাকবেন তরতাজা! 

৪। ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের সাথে স্টেক 

এখনকার সময়ে এটা খুবই জনপ্রিয় একটা কম্বিনেশন। আর রেস্টুরেন্টগুলো যে হারে অফার দিচ্ছে তাতে করে মানুষের স্টেক খাওয়ার হার দিন দিন বেড়েই চলেছে। তবে স্টেকের সাথে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই খেয়েছেন তো বিপদে পড়েছেন! 

কারণ আলুতে থাকা অতিরিক্ত স্টার্চ হজমে ক্ষারীয় অন্ত্ররস প্রয়োজন। অন্যদিকে মাংসে থাকা প্রোটিন হজম করতে অম্লীয় অন্ত্ররস প্রয়োজন। তাই এই দুইটি খাবার আপনি যখন একসাথে খাবেন তখন তা পাকস্থলীতে আটকে থাকে এবং হৃৎপিণ্ডের নানারকম সমস্যা হতে থাকে যেমন- বুক জালাপোড়া, ঘন ঘন ঢেকুর ওঠা, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা এবং আরও কত কি। 

তবে এই সমস্যা এড়াতে মাংসের সাথে আলুর পরিবর্তে স্টার্চবিহীন সবজি খেতে পারেন। যেমন- ব্রকলি, শতমূলী, ধুন্দল, ফুলকপি অথবা শিম। 

৫। আনারসের সাথে দুধ

এটা আমরা হয়ত সকলেই জানি যে দুধ এবং আনারস একসঙ্গে খাওয়া উচিত নয়। কিন্তু এর আসল কারণ কি হতে পারে তা কি কখনো ভেবেছেন? টকজাতীয় ফল হজম হতে অনেক সময় লাগে বিশেষ করে সকালের দিকে। এছাড়াও আনারসে, ব্রোমালাইন নামক এক ধরণের এনজাইম থাকে যার কারণে এটি দুধ বা দুধের তৈরি কোন খাবারের সাথে খেলে বিষক্রিয়া হতে পারে। 

তবে যদি আপনি দুধের সাথে ফল মিশিয়ে খেতে পছন্দ করেন তাহলে কিসমিস যোগ করতে পারেন যা খাবারকে সুস্বাদু তো করবেই এবং তাড়াতাড়ি হজমও হয়ে যাবে। 

৬। বিয়ার ও লবণযুক্ত বাদাম 

চোখ কপালে ওঠার মতোই একটা বিষয় এটা। কারণ বিশ্বব্যাপী বিয়ার খুবই জনপ্রিয় একটি ড্রিঙ্কস। আর অনেকেই আছেন যারা বিয়ারের সাথে স্পাইসি কিছু খেতে পছন্দ করেন এবং সহজলভ্য হিসাবে বেছে নিতে পারেন লবণযুক্ত বাদামকে। কিন্তু আপনার জন্য এটা মোটেই সুখবর নয়। 

উচ্চমাত্রার লবণযুক্ত খাবার শুধু অস্বাস্থ্যকরই নয় বরং ডিহাইড্রেশনের একটা বড় কারণ। লবণযুক্ত খাবার প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম বহন করে যা আপনার শরীর থেকে তরল পদার্থ বের করে দেয় এবং আপনি তৃষ্ণার্ত অনুভব করেন। যার কারণে হয়ত আপনি গ্লাসের পর গ্লাস বিয়ার খেতেই থাকেন। 

এটা সার্বজনীন যে, আমাদের শরীরে বিয়ারের অনেক ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে। তার মধ্যে একটা হল আপনার ভুঁড়ি বেড়ে যাবে। তবে বিয়ারের সাথে বাদাম খাওয়ার লোভ যদি সামলাতে না পারেন, তাহলে বিয়ারের পাশে সোডা অথবা পানি রাখুন যেটা আপনার পিপাসা মেটাতে সাহায্য করবে এবং অধিক পরিমাণে বিয়ার খাওয়া থেকেও আপনাকে বিরত রাখবে।  

এগুলো ছাড়াও আপনার যদি এমন কোন খাবারের কম্বিনেশন জানা থাকে যেগুলো একসঙ্গে খাওয়া খুবই অস্বাস্থ্যকর তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করুন।

আশা করি পোস্টটি আপনাদের ভালো লেগেছে। স্বাস্থ্য সম্পর্কিত যেকোনো তথ্য পেতে আমাদের ফেজবুক পেজে লাইক দিয়ে সাথেই থাকুন।

Categories
Uncategorized

রাতে ঘুমানোর আগে এই ৭টি অভ্যাস আপনার ওজন কমাতে সাহায্য করবে

রাতে ঘুমানোর সময় আপনার দেহ ৩০০-৪০০ ক্যালরি ক্ষয় করে থাকে যেটা টানা এক ঘণ্টা দৌড়ালে যে পরিমাণ শক্তি ক্ষয় হয় তার সমান। বিশেষজ্ঞরা দাবি করেন যে, শারীরিক অনুশীলনের মতো মানসম্পন্ন ঘুমও ওজন হ্রাসে অবদান রাখতে পারে। আপনি যদি নিজের জীবনেও এর কার্যকারিতা দেখতে চান তাহলে ঘুমানোর সময় নির্দিষ্ট কিছু অভ্যাস মেনে চলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যা ঘুমের মধ্যে আপনার বিপাক প্রক্রিয়াকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।

তাই Health বার্তা টিম আজকে আপনার সামনে এমন কিছু অভ্যাসের কথা তুলে ধরবে যা ওজন কমাতে আপনার খুবই উপকারী মনে হবে।

ঘুমের আগে এই অভ্যাসগুলো আপনার ওজন কমাতে সাহায্য করবে

১। ঠাণ্ডা পরিবেশে ঘুমান

বিপাক বাড়ানোর জন্য বিশেষজ্ঞরা রাতে আপনার শোবার ঘরের তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড (৬৪.৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট) রাখার পরামর্শ দেন। গবেষণায় দেখা গেছে যে, ঠাণ্ডা পরিবেশ শরীরের ধূসরবর্ণের ফ্যাটি কোষগুলিকে সক্রিয় করে, যা থার্মোরোগুলেশনের জন্য দায়ী। আপনি যখন ঠান্ডা ঘরে ঘুমাচ্ছেন বা নগ্ন হয়ে ঘুমান, আপনার শরীর তাপ বজায় রাখতে আরও শক্তি পোড়াতে শুরু করে। একারণেই সকালে ঘুম থেকে উঠে আপনার নিজেকে রাতের চেয়ে বেশি পাতলা মনে হবে।

২। বেশি বেশি আঙ্গুরের জুস খান

আঙ্গুরের রসে রেসভেরাট্রোল নামক একটি বিশেষ উপাদান রয়েছে যার কারণে এটি ক্যালরি বার্ন করতে সহায়তা করে। এটি শরীরের জন্য ক্ষতিকর সাদা ফ্যাটকে বেইজ ফ্যাটে রূপান্তর করে। আপনি যখন ঘুমাবেন, আপনার শরীর আপনাকে উষ্ণ রাখার জন্য বেইজ ফ্যাট ব্যবহার করে।

সুতরাং, আপনি বিছানায় যাওয়ার আগে এক কাপ আঙ্গুরের রস খেলে অতিরিক্ত গ্রীস আপনার শরীরে জমাট বাঁধার পরিবর্তে তা থেকে মুক্তি দিবে। অতিরিক্ত চিনি খাওয়া এড়িয়ে চলতে তাজা ফলের জুস খান। এবং এটি বাড়িতে বানিয়ে খাওয়াই উত্তম কারণ বাজারের কেনা জুসে বেশি পরিমাণে অ্যাডেড সুগার থাকে যেটা শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর।

৩। সুনিদ্রিস্ট সময়ে ঘুমাতে যান এবং সকালে একই সময়ে উঠুন

গবেষণা বলছে, অনিয়ন্ত্রিত ঘুমের সময়সূচী অতিরিক্ত ওজন বাড়ানোর সাথে যুক্ত। সাধারণত হরমোন মেলাটোনিন আমাদের কখন বিছানায় যেতে হবে তা বলে থাকে। এটি বেইজ ফ্যাট কোষগুলিকে সক্রিয় করতে সাহায্য করে যা ক্যালরি বার্ন করতে সহায়তা করে। আপনি যদি অনিয়ন্ত্রিতভাবে ঘুমান তাহলে এটি আপনার মেলাটোনিন উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটায় এবং আপনি শান্তিপূর্ণ ঘুম থেকে নিজেকে বঞ্চিত করেন।

ফলস্বরূপ, আপনি সকালে ক্লান্তি বোধ করেন এবং আপনার শক্তি বাড়ানোর জন্য উচ্চ-ক্যালরিযুক্ত স্ন্যাকস খেতে চান। এই সমস্যা এড়িয়ে চলতে প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যান এবং একই সময়ে ঘুম থেকে উঠুন।

৪। বেশি করে প্রোটিনযুক্ত স্নাক্স খান

ঘুমাতে যাওয়ার আগে স্নাক্স খাওয়া দোষের কিছু নয় যদি আপনি সঠিক খাবার নির্বাচন করতে পারেন। এজন্য উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার বেছে নিন যেমন- টক দই, লো-ফ্যাটের কটেজ চিজ, পি-নাট বাটার ইত্যাদি। এগুলো আপনার বিপাক প্রক্রিয়াকে বৃদ্ধি করবে এবং মাংসপেশিতে শক্তি যোগাবে।

৫। ঘুমানোর আগে ব্যায়াম করুন

ঘুমানোর আগে শরীরচর্চা হচ্ছে মানসিক চাপ ঝেড়ে ফেলা ও মেটাবোলিজম রেট বৃদ্ধি করার সেরা উপায়। কার্ডিও এবং এ্যারোবিক উভয় ব্যায়ামই বেশ উপকারী তবে যে ব্যায়ামগুলোতে কষ্ট বেশি সেগুলো মেদ কমাতেও বেশি কার্যকর।

রাতে সাঁতার কাটা কিংবা ওয়েট উত্তোলন করা আপনার ভালো ঘুম হওয়ার একটি উত্তম উপায়। আর এগুলোর জন্য আপনাকে বেশি পরিশ্রম করা লাগে না আবার রাতে আপনার ঘুমও ভালো হয়।

৬। হারবাল চা পান করুন

কিছু নির্দিষ্ট চা আপনাকে ওজন কমাতে সাহায্য করে। তবে না, আমরা সেই ধরণের চা এর কথা বলছিনা যেগুলো আপনাকে রাতারাতি মেদ কমানোর আশ্বাস দিয়ে থাকে। প্রাকৃতিক হারবাল চা সত্যিই অনেক বেশি উপকারী এবং এটি বিভিন্ন ভাবে আপনার শরীরকে ফিট রাখতে সাহায্য করে। দারচিনি প্রদাহ দূর করে এবং সকালে বমি বমি ভাব হওয়া প্রতিরোধ করে। মেন্থল ক্ষুধা হ্রাস করে এবং স্নাক্সের প্রতি আপনার আগ্রহ কমায়। ক্যামোমাইল হজমে সাহায্য করে এবং আপনার স্নায়ু শিথিল রাখে।

আপনি যদি আজ থেকেই এই টিপসগুলো মেনে চলা শুরু করেন তবে একমাসের মধ্যেই নিশ্চিত ফল পাবেন। তবে যদি আপনি ব্যায়াম না করেন ও স্বাস্থ্যকর খাবার না খান তবে কোনভাবেই আপনি এগুলো থেকে অলৌকিক কিছু আশা করতে পারবেন না।