Categories
Uncategorized

ডায়াবেটিস নিরাময়ে সজিনা পাতার যত উপকারিতা

সজিনা একটি অতি পরিচিত দামি এবং সুস্বাদু সবজি। সজিনার ইংরেজি নাম Drumstick এবং বৈজ্ঞানিক নাম Moringa Oleifera উৎপত্তিস্থল পাক-ভারত উপমহাদেশ হলেও এ গাছ শীত প্রধান দেশ ব্যতীত সারা পৃথিবীতেই জন্মে। বারোমাসি সজিনার জাত প্রায় সারা বছরই বার বার ফলন দেয়। আমাদের দেশে ২-৩ প্রকার সজিনা পাওয়া যায়। বসতবাড়ির জন্য সজিনা একটি আদর্শ সবজি গাছ।

ডায়াবেটিস নিরাময়ে সজিনা পাতার উপকারিতা

সজিনা পাতা

১। ড্রামস্টিক বা মরিঙ্গা ওলিফেরা পাতা রক্তে শর্করার মাত্রা কমিয়ে ডায়াবেটিস-বিরোধী বৈশিষ্ট্য দেখায়। কারণ এতে আছে ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড যা রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল করে।

২। এতে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যগুলি প্রদর্শন করে যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। 

৩। এছাড়াও এই  পাতায় প্রচুর পরিমাণে অ্যাসকরবিক অ্যাসিড থাকে, যা শরীরে ইনসুলিন নিঃসরণ বাড়ায়, যার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যায়।

৪। এতে উপস্থিত বিভিন্ন ভিটামিন এবং খনিজ রক্তে-গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, এতে থাকা বিভিন্ন প্রোটিন রক্তে শর্করার মাত্রা কমায়। তাই এটি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য খুবই উপকারী। এটি পিত্তথলির কার্যকারিতাও বাড়াতে পারে, যা রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা হ্রাস করে। [1]

৫। ৩০ জন মহিলার মধ্যে একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে তিন মাস ধরে প্রতিদিন ১.৫ চা চামচ (৭ গ্রাম) সজিনা পাতার গুঁড়ো গ্রহণ করলে গড়ে খালি পেটে রক্তে শর্করার মাত্রা ১৩.৫% কমে যায়। 

৬। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছয়জনের মধ্যে আরেকটি ছোট গবেষণায় দেখা গেছে যে খাবারে ৫০ গ্রাম মরিঙ্গা পাতা যোগ করলে রক্তে শর্করার বৃদ্ধি ২১% কমে যায়। [2]

সজিনা কিভাবে রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে?

মরিঙ্গা ওলিফেরাতে বেশ কয়েকটি পলিফেনল পাওয়া যায়। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ফ্ল্যাভোনয়েড কোয়ারসেটিন, কেম্পফেরল, ফেনোলিক এসিড, ক্লোরোজেনিক এসিড এবং ক্যাফেওয়েলকুইনিক এসিড। এই যৌগগুলি অ্যান্টিহাইপারগ্লাইসেমিক বৈশিষ্ট্য প্রদান করে বলে মনে করা হয় এবং গ্লুকোজের অন্ত্রের শোষণ হ্রাস করে।

মরিঙ্গা ওলিফেরার জলীয় পাতার নির্যাস α-glucosidase, pancreatic α-amylase এবং অন্ত্রের সুক্রোজের কার্যকলাপকে বাধা দিতে দেখা গেছে, যা অ্যান্টিহাইপারগ্লাইসেমিক বৈশিষ্ট্যগুলিতে অবদান রাখে। 

মরিঙ্গা ওলিফেরাতে উপস্থিত ফেনল, ফ্ল্যাভোনয়েড এবং ট্যানিনের কারণে এই প্রতিরোধক প্রভাবগুলি সম্ভব। কার্বোহাইড্রেট হজমে বিলম্ব, এই এনজাইমগুলির বাধার কারণে, পোস্ট-প্র্যান্ডিয়াল হাইপারগ্লাইসেমিয়া এবং হিমোগ্লোবিন A1C (HbA1C) হ্রাসের দিকে পরিচালিত করে। [3]

আরেকটি গবেষণায় দেখা যায়, কোনো প্রতিকূল প্রভাব সৃষ্টি না করেই, মরিঙ্গা পাতা গ্লাইসেমিয়া কমাতে দেখা গেছে। গ্লাইসেমিয়া হ্রাস করার জন্য প্রস্তাবিত প্রক্রিয়াগুলির মধ্যে রয়েছেঃ

  • α-amylase এবং α-গ্লুকোসাইডেস কার্যকলাপের বাধা, 
  • পেশী এবং লিভারে গ্লুকোজ গ্রহণ বৃদ্ধি, 
  • অন্ত্র থেকে গ্লুকোজ গ্রহণে বাধা, 
  • লিভারে গ্লুকোনিওজেনেসিস হ্রাস এবং ইনসুলিন সিক্রেটিভিটি বৃদ্ধি।

সজিনা পাতার আরো অনেক উপকারিতা

ডায়াবেটিস নিরাময়ে সজিনা পাতার উপকারিতা

এই পাতার নানা গুণাগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। লেবু থেকে সাত গুন বেশি ভিটামিন-সি রয়েছে এতে। যা আমাদের দেহের ভিটামিন-সির চাহিদা পূরণে সক্ষম।

ডায়েটে সজিনা কীভাবে অন্তর্ভুক্ত করবেন? 

ড্রামস্টিক, বীজ এবং পাতা তিনটি বিভিন্ন উপায়ে ব্যবহার করা যেতে পারে। পাতা কাঁচা, গুঁড়ো বা রস আকারে খাওয়া যেতে পারে। পানিতে ড্রামস্টিক পাতা সিদ্ধ করে এর সাথে মধু ও লেবু মিশিয়ে খাওয়া যায়। এছাড়াও ড্রামস্টিক স্যুপ এবং তরকারীগুলিতেও ব্যবহার করা যেতে পারে। এক চা চামচ বা ড্রামস্টিকের প্রায় ২ গ্রাম একটি ডোজ নিয়মিত গ্রহণ করা উচিত। ডায়াবেটিক রোগীদের সঠিক ডোজ জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সজনে পাতার কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া 

মরিঙ্গা বা কোনো সম্পূরক গ্রহণ করার আগে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ নিতে হবে বিশেষ করে যদি কোনো ওষুধ খাওয়া হয়।

ডায়াবেটিক রোগীরা সজিনা কিভাবে খাবেন? 

  • সজিনা পাতা শুকিয়ে গুঁড়া করে সংরক্ষণ করা যায়। পরে চায়ের পাতার মতো ব্যবহার করা যায় অথবা শুকনা পাতা ফুটানো পানিতে দিয়েও চা বানানো যায়। 
  • তাজা সজিনা পাতা পানিতে ফুটিয়ে চায়ের মতো খাওয়া যায়।

সজিনা পাতায় আইসো থায়োসায়ানেট থাকে। ফলে নিয়মিত সজিনা পাতা খাওয়া হলে তা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমায় এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সজিনা পাতার চা বেশ উপকারী।

শুধু সজিনা খেলেই কি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকবে?

নিয়মিত সজিনা পাতা খাওয়ার মাধ্যমে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তবে তার পাশাপাশি ডায়াবেটিক রোগীকে অবশ্যই নিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা ও সঠিক খাদ্যাভ্যাস মেনে চলতে হবে। কারণ নিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা ও সঠিক খাদ্যাভ্যাস মেনে না চললে শুধু সজিনা খেয়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না।

Categories
Uncategorized

যে খাবারগুলো সবসময় এড়িয়ে চলা উচিত

এমন কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো খাবার তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া উচিত। ফুড সেফটি নিয়ে সংঘটিত অনেক গবেষণা থেকে পাওয়া গেছে যে, এমন অনেক স্বাস্থ্যকর খাবার রয়েছে যেগুলো আসলে শরীরের জন্য কতটা ক্ষতিকর সে সম্পর্কে আপনাদের কোন ধারনা-ই নেই!

সেক্ষেত্রে তাজা সবজি আপনার শরীরের উপকারের থেকে ক্ষতি করে বেশি। কি অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে নিশ্চয়? চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক। 

১। ফলের জুস 

জুস আমাদের সবার পছন্দের একটি খাবার এবং তা যদি হয় তাজা ফলের রস থেকে তৈরি তাহলে তো কোন কথা-ই নেই। তবে একটি খারাপ সংবাদ হচ্ছে আজ থেকে এই তাজা ফলের জুস খাওয়া বন্ধ করে দিন কারণ ফ্রেশলি স্কুইজড জুস থেকে ভাইরাস এবং ব্যক্টেরিয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন রোগ ছড়াতে পারে।

তাই এর বদলে পাস্তুরাইজড জুস খেতে পারেন। তবে সব থেকে ভালো হয় যদি জুস না করে শুধু তাজা ফল খান। 

২। কাঁচা দুধ

কাঁচা দুধকে কোনভাবেই স্বাস্থ্যকর বলা চলেনা এমনকি গরুর মালিক যদি গরুর খুব ভালভাবে যত্ন নিয়ে থাকে তাও। কাঁচা দুধে বিভিন্ন ধরণের ভাইরাস এবং ব্যক্টেরিয়া থাকার সম্ভবনা থাকে যা শুধু ফুটানোর মাধ্যমেই বিনাশ করা সম্ভব।

তাই কোনভাবেই দুধের তৈরি কিছু রান্না করতে গেলে তাতে সরাসরি কাঁচা দুধ মেশাবেন না। শুধু খাওয়ার জন্য হোক বা কোন কিছু রান্না করার জন্য আগে ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ভালভাবে দুধ ফুটিয়ে নিবেন তারপর ব্যবহার করবেন। 

৩। সিদ্ধ মাছ 

সারভিল ইউনিভার্সিটির এক স্প্যানিশ বিজ্ঞানীর গবেষণা থেকে পাওয়া গেছে যে, স্বাদু পানির মাছ সিদ্ধ করলে তার থেকে মাত্র ১৮% জীবননাশ কারি সায়ানো টক্সিন দূর করা যায়। বাকি অংশটুকু সিদ্ধ করার সময় পানির সাথে মিশে যায় এবং মাছের মধ্যে ঢুকে যায়।

সেক্ষেত্রে ভাপে সিদ্ধ করা মাছ রান্না করে খেতে পারেন। যেটা স্টিম পদ্ধতি নামেও পরিচিত। এতে করে ২৬% সায়ানো টক্সিন দূর হয় এবং বাকিটাও অতটা ক্ষতি করতে পারেনা। তবে অবশ্যই সামুদ্রিক মাছ এবং ফিশ স্যুপ খাওয়া থেকে সাবধান থাকবেন। 

৪। প্রসেসড মিট 

আমেরিকান স্টাডি এটা নিশ্চিত করেছে যে, সব ধরণের মাংসজাতীয় পণ্যে নাইট্রেট এবং নাইট্রাইট থাকে, তা যত উন্নতমানের-ই হোক না কেন। আর এর থেকেই হতে পারে ভয়াবহ ক্যান্সার।

১০০ কিলোগ্রাম গরুর মাংসের থেকে ১০০ কিলোগ্রাম সসেজে ৪০০% বেশি লবণ এবং ৫০% বেশি ফ্যাট থাকে। তাহলে আপনি কোনটা বেছে নিবেন? সেটা নিশ্চয় আর আমাদের বলে দেওয়া লাগবেনা। 

৫। অঙ্কুরিত খাবার

অনেকসময়ই দেখা যায় যে অনেক দিন ধরে ঘরে রাখা আলু বা পেঁয়াজ অঙ্কুরিত হয়ে যায়। তবে সেগুলোকে উপেক্ষা করেই আমরা তা কেটে খেয়ে ফেলি। কিন্তু এই অঙ্কুরিত শস্যতে ই-কোলাই এবং স্যালমোনেলার মত ব্যক্টেরিয়া থাকে যেটা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তাই আজ থেকেই এই ধরণের খাবার খাওয়া ছেড়ে দিন। 

৬। যেকোন চিপস

চিপসের মত দুই বা ততোধিক উপাদান দিয়ে তৈরি প্যাকেজিং করা খাবার হতে পারে আপনার শরীরের জন্য হুমকিস্বরূপ। এগুলো তৈরির সময় এতে প্রিজারভেটিভেস হিসাবে বিউটিলেটেড হাইড্রক্সি অ্যানিসল এবং বিউটিল হাইড্রক্সি টলুইন ব্যবহার করা হয়।

আর এগুলো অধিক মাত্রায় শরীরে প্রবেশ করলে তা থেকে আপনার হরমোনের সমস্যা দেখা দিবে। এছাড়াও নিয়মিত এগুলো খেলে তা থেকে ক্যন্সারের টিউমার সৃষ্টি হওয়ার আশংখা থাকে। এর বদলে নিজের হাতের তৈরি করা খাবার জারে করে সংরক্ষণ করে খান। 

তাহলে আজ থেকেই এই খাবারগুলো খাওয়া বন্ধ করে দিন। কারণ এগুলো না খেয়েও আপনি দিব্যি সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে পারবেন।

Categories
Uncategorized

বাসমতী চালের ভাত কতটা স্বাস্থ্যকর?

সাউথ ইন্ডিয়ান খাবারের মধ্যে বাসমতী চালের ভাত খুবই জনপ্রিয়। বিশেষ করে ইন্ডিয়ায় এটি বেশি জনপ্রিয়। সাদা এবং বাদামী এই দুই ধরনের বাসমতী চাল হয়ে থাকে যেটা এর বাদাম ফ্লেভার এবং ভিন্ন স্বাদের জন্য বেশি প্রিয়।

তবে আপনি কি জানেন অন্যান্য চালের তুলনায় এই বাসমতী চালের ভাত আসলে কতটুকু স্বাস্থ্যকর? তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক এটা আসলে কতটা স্বাস্থ্যকর এবং এর পুষ্টি উপাদান সম্পর্কে। 

বাসমতী চালের পুষ্টি উপাদান

বাসমতী চালের আসল পুষ্টিগুণ চালের উপর নির্ভর করে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। তবে প্রতি প্লেটে উচ্চ মাত্রার ক্যালরি এবং কার্বোহাইড্রেটের সাথে কিছু মাইক্রোনিউট্রিইয়েন্টস যেমন- ফোলেট, থায়ামিন এবং সেলেনিয়াম থাকে। 

এক কাপ (১৬৩ গ্রাম) রান্না করা বাসমতী চালে থাকেঃ

ক্যালরি২১০
প্রোটিন৪.৪ গ্রাম
ফ্যাট০.৫ গ্রাম
কার্বোহাইড্রেট৪৫.৬ গ্রাম
ফাইবার০.৭ গ্রাম
সোডিয়াম৩৯৯ মিলিগ্রাম
ফোলেটদৈনিক আহারের ২৪%
থায়ামিনদৈনিক আহারের ২২%
সেলেনিয়ামদৈনিক আহারের ২২%
নিয়াসিনদৈনিক আহারের ১৫%
কপারদৈনিক আহারের ১২%
আয়রনদৈনিক আহারের ১১%
ভিটামিন বি৬দৈনিক আহারের ৯%
জিঙ্কদৈনিক আহারের ৭%
ফসফরাসদৈনিক আহারের ৬%
ম্যাগনেসিয়ামদৈনিক আহারের ৫%
Source: healthline.com

বাসমতী চালের উপকারিতা 

উচ্চ মাত্রার কার্বোহাইড্রেট এবং ক্যালরি থাকা সত্ত্বেও বাসমতী চালের কিছু উপকারিতাও রয়েছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক কি সেগুলোঃ

আর্সেনিকের মাত্রা কম 

আর্সেনিক একটি ভারী ধাতু যেটা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এবং বেশি মাত্রায় গ্রহণের ফলে তা হার্টের রোগ, ডায়াবেটিস, এমনকি ক্যান্সারের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। আর অন্যান্য চালের তুলনায় বাসমতী চালে আর্সেনিকের মাত্রা কম থাকে।

আর এইসব রোগের ঝুঁকি তাদের বেশি থাকে যারা নিয়মিত অন্যান্য চালের ভাত খায়। ক্যালিফোর্নিয়া, ইন্ডিয়া এবং পাকিস্তানের বাসমতী চালের উপর গবেষণা চালিয়ে দেখা গেছে যে, এইসব দেশের বাসমতী চালে আর্সেনিকের মাত্রা অন্যান্য চালের তুলনায় অনেক কম থাকে।

বলে রাখা জরুরি যে, লাল চালে আর্সেনিকের মাত্রা সাদা চালের তুলনায় বেশি থাকে। 

পুষ্টিতে সমৃদ্ধ

সাদা বাসমতী চাল প্রায়সময়ই পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ হয় কারণ প্রসেসিং এর সময় এতে প্রয়োজনীয় কিছু উপাদান যোগ করা হয় যাতে করে তা পুষ্টিগুণ বৃদ্ধি করতে পারে। এতে করে বাসমতী চাল আপানার নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় কিছু ভিটামিন এবং মিনারেলের চাহিদা পূরণ করতে পারে।

এছাড়াও এতে পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়রন, ভিটামিন বি, ফলিক এসিড, থায়ামিন এবং নিয়াসিন থাকে যা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

কিছু খারাপ দিক

সাদা বাসমতী চাল পরিশোধিত শস্যদানা। যার ফলে এতে থাকা কিছু গুরুত্বপুর্ন উপাদান প্রসেসিং এর সময় বাদ পড়ে যায়। অন্যদিকে ব্রাউন বা লাল বাসমতী চালে সেগুলো অক্ষুন্ন থাকে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, বেশি পরিমাণে পরিশোধিত শস্য কণা খেলে তা রক্তের গ্লুকোজের মাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। 

এছাড়াও ২৬০০০ মানুষের (যারা নিয়মিত সাদা চাউলের ভাত খায়) উপর গবেষণা চালিয়ে দেখা গিয়েছে যে, তারা উচ্চ মেটাবলিক সিন্ড্রোমে আক্রান্ত যার অর্থ হল, তাদের হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অত্যধিক মাত্রায় বেশি।

এর প্রধান কারণ লাল চালের তুলনায় সাদা চালে থাকা উচ্চ মাত্রার কার্বোহাইড্রেট এবং কম পরিমাণ ফাইবার। তাই সাদা বাসমতী চালের থেকে ব্রাউন বাসমতী চালের ভাত খাওয়া শ্রেয়।

শেষ কথা

সর্বপরি বাসমতী চাল হচ্ছে সুগন্ধযুক্ত লম্বাটে শস্যদানা যাতে আর্সেনিকের মাত্রা কম এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং মিনারেলও উপস্থিত থাকে। এটা সাদা এবং লাল দুই প্রকারের হয়ে থাকে। তবে যতদূর সম্ভব ব্রাউন বাসমতী চাল খাওয়া উচিত কারণ সাদা বাসমতী চাল পরিশোধিত হওয়ায় তাতে পুষ্টিগুণ অক্ষুণ্ণ থাকেনা, যা শরীরের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আর নিয়মিত বাসমতী চালের ভাত না খাওয়ায় শ্রেয়। 

আপনারা মেইন ডিস হিসাবে কি খান অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।

Categories
Uncategorized

চায়নার মানুষ কেন সবসময় গরম পানি খায়

কল্পনা করুন জুলাইয়ের মাঝামাঝি কোন এক সময়ে আপনি চায়নাতে গিয়েছেন। গরমে সিদ্ধ হয়ে যাওয়ার মত আবহাওয়া আর তখন একটি জিনিসই শুধু আপনার মাথায় আসবে, তা হচ্ছে বরফের মত ঠাণ্ডা এক গ্লাস পানি! কাছাকাছি কোন এক দোকানে গিয়ে আপনি এক গ্লাস পানি চাইলেন এবং দোকানি আপনাকে এতো গরম পানি খেতে দিল যে আপনার জিহ্বা পুড়ে গেল! জি হ্যা, চায়নাতে শীত হোক বা গ্রীষ্মকাল, সবসময়ই গরম পানি খাওয়া হয়। চায়নার সংস্কৃতি ও ইতিহাস ঘাঁটলেই এই রহস্যের সমাধান পাওয়া যায়।

চাইনিজদের গরম পানি খাওয়ার ইতিহাস

সবসময় মনে রাখবেন, কখনোই অতিরিক্ত গরম পানি খাবেন না কারণ তা মুখের ভেতরের কোষ ও লালাগ্রন্থির ক্ষতি করতে পারে। তাই সবসময় কুসুম গরম পানি খাওয়ার অভ্যাস করুন। চলুন এখন জেনে নেওয়া যাক চাইনিজরা আসলে কেন সবসময় গরম পানি খায়।  

চায়নার ঐতিহ্যগত চিকিৎসাশাস্ত্র বিশ্বাস করে যে, মানুষের দেহ- ইন এবং ইয়াং নামে দুইটি উপাদান দ্বারা গঠিত। এবং আপনি তখনই সুস্থ থাকবেন যখন আপনার ইন এবং ইয়াং এর মধ্যে সামঞ্জস্যতা থাকবে। ধরে নেওয়া যাক আপনার ইয়াং খুব শক্তিশালী হয়ে গেল, সেক্ষেত্রে আপনার দেহের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা অনেক বেড়ে যাবে এবং আপনি অসুস্থ হয়ে পড়বেন।

তাই এই অতিরিক্ত ইয়াং বা অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা থেকে মুক্তি পাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর এটা থেকে মুক্তি পাওয়ার সহজ উপায় হচ্ছে গরম জাতীয় পানীয় খাওয়া। এই পানীয়গুলো ইন গোত্রীয় হওয়াই তা ইয়াংকে অতিরিক্ত শক্তিশালী হতে বাধা দেয় এবং শরীরে সামঞ্জস্যতা বজায় থাকে।

চায়নার লোকেরা খ্রিস্টপূর্ব ৪র্থ শতাব্দী থেকে এই পদ্ধতি অবলম্বন করে আসছে। কিন্তু সেই আমলে সবার পক্ষে তেলখড়ি পুড়িয়ে পানি গরম করে খাওয়ার সাধ্য ছিলনা। তাই গরম পানি খাওয়া তখন সংরক্ষণ করে রাখা হত শুধুমাত্র বয়স্ক, অসুস্থ ও গর্ভবতী মহিলাদের জন্য। খাওয়ার মাঝে গরম পানি খাওয়ার আরও একটা কারণ হচ্ছে তা হজম শক্তিকে বৃদ্ধি করে।

গরম পানি খাওয়ার কিছু উপকারিতা

চাইনিজদের গরম পানি খাওয়ার ইতিহাস জানার আগে চলুন জেনে নেওয়া যাক গরম পানি খাওয়ার কিছু উপকারিতা সম্পর্কে। 

১। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে

আপনি কি দীর্ঘদিন ধরে কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগছেন? তাহলে প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে এক গ্লাস কুসুম গরম পানি খাওয়া শুরু করে দিন। এতে করে পেট সহজেই পরিষ্কার হয়ে যাবে। এবং কিছুদিনের মধ্যেই দেখবেন কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে।

২। ওজন নিয়ন্ত্রণ করে

ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে গরম পানি। তবে অন্য কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে শুধু গরম পানি পান করলে কোনভাবেই ওজন কমবে না। তাই পরিপূর্ণ ডায়েট ও ব্যায়ামের পাশাপাশি নিয়মিত গরম পানি পান করলে তা ওজন কমাতে সাহায্য করবে।

এক্ষেত্রে প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে কুসুম গরম পানি এবং লেবুর রস মিশিয়ে পান করলে শরীর অল্প অল্প করে সারাদিন ক্যালোরি পোড়াতে থাকে। এতে করে ওজন কমার পাশাপাশি পেট ফাঁপার সমস্যাও দূর হয়। 

৩। রক্ত চলাচল ঠিক থাকে

ঠাণ্ডা পানি পান করলে পেশী টানটান হয়ে আসে, অন্যদিকে গরম পানি পান করলে পেশীতে রক্ত চলাচল বাড়ে এবং পেশী শিথিল হয়।  জয়েন্টের ব্যথা থেকে শুরু করে পিরিয়ডের ক্র্যাম্প, সব ধরণের ব্যথা কমাতে কাজে আসে গরম পানি। এছাড়া ঘুমাতে যাবার আগে গরম পানি পান করলে শরীর ঝরঝরে এবং ব্যথামুক্ত থাকে।

৪। ঘুমের সমস্যা সমাধান করে

এ যুগের ছেলেমেয়েদের মধ্যে রাতে ভালো ঘুম না হওয়ার সমস্যাটা অনেক বেশি। তবে নিয়মিত গরম পানি পান করলে এই রোগ থেকে মুক্তি মিলবে। গরম পানি পান করলে দেহের তাপমত্রা বেড়ে যায়। ফলে শরীর ও স্নায়ু শান্ত থাকে যা আপনাকে একটি সুনিদ্রা দিতে সাহায্য করে। এছাড়াও এটা মধ্যরাতে ঘুম ভাঙ্গার প্রবণতা কমিয়ে ফেলে।

তাহলে এখন বলুন তো প্রতিদিন আপনি আসলে কতটুকু পানি পান করেন? আর গরম পানি বেশি খান নাকি ঠাণ্ডা পানি? অবশ্যই কমেন্ট করে জানান। 

আশা করি পোস্টটি আপনাদের ভালো লেগেছে। স্বাস্থ্য সম্পর্কিত যেকোনো তথ্য পেতে আমাদের ফেজবুক পেজে লাইক দিয়ে সাথেই থাকুন।

Categories
Uncategorized

কফি খাওয়া ছেড়ে দিলে শরীরে কি ঘটবে

সত্যিকারের কফি লাভারদের ২ ধরনের ব্যক্তিত্ব থাকে – প্রথমত তারা কফির কাপে চুমুক দেওয়ার আগে একরকম থাকে এবং কফি খাওয়ার পর একরকম হয়ে যায়। এটার থেকেই আপনি কিছুটা হলেও ধারণা পাবেন যে ক্যাফেইন কতখানি আসক্তির ব্যাপার হতে পারে। 

তবে এটা হয়ত অনেকেরই জানা যে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর এক কাপ কফি খাওয়ার অভ্যাস ছাড়াটা কতটা কষ্টের! তাই হেলথ বার্তা টিম ঠিক করেছে এটা আপনাদের জানানো আবশ্যক যে, আপনি যদি পুরোপুরি কফি খাওয়া ছেড়ে দেন তাহলে আপনার শরীরে কোন ধরনের পরিবর্তন ঘটতে পারে এবং তখন আপনার কি করা উচিত। 

আপনার ওজনে পরিবর্তন আসবে 

অপ্রত্যাশিতভাবে শরীরের ওজন পরিবর্তন হলে যে কারও জন্য তা চাপ তৈরি করতে পারে এবং কফি ছাড়ার কারণে মাঝে মাঝে এটি হয়ে থাকে। ক্যাফেইন বিপাকের বুস্টার হিসাবে কাজ করে যার অর্থ আপনার শরীর আরও দক্ষতার সাথে ক্যালোরি বার্ন করতে পারে। আপনি যখন কফি পান করা বন্ধ করেন, তখন ক্যালোরি বার্ন করতে ঐ পরিমাণ ক্যাফেইন শরীর আর সরবরাহ করতে পারবেনা এবং বাস্তবে আপনার ওজন কিছুটা বেড়ে যাবে।

অন্যদিকে আপনি যদি দিনে ৩ বার ফ্রেপ্পাচিনো খাওয়ার অভ্যাস ছেড়ে দেন তাহলে আপনার ওজন অবিশ্বাস্যভাবে কমে যাবে। কারণ শরীর আর সেই পরিমাণ ক্যালোরি পাবেনা। 

মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হবে

কফি মানুষকে আরও সজাগ করে তোলে কারণ এটি ডোপামিন এবং অ্যাড্রেনালাইন নিঃসরণকে উদ্দীপিত করে, যা মস্তিষ্কের ক্রিয়াকলাপ এবং রক্তচাপ বাড়ায়। এর অর্থ হল একবার আপনি কফি পান করা বন্ধ করে দিলে আপনি কাজ বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্রিয়ায় মনোনিবেশ করতে অসুবিধার সম্মুখীন হবেন কারণ আপনার মস্তিষ্ক যেভাবে ব্যবহার করা হত তেমনভাবে আর উদ্দীপিত হবে না।

মাঝে মাঝে কেঁপে উঠতে পারেন 

এটি শুনলে গুরুতর মনে হতে পারে তবে এটি নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত হওয়ার কিছু নয়। ক্যাফেইন কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের জন্য উদ্দীপনার একটি শক্তিশালী উৎস। একবার আপনি এটি ছেড়ে দিলে, সেই উদ্দীপক প্রভাবটি কেটে যাওয়ার কারণে আপনি কাঁপুনি অনুভব করতে পারেন। কিছু লোক নিয়মিত ক্যাফেইন ওভারডেজের কারণে মাঝে মাঝে হাত কাঁপা অনুভব করেন।

উদ্বিগ্নতা বেড়ে যেতে পারে 

এমনকি যদি আপনি উদ্বিগ্ন ব্যক্তি না-ও হন তবে আপনার ক্যাফেইন প্রত্যাহার কার্যকর হওয়ার সাথে সাথে আপনি অবশ্যই কিছুটা উদ্বেগের মুখোমুখি হবেন। উদ্বেগ তাদের ক্ষেত্রে অনেক বেশি বেড়ে যেতে পারে যারা প্রকৃত কফি লাভার ছিলেন কিন্তু যেকোন কারনে প্রিয় পানীয় খাওয়া ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অপর্যাপ্ত ক্যাফেইন সরবরাহের কারণে মস্তিষ্ক রাসায়নিক ভারসাম্যহীনতায় ভোগে যার ফলে এটি ঘটে থাকে।

ঘন ঘন মাথা ব্যথা হতে পারে 

দুর্ভাগ্যক্রমে, মাথাব্যথা হল ক্যাফেইনের ঘাটতি হওয়ার সবচেয়ে সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া। এটি আপনার রক্তনালীগুলি খোলার কারণে ঘটে, ফলে মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়। একবার শরীর বর্ধিত রক্ত প্রবাহের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারলে মাথাব্যথা অবশেষে ম্লান হয়ে যায়।

আমরা জানি যে এই প্রক্রিয়ায় আপনি কেমন অনুভব করতে পারেন। এবং মাথা ব্যথার সাথে সম্পর্কিত অস্বস্তি আপনার প্রতিদিনের ক্রিয়াকলাপগুলিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

আপনি দুর্বলতা অনুভব করবেন 

কফিতে আসক্ত হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হল এটি আমাদের শক্তি বৃদ্ধি করে। দুর্ভাগ্যক্রমে, প্রভাবটি কেবল গড়ে ৫ ঘন্টা স্থায়ী হয়, এ কারণেই আমাদের মধ্যে অনেকে প্রতিদিন ১ কাপের বেশি কফি পান করে, এই আশায় যে সারাদিন জোরদার এবং সফলভাবে কাজে মনোনিবেশ করা যাবে।

তবে কফি পান করা বন্ধ করার পরে এটি আপনার শরীরের উপর বিপরীত প্রভাব ফেলবে। বেশিরভাগ ক্যাফেইন আসক্ত ব্যক্তিরা কফি পান করা ছেড়ে দেওয়ার সাথে সাথেই প্রচন্ড ক্লান্তি অনুভব করতে শুরু করেন।

কীভাবে এই নেতিবাচক প্রভাবগুলো হ্রাস করতে পারবেন? 

আপনি দেখতে পাচ্ছেন যে, আমরা যখন আমাদের দেহকে সকালের এক কাপ কফি এবং বিকালের কফি খাওয়া থেকে বঞ্চিত করি তখন আমাদের দেহ বিভিন্নভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়। সুসংবাদটি হল এমন কিছু উপায় রয়েছে যার মাধ্যমে আমরা এই প্রতিক্রিয়াগুলো প্রশমিত করতে বা এমনকি প্রতিরোধ করতে পারি।

তাই আপনি যদি নিজের থেকেই কফি পান করা ছেড়ে দিতে চান এবং সেই সিদ্ধান্তের পরে শরীরের বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া মোকাবেলা করতে চান তাহলে কি কি করতে হবে এক নজরে দেখে নিন।

ধীরে ধীরে কফি খাওয়া ছাড়ুন 

ক্যাফেইনের নেশা ছাড়ার এটা সবচেয়ে ভালো উপায়। আপনি যদি সত্যিকারের একজন কফি লাভার হয়ে থাকেন আর দিনে ৩ কাপ কফি খেয়ে থাকেন তাহলে দিনে ৩ কাপের পরিবর্তে শুধু সকালে খান এক সপ্তাহ। তারপরের সপ্তাহে গড়ে মিলে ৩ কাপ খান।

এভাবে ধীরে ধীরে খাওয়া কমাতে থাকুন। তাহলে শরীর ক্যাফেইন গ্রহণের মাত্রার সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিবে এবং যখন আপনি পুরোপুরি কফি খাওয়া ছেড়ে দিবেন তখন আর কোন সমস্যা অনুভব করবেন না। 

হাইড্রেটেড থাকুন এবং চা পান করুন 

আপনি যখন এক্স-কফি লাভার হয়ে যান তখন নিজেকে হাইড্রেটেড রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ন হয়ে পড়ে। তাই প্রতি ঘন্টায় এক গ্লাস পানি পান করুন। এবং কফির পরিবর্তে সকালে কাপে চুমুক দেওয়ার অভ্যাস বজায় রাখতে পছন্দের কোন চা বেঁছে নিন। 

ব্যায়াম করুন এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন 

স্ট্রেস থেকে দূরে থাকতে এবং এনার্জি লেভেল ঠিক রাখতে খাবার তালিকায় কোন ক্যাফেইন রাখা যাবেনা। আর সাথে প্রতিদিন ১০-১৫ মিনিট ব্যায়াম এবং ওয়েট লিফটিং প্রশিক্ষণ নিতে পারেন।

এগুলো রক্তসঞ্চালনের জন্য খুবই ভাল এবং আপনার শক্তি বাড়িয়ে তুলতেও সাহায্য করবে। সক্রিয় থাকার কারনে আপনার মনোযোগ বেড়ে যাবে এবং কফির কথা মনেও পড়বেনা।

খাদ্য তালিকা পরিবর্তন করুন 

ক্যাফেই প্রত্যাহারের সাথে মোকাবিলা করার সময় আপনার একটি বিষয় বিবেচনা করা উচিত যা হল আরও উচ্চ ফাইবারযুক্ত খাবার আপনার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখা। সেক্ষেত্রে বেশি বেশি ফল এবং শাকসবজী খাওয়া উচিত, কারণ এগুলি ফাইবারের সেরা প্রাকৃতিক উৎসগুলোর মধ্যে একটি। এছাড়াও এগুলো আপনার শরীরে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস সরবরাহ করবে। 

তাহলে বুঝতেই পারছেন, কফি খাওয়া ছেড়ে দিলে সেটা শরীরের জন্য কতখানি উপকারী। তবে আপনি যদি কফি খাওয়া ছেড়ে দিয়ে থাকেন বা খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে থাকেন তাহলে কীভাবে করেছেন তার অভিজ্ঞতা অবশ্যই আমাদের সাথে শেয়ার করুন।

আশা করি পোস্টটি আপনাদের ভালো লেগেছে। স্বাস্থ্য সম্পর্কিত যেকোনো তথ্য পেতে আমাদের ফেজবুক পেজে লাইক দিয়ে সাথেই থাকুন।

Categories
Uncategorized

যে ১০টি খাদ্য আপনার বাচ্চার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর!

আপনার হয়ত অফিসের জন্য দেরি হয়ে যাচ্ছে এদিকে আপনার বাচ্চাদেরও হয়ত তাদের স্কুলের জন্য দেরি হয়ে যাচ্ছে। এমতবস্থায় আপনাকে বাধ্য হয়ে তাড়াতাড়ি কিছু একটা তৈরি করতে হয় সকালের নাস্তার জন্য। আর আপনি হয়ত দুধ এবং সিরিয়াল মিশিয়ে আপনার বাচ্চাকে খেতে দিলেন। কি, এই ব্যপারটা নিশ্চয় খুব পরিচিত লাগছে তাইনা? 

তবে আপনি কি চান যে ছোটবেলা থেকেই আপনার বাচ্চাদের মধ্যে এমন কিছু অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে উঠুক যেটা তারা বড় হয়েও বজায় রাখবে? কিন্তু বাস্তবিক অর্থে ব্যপারটা খুবই কঠিন হয়ে দাড়ায় যখন মা-বাবা দুইজনই বাইরে কাজ করে থাকেন। তবে ছোটবেলা থেকেই বাচ্চাদের জানানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে কোন খাবারগুলো আসলে তাদের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো এবং কোনগুলো ক্ষতিকর। 

তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক কোন খাবারগুলো আপনার বাচ্চাদের জন্য ক্ষতিকর এবং সেগুলোর পুষ্টিকর বিকল্প কি হতে পারে।

বাচ্চার জন্য ক্ষতিকর খাদ্য তালিকা

১। জুস 

প্রথমে আসি জুসের কথায়। এই ফলের রসের পানীয়টা অধিকাংশ বাচ্চাদের প্রিয়। তবে জুস বানানোর সময় যে পরিমাণ চিনি এতে মেশানো হয় তা তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের রক্তে মিশে যায় যা কার্বোহাইড্রেট্রের মেটাবোলিজমের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তাই আমেরিকান একাডেমি অব পিডিয়াট্রিক্স জুসের বদলে বাচ্চাদের শুধু ফল খাওয়ানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে চিনি এবং পানি ছাড়া ফলের জুস করে খাওয়াতে পারেন এবং বাজার থেকে জুস কিনে খাওয়ানোর কথা তো ভুলেই যান! 

২। দই 

আমরা সবাই জানি দই স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। কিন্তু বাচ্চাদের দই খাওয়ানোর আগে দইয়ের গায়ে জড়ানো লেবেল টা পড়ুন এবং দেখুন যে এটা আসলে কি কি উপকরণ দিয়ে বানানো। আর সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে কখনোই ফ্রিজে রাখা দই ব্যাতিত খোলা সেলফ-এ রাখা দই কিনবেন না কারণ সেটা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। সবসময় চেষ্টা করবেন চিনি ছাড়া প্রাকৃতিক দই কিনে খাওয়ানোর যেটা অবশ্য বাজারে পাওয়া মুশকিল। তাই সবথেকে ভালো হয় যদি আপনি বাড়ি দই বানিয়ে খাওয়ান। কারণ চিনিযুক্ত দই খেলে বাচ্চাদের ওজন বেড়ে যাবে এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিবে। 

৩। কর্ণফ্লেক্স এবং সিরিয়াল

কর্ণফ্লেক্স এবং যেকোনো ধরণের সিরিয়াল বিজ্ঞাপনে দেখতে খুব ভালো লাগে এবং খুবই স্বাস্থ্যকর মনে হয়। আর বিজ্ঞাপনদাতা সবসময় দাবি করে থাকেন যে এগুলো অনেক পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এগুলো বিন্দু পরিমাণেও ভিটামিন ও মিনারেলস তো বহন করেই না বরং চিনিতে ভরপুর। প্রোডাকশনের সময় ভুট্টা, গম ও ওটসের সব গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যায় এবং শুধু কার্বোহাইড্রেট অক্ষত থাকে। যার ফলে এটা কোনভাবেই বাচ্চাদের ক্ষুধা মেটাতে পারেনা এবং এক বাটি কর্ণফ্লেক্স খাওয়ার কিছুক্ষণ পরে আবার ক্ষুধা পেয়ে যায়। তাই এর পরিবর্তে ওটমিল খাওয়াতে পারেন এবং স্বাদ বাড়িয়ে তুলতে সাথে কিছু ফল ও বাদামও যোগ করতে পারেন। 

৪। আঙ্গুর

যদিও আঙ্গুর অনেক ধরণের ভিটামিন ও মিনারেলস-এ ভরপুর তবুও বাচ্চাদের আঙ্গুর খেতে দেওয়া ঠিক নয়। কারণ এটা স্লিপারি এবং যেকোনো সময় বাচ্চাদের গলায় আটকে যেতে পারে। আর বাচ্চাদের পাকস্থলীর জন্য আঙ্গুর হজম করা অনেক কঠিন হয়ে যায়। তাই  আঙ্গুরের পরিবর্তে বেশি বেশি কলা খাওয়াতে পারেন। 

৫।  কোক এবং মিল্কশেক

যদি আপনার বাচ্চার জন্য কোক এবং মিল্কশেকের মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিতে বলা হয় তাহলে আপনি কোনটি বেছে নিবেন? নিশ্চয় মিল্কশেক? কিন্তু এই দুইটিই আপনার বাচ্চার জন্য ক্ষতিকর। কারণ এটা প্রচুর পরিমাণে চিনি এবং ফ্যাট বহন করে। আধুনিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, নিয়মিত এরকম ফ্যাটি ড্রিংক খেতে থাকলে হৃদরোগের আশংকা বাড়তে থাকে, যেটা শুধু বাচ্চাদের জন্য নয় বড়দের জন্যও প্রযোজ্য। 

৬। ফাস্টফুড 

বড়দের প্রিয় কিন্তু অস্বাস্থ্যকর খাবার ফাস্টফুড যেমন ফেঞ্ছ ফ্রাই, পিজ্জা এবং বার্গারের সাথে আপনার বাচ্চাকে ভুলেও পরিচয় করাবেন না! এগুলো ঠিক আছে তাদের জন্য, যারা যথেষ্ট পরিশ্রম করে তবে আপনার বাচ্চার জন্য নয়। কারণ এগুলো লবণ, চিনি এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাটে পরিপূর্ণ। আর এগুলো যদি নিয়মিত খেতে থাকা হয় তাহলে স্থুলতাসহ উচ্চ কোলেস্টেরল এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে থাকে। 

৭। কফি 

আর আপনি হয়ত ইতোমধ্যেই জানেন যে বাচ্চাদের জন্য কফি ক্ষতিকর। কিন্তু আপনার মনে প্রশ্নে আসতে পারে যে আসলে কেন ক্ষতিকর? বিশ্বব্যাপী নাম করা স্বাস্থ্য বিষয়ক ম্যাগাজিন হেলথ লাইনের লেখক টবি অ্যামিডর অনেকগুলো কারণের মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক কারণগুলো প্রকাশ করেছেন। কফিতে থাকা ক্যাফেইন বাচ্চাদের শরীরে ক্যালসিয়াম শুষে নিতে বাধা দেয় যেটা বাচ্চাদের হাড়কে দুর্বল করে দেয়। এবং কফিতে অ্যাড করা চিনি স্থূলতা ও ক্যাভিটিসের কারণ হতে পারে। 

৮। প্রোসেসড মিট

প্রোসেসড মিট থেকে বাচ্চাদের দূরে রাখুন যেমন সসেজ, হট ডগ, বেকন ইত্যাদি। কারণ এগুলো সোডিয়াম এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাটে পরিপূর্ণ। যখন প্রতি নিয়ত এগুলো খাওয়া হয় এবং অনেক বেশি পরিমাণে, তখন তা হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল এবং উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। তাই প্রোসেসড মিটের পরিবর্তে সাধারণ ভাবে রান্না করা মাংস ব্যবহার করে হট ডগ বানিয়ে খাওয়ান। এতে আপনার বাচ্চার মনও ভরবে আবার স্বাস্থ্যের কোন ক্ষতিও হবেনা। 

৯। চিকেন নাগেট

অধিকাংশ বাচ্চাদেরই চিকেন নাগেট একটি অতি প্রিয় খাবার। কারণ সেগুলো খেতে অনেক সুস্বাদু এবং বিভিন্ন শেপে পাওয়া যায়। কিন্তু এর অতিরঞ্জিত প্যাকেজিং দেখে মোটেই বিভ্রান্ত হবেন না। কারণ এটা প্রিজারভেটিভ, লবণ, ক্যালরি এবং চিনিতে পরিপূর্ণ। এগুলোর পরিবর্তে বাসায় চিকেন নাগেট বানিয়ে ফেলুন অথবা চিকেন ব্রেস্ট খুব ভালভাবে বেক করে খাওয়ান। 

১০। টমেটো কেচাপ 

কেচাপ বাড়িতে আনা বন্ধ করুন। কারণ কেচাপ দিয়ে খাবার খেতে সুস্বাদু লাগলেও এটা শুধু চিনি, কর্ণ সিরাপ, ফুড কালার এবং অতিরিক্ত ফ্যাট বহন করে। তাই টমেটো দিয়ে বাড়িতেই বানিয়ে ফেলুন মজাদার কেচাপ।

Categories
Uncategorized

জেনে নিন, প্রতিদিন ১টি করে টমেটো খেলে কি হয়?

টমেটো এমন একটি খাবার যেটা দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ এলাকায় এক সময় বিষাক্ত মনে করা হতো এবং আজও যাকে আমরা সবজি ভেবে ভুল করি, কারণ আসলে সেটা একটা ফল। তবে জানেন কি প্রতিদিন একটি করে টমেটো খেলে আমাদের শরীরের কি হবে? চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক।

টমেটো খাওয়ার উপকারিতা

১। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ

টমেটোতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে। অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের কথা আমরা প্রায় সময়ই শুনে থাকি, কিন্তু জানেন এটা কেন এতো গুরুত্বপূর্ণ? আসলে এটা দেহে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে, রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, ধমনী সুরক্ষিত রাখে এবং হার্টকে সুস্থ রাখে। এছাড়াও টমেটোতে লাইকোপেন নামে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে যার কারণেই টমেটো লাল রঙের হয়ে থাকে। 

২। দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে

টমেটো আপনার দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে। মনে করেন, আপনার শরীরে ভিটামিন এ-এর ঘাটতি দেখা দিয়েছে তাহলে চোখের জন্য এটা মোটেও খুশির সংবাদ নয়। কারণ চোখ তখন সঠিকভাবে আলো সনাক্ত করে আপনার ব্রেনে সিগন্যাল পাঠাতে পারেনা। তবে সুসংবাদ হচ্ছে, টমেটোতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ থাকে।

এছাড়াও এতে ক্যারোটিনয়েডস থাকে যা চোখে ক্ষতিকর আলো ঢুকতে বাঁধা দেয় এবং আপনার চোখের টিস্যুগুলোকে সুরক্ষিত রাখে। 

৩। ত্বক উজ্জ্বল করে 

উজ্জ্বল ত্বক পেতে টমেটোর কোন বিকল্প নেই। অ্যান্টি-এজিং প্রোডাক্ট কেনার সময় কোলাজেন শব্দের নাম হয়ত সবাই শুনেছেন। এটা এমন একটা প্রোটিন যেটা আপনার ত্বককে কোমল ও প্রাণবন্ত রাখতে সাহায্য করে। তবে এই প্রোটিন একা একা কিছু করতে পারেনা, এর সঠিকভাবে কাজ করতে ভিটামিন সি এর প্রয়োজন হয়। আর ভিটামিন সি আপনার ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি এবং ফ্রি-রেডিকেল থেকে রক্ষা করে।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে, প্রতিদিন এই ফলটি খেলে তা সানবার্ন, ব্রণ এবং ত্বকের অন্যান্য দাগ দূর করতে সাহায্য করে। আপনি যদি ত্বকের কোলাজেন লেভেল বাড়ানোর জন্য প্রতিদিনের চাহিদা অনুযায়ী ভিটামিন সি খুঁজে থাকেন, তাহলে একটি টমেটো থেকেই তার ৩০% পেয়ে যাবেন!!  

৪। রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

আপনি হয়ত জেনে থাকবেন যে, অসুস্থ হলে বেশি বেশি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খেতে হয়। কিন্তু আপনি যদি প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন সি খান তাহলে ঘন ঘন অসুস্থ হওয়ার সম্ভবনা কমে যায়। কারণ ভিটামিন সি ব্যাক্টেরিয়া এবং ভাইরাল ইনফেকশনের বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং আপনার রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এতে মনে হয় আপনার একটু অসুবিধা হয়ে যাবে, কারণ আপনি তখন আর ঘন ঘন স্কুল কিংবা অফিস কামায় দিতে পারবেন না!! তবে যাই হোক, এটা সত্য যে আপনি সবসময় তরতাজা ও চনমনে থাকবেন! 

৫। শক্তি বৃদ্ধি করে 

টমেটোতে প্রচুর পরিমাণে ফলিক এসিড থাকে যেটা আসলে এক প্রকার ভিটামিন বি যা অবসাদ দূর করতে ওস্তাদ! যার ফলে আপনার এনার্জি লেভেল বেড়ে যাবে এবং আপনি সারাদিন অ্যাক্টিভ থাকতে পারবেন। শুধু এই নয়, গবেষকরা এটা প্রমাণ করেছে যে, যারা নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণে টমেটো খায় তাদের রক্তে ফলিক এসিডের মাত্রা বেশি থাকে যা তাদেরকে ডিপ্রেশন থেকে দূরে রাখে। 

৬।  চুল সুন্দর রাখে

টমেটো আপনার চুল সুন্দর রাখতে সাহায্য করবে। বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের পাশাপাশি এটা আপনাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন কে সরবরাহ করে থাকে। এটা মনে করা হয় যে, চুলের জন্য টমেটো ম্যাজিকের মত কাজ করে। কারণ এটা আসলে চুলকে গোঁড়া থেকে মজবুত করে এবং দ্রুত লম্বা হতে সাহায্য করে।   

৭। হাড় মজবুত করে 

টমেটোতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং ক্যালসিয়াম থাকে যা হাড়কে মজবুত ও শক্তিশালী করে। এতে থাকা লাইকোপেন, অস্টেওপোরেসিস প্রতিরোধ করে যেটা একটা মারাত্মক রোগ। কারণ এই রোগে আক্রান্ত হলে হাড়ে ছিদ্র হওয়া ও হাড় ভেঙ্গে যাওয়ার আশংকা থাকে। 

৮। স্ট্রোকের সম্ভবনা কমায়

মেডিটেরানিয়ান ডায়েট যারা ফলো করেন তাদের মধ্যে হার্টের রোগ হওয়ার সম্ভবনা অনেক কম থাকে। কারণ এই ডায়েটে টমেটো এবং অলিভ অয়েলের পরিমাণ বেশি থাকে। টমেটো জুসে থাকা পুষ্টি উপাদান রক্ত জমাট বাঁধতে দেয়না। এছাড়াও হার্ভার্ডের এক গবেষণায় জানা গেছে যে, যারা বেশি বেশি টমেটো খান তাদের স্ট্রোকের সম্ভবনা অনেক কম থাকে। 

৯। ওজন কমাতে সাহায্য করে

টমেটো ওজন কমাতে সাহায্য করে। যদি আপনি ওজন কমানোর কথা চিন্তা করে টমেটো নাও খেয়ে থাকেন তবুও আপনার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় এটা থাকলে আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এতে অনেক কম পরিমাণে ক্যালরি থাকায় তা শরীরে ফ্যাট জমতে দেয়না। এছাড়া এটা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্যও অনেক উপকারী।

১০। মস্তিকের শক্তি বাড়ায় 

টমেটোতে এমন কিছু পুষ্টি উপাদান থাকে যা মস্তিককে শক্তিশালী করে তোলে। তাই আপনি যদি প্রায়শই ভুলে যাওয়ার সমস্যাই ভুগে থাকেন এবং কোন কাজে ঠিকভাবে মনোযোগ দিতে না পারেন তাহলে আপনার জন্য প্রতিদিন টমেটো খাওয়া বাধ্যতামূলক!  

আশা করি পোস্টটি আপনাদের ভালো লেগেছে। স্বাস্থ্য সম্পর্কিত যেকোনো তথ্য পেতে আমাদের ফেজবুক পেজে লাইক দিয়ে সাথেই থাকুন।

Categories
Uncategorized

কোমরের ব্যথা দূর করার জাদুকরী উপায়

কোমরের ব্যথা কমবেশি সব মানুষের হয়। এই ব্যথা যুবক থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সেই হতে পারে। গবেষণায় বলা হয়, বিশ্বের ৭০ থেকে ৮০ ভাগ প্রাপ্তবয়স্ক লোক জীবনে কখনও না কখনও এ ব্যথায় আক্রান্ত হয়। শুরু থেকে কোমরের ব্যথা নির্মূল করতে না পারলে রোগীকে ভবিষ্যতে বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।

তাই চলুন জেনে নেওয়া যাক কীভাবে এই কোমরের ব্যথা প্রতিরোধ করা যায় এবং এর কিছু ঘরোয়া সমাধান সম্পর্কে। 

বরফের সেঁক দিন

কোমরের ব্যথায় বরফের সেঁক ভীষণ কাজ করে। তবে মনে রাখা জরুরি যে এটা কোন স্থায়ী সমাধান নয়। বরফের সেঁক দ্বারা সাময়িক ব্যথা কমানো সম্ভব। এর জন্য একটি পরিষ্কার তোয়ালে নিয়ে তাতে কয়েক টুকরো বরফ পেঁচিয়ে ব্যথার স্থানে ১৫-২০ মিনিট সেঁক দিতে হবে। আইস ব্যাগ ব্যবহার করেও সেঁক দিতে পারেন। এভাবে দিনে কয়েকবার দিন। তবে বরফের সেঁক ছাড়াও অনেকের গরম পানিতে তোয়ালে ভিজিয়ে সেঁক দিলেও কাজ হয়। 

বসার ভঙ্গি পরিবর্তন করুন 

Right Sitting Position

মানুষের বসার ভঙ্গি অনেক সময় তার কোমর ব্যথার জন্য দায়ী হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় চেয়ারে বসলে মানুষ তার স্বাভাবিক গঠন ধরে রাখতে পারেনা এবং কিছুটা কোমর ভাজ করে এলিয়ে বসে যেটা কোমর ব্যথার একটা বড় কারণ।

তাই চেয়ারে বসার সময় প্রথমে কোমর, তারপর বুক এবং সব শেষে কাঁধ ও ঘাড় সোজা করে বসুন। এই ভঙ্গিতে সহজ এবং আরামদায়কভাবে বসার চেষ্টা করুন। এটা শুধু কোমর ব্যথা নয়, বার্ধ্যকের কুঁজিয়ে যাওয়া সমস্যাও প্রতিরোধ করে। এইভাবে অফিসে কাজ, পড়া এবং হাঁটার অভ্যাস করুন।

বিশ্রামের পরিমাণ কমিয়ে দিন

অনেকসময় দীর্ঘক্ষন ঘুম এবং অতিরিক্ত শুয়ে বসে থাকার কারনেও কোমর ব্যথা হতে পারে। তাই প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ ঘুমান এবং যথাসম্ভব কাজের ভেতর থাকার চেষ্টা করুন। এতে করে আপনার কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং কোমর ব্যথা থেকেও দূরে থাকতে পারবেন। আর কখনো ঘুম থেকে উঠে কোমরে ব্যথা অনুভব করলে সাথে সাথে উঠেই কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করুন। এছাড়াও পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশ্রাম নিন, বেশিও না আবার কমও না। 

নিয়মিত ব্যায়াম করুন

প্রতিদিন অল্প করেও হলেও ব্যায়াম করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। নিয়মিত ব্যায়াম করলে পেশি শক্তিশালী হয়। এছাড়াও অনেক সময় পেশিতে টান লাগার ফলে কোমর ব্যথা হতে পারে। তাই প্রতিদিন ব্যায়াম করলে পেশি সচল থাকে, দেহের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায় এবং টান লাগার কোন সম্ভাবনা থাকেনা। এজন্য প্রতিদিন ১৫-২০ মিনিট ব্যায়াম করুন।

যেসব খাবার কোমরের ব্যথা দূর করতে সাহায্য করে

আদা

আদাতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে। এই পটাশিয়ামের অভাবের ফলে নার্ভের সমস্যা দেখা দেয়। প্রতিদিন নিয়মিত আদা খেলে কোমরের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।

হলুদ

হলুদের গুনের কথা আমরা কমবেশি সবাই জানি। ত্বকের ক্ষেত্রে হলুদ মিশ্রিত দুধ যেমন উপকারী ঠিক তেমনি কোমরের ব্যথা দূর করতেও গুরুত্বপুর্ন ভূমিকা পালন করে। তাই আপনি যদি কোমর ব্যথায় ভুগে থাকেন তাহলে আজ থেকেই নিয়মিত রাতে হলুদ মিশ্রিত দুধ খাওয়ার চেষ্টা করুন। 

মেথি বীজ

মেথির নানাবিধ গুনের কথা সকলেরই জানা। কিন্তু কোমর ব্যথা দূর করতে এর বীজের কার্যকারিতার কথা সবাই জানেনা। তাই মেথি বীজের গুড়ো, দুধের সঙ্গে মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন। নিয়মিত ব্যথার জায়গায় এই মিশ্রণ লাগালে উপকার পাবেন।

লেবুর শরবত

লেবুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে। ভিটামিন সি যন্ত্রণা উপশমে খুবই কার্যকারী। তবে লেবুর শরবতে চিনি দেওয়া যাবেনা। 

অ্যালোভেরা

প্রতিদিন নিয়ম করে অ্যালোভেরার জুস খেলেও কোমরের ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন

পেইনকিলার খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে মোটেই ভালো নয়। এর চেয়ে কোমরে ব্যথানাশক ক্রিম অথবা মলম ম্যাসাজ করতে পারেন যেটা বেশ কার্যকরও বটে। তবে যথাসম্ভব ব্যথানাশক স্প্রে-এর ব্যবহার এড়িয়ে চলুন। এটি দ্রুত ব্যথা হ্রাস করে ঠিকই কিন্তু এটা কোন স্থায়ী সমাধান নয়।

এছাড়াও ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেশিয়াম জাতীয় খাদ্য যেমন – প্রতিদিন নিয়ম করে দুধ, ঘি, চিজ, ফল, শাকসবজি, বাদাম ইত্যাদি খেলে কোমরের ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

আশা করি পোস্টটি আপনাদের ভালো লেগেছে। স্বাস্থ্য সম্পর্কিত যেকোনো তথ্য পেতে আমাদের ফেজবুক পেজে লাইক দিয়ে সাথেই থাকুন।

Categories
Uncategorized

৫টি খাবার যা অস্বাস্থ্যকর মনে হলেও শরীরের জন্য উপকারী!

আপনি হয়ত স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করতে চাচ্ছেন কিন্তু আপনার চোখ বারবারই চকলেট আর পাস্তার দিকে যাচ্ছে, যেগুলো আপনার ডায়েটের অন্তর্ভুক্ত নয়! কিন্তু যে খাবারগুলো সারাজীবন জেনে আসছেন অস্বাস্থ্যকর সেগুলোতেই যদি স্বাস্থ্যকর কিছু লুকিয়ে থাকে তাহলে কেমন হয়? হ্যা, ঠিক শুনেছেন!

তবে চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন কয়েকটি খাবারের কথা যেগুলো অস্বাস্থ্যকর হওয়া সত্ত্বেও আপনার শরীরের জন্য খুবই উপকারী।

১। ক্যান্ড ভেজিটেবলস (Canned Vegetables)

ক্যান্ড ভেজিটেবলস

প্রথমেই আসি ক্যান্ড ভেজিটেবলসের কথায়। এগুলো খুবই সহজলভ্য এবং এগুলো খেয়ে খুব সহজেই আপনি প্রতিদিনকার শাকসবজির চাহিদা মিটিয়ে ফেলতে পারেন। কিন্তু সেই জন্মলগ্ন থেকেই হয়ত শুনে আসছেন যে কৌটাজাত করা সবজি স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয় এবং এর পরিবর্তে তাজা শাকসবজি খেতে হবে, তাই না? কারণ ওগুলোতে নাকি কোন পুষ্টিগুণই থাকেনা। কিন্তু এমন কিছু কিছু কৌটাজাত সবজি আছে যেগুলো আপনাকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি এবং ভিটামিন সরবরাহ করতে পারে।

২০১৪ সালে আমেরিকান জার্নাল অব মেডিসিনের একটা গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, ক্যান্ড ভেজিটেবলস তাজা শাকসবজির মতই পুষ্টিকর। তবে ক্ষতিকর সেগুলো যাতে লবণ এবং অন্যান্য জিনিস মেশানো থাকে। তাই স্বাস্থ্যকর কৌটাজাত সবজি বেছে নিতে খেয়াল রাখুন যেন এতে সোডিয়াম এবং লবণ অ্যাড করা না থাকে।

২। ডার্ক চকলেট

চকলেট এমন একটা জিনিস যেটা দেখে ছোট বড় সবারই লোভ লাগে। কিন্তু সেই ছোটবেলা থেকেই হয়ত শুনে আসছেন যে চকলেট খাওয়া যাবেনা দাঁতে পোকা লাগবে!

তবে অনেকেই হয়ত এখনো জানেন না যে, চকলেট আপনার ব্রেইন, হার্ট এবং মন ভালো রাখতে কতটা কার্যকরী। তাই বলে ভেবে বসবেন না যে ১০ টাকার চকলেট খেলেই আপনার বুদ্ধি খুলে যাবে! এতে বরং আরও উল্টোটা হবে। ডার্ক চকলেট অথবা এমন কোন চকলেট যাতে চিনির পরিমাণ কম, সেটাই আপনার জন্য সবথেকে উপকারী।

২০১০ সালে অস্ট্রেলিয়ার সুইসবার্ন ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, চকলেট আপনার রক্তপ্রবাহ ঠিক রাখে কারণ কোকোয়াতে থাকা পলিফেনল রক্তে কোলেস্টেরলের লেভেল নিয়ন্ত্রণে রাখে। তাই এখন থেকে চিনিতে পরিপূর্ণ চকলেট বারের পরিবর্তে ডার্ক চকলেট খাওয়া শুরু করুন।

৩। স্মুদি অথবা মিল্ক শেক

মিল্ক শেক

স্মুদি অথবা মিল্ক শেক খেতে যারা পছন্দ করেন, শপিং মলে গেলে তারা হয়ত এটা না খেয়ে বাসায় ফিরতে চাইবেন না। তবে এই ধরণের বাইরের স্মুদি খেলে আপনি প্রতিদিনের প্রয়োজনের তুলনায় অধিক পরিমাণে চিনি খেয়ে ফেলেন কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্মুদিকে সুস্বাদু করতে বিক্রেতারা এতে দুধ, ক্রিম বা আইসক্রিম মিশিয়ে থাকেন।

তাই এরপর থেকে বাইরে স্মুদি খেতে গেলে অবশ্যই বলে দিবেন যেন তা চিনি ছাড়া হয় এবং ১০০% ফল দিয়ে বানিয়ে দেওয়া হয়। তবে সাথে চাইলে টক দই যোগ করে দিতে পারেন। এতে আপনার স্মুদি খাওয়ার ইচ্ছাও পূরণ হবে আবার এর থেকে অনেক প্রয়োজনীয় পুষ্টিও পেয়ে যাবেন। তাই সবথেকে ভালো হয় যদি আপনি বাড়িতেই স্মুদি বানিয়ে খেতে পারেন।

তবে খেয়াল রাখবেন অতিরিক্ত পরিমাণে ফল খেলে কিন্তু আপনার ওজন বেড়ে যেতে পারে কারণ ফল প্রাকৃতিকভাবেই অনেক মিষ্টি হয়। কলা এবং আপেলের মত ফল নিয়মিত খেতে থাকলে রক্তে সুগারের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে।

৪। পাস্তা (Pasta)

অনেকের ফাস্টফুডের পছন্দের তালিকায় হয়ত পাস্তা শীর্ষে রয়েছে। তবে যদি ডায়েটে থাকেন এবং কার্বোহাইড্রেটের কথা চিন্তা করে থাকেন তাহলে হয়ত পাস্তার বাটি সামনে রেখে এতদিন কান্না করা ছাড়া আর কোন পথ ছিলনা!! কিন্তু আজ থেকে চোখের পানি মুছে ফেলুন কারণ পাস্তাকে আপনি যতটা ক্ষতিকর মনে করেন এটা ততটাও ক্ষতিকর নয়।

বরং ২০০৬ সালে ১৪০০০ স্টুডেন্টের একটা গবেষণায় উঠে এসেছে যে যারা নিয়মিত পাস্তা খায় তারা খুব সহজেই হেলদি এবং ব্যালান্সড ডায়েট মেইন্টেইন করতে পারে। তবে যদি পাস্তায় প্রচুর পরিমাণে চিজ এবং টেস্টি সস অ্যাড করে খাওয়া হয় তখন তা অস্বাস্থ্যকর হয়ে যায়। তাই নিয়মিত পাস্তা খেলে অবশ্যই ভেজিটেবল বেসড সস এবং প্রচুর পরিমাণে সবজি মিশিয়ে খান।

৫। কফি (Coffee)

কফি

পুরো দুনিয়াজুড়ে কফি খুবই প্রচলিত একটি পানীয়। এবং শতাব্দীর পর শতাব্দী, মানুষের এটি খেয়ে আসার পেছনে অনেক কারণ রয়েছে। কফির অনেক ধরণের স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। এটা একদিকে যেমন লিভারের কার্যক্রম চলমান রাখতে সাহায্য করে অপরদিকে স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দেয়। কিন্তু যদি আপনি প্রতিদিন দুইকাপ কফি খেতে থাকেন তাহলে কিভাবে বুঝবেন যে এটা আপনার কোন ক্ষতি করছে কি না?

তবে আমেরিকান ডায়েটারি গাইডলাইন বলছে, একজন পূর্ণবয়স্কের জন্য প্রতিদিন ৩-৫ কাপ পর্যন্ত কফি খাওয়া ঠিক আছে যতক্ষণ পর্যন্ত একজন ব্যাক্তি ৪০০ মিলিগ্রামের বেশি ক্যাফেইন না খেয়ে ফেলছে। তবে কফি খাওয়া আপনার জন্য ক্ষতিকর হয়ে যাবে তখনই যখন আপনি এতে চিনি, ক্রিম বা অন্য কোন মিষ্টিজাতীয় কিছু মিশিয়ে খাবেন। 

আপনার যদি আরও কোন এমন খাবারের কথা জানা থাকে যেগুলো অস্বাস্থ্যকর হলেও উপকারী তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।

Categories
Uncategorized

৫টি স্বাস্থ্যকর জুসের রেসিপি যা আপনি ১  মিনিটেই বানিয়ে ফেলতে পারবেন

প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হোমমেড পানীয়গুলো সবসময়ই যেকোনো সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে থাকে। এমনকি ওজন বাড়ানোর সমস্যা থেকে শুরু করে ব্রণের সমস্যা পর্যন্ত সমাধান করে থাকে। ইন্টারনেটে একটু সার্চ করলেই এতো এতো রেসিপি পাবেন যে কনফিউজড হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক। তাই আজকের পোস্টে এমন ৫টি জুসের রেসিপি জানতে পারবেন যেটা আপনার স্বাস্থ্য পরিবর্তন করে দিতে যথেষ্ট।

১। কলা এবং ওটমিলের স্মুদি

কলা এবং ওটমিলের স্মুদি

প্রতিদিন সকালটা পজিটিভভাবে শুরু করা খুবই জরুরি। তাই সকালের নাস্তায় সুস্বাদু ও হাই প্রোটিনসমৃদ্ধ কলা এবং ওটমিলের স্মুদি হতে পারে আপনার নিত্য দিনের সঙ্গী। কলার মতো এতো গুণসম্পন্ন সহজলভ্য ও সস্তা ফল হয়ত আর দ্বিতীয়টি হয়না। এটি রক্তে চিনির মাত্রা ঠিক রাখে, হার্টকে সুস্থ রাখে, খাবার পরিপাকে সাহায্য করে এবং আপনাকে সারাদিন অ্যাক্টিভ থাকতে সাহায্য করে।

ওটমিলেও রয়েছে শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু উপাদান যেমন- ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম, জিংক এবং ভিটামিন বি1 ও বি5 । এছাড়াও স্মুদিকে আরও টেস্টি করে তুলতে এতে একটু কমলার রসও যোগ করতে পারেন যা থেকে ভিটামিন সি ও পেয়ে যাবেন। আর এটি শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং ডিটক্সিফাই করতে সাহায্য করে।

এই স্মুদি তৈরি করতে আপনার লাগবে ১ কাপ লো ফ্যাট দুধ, ১ কাপ কমলার রস, একটা মিডিয়াম সাইজ কলা এবং এক বাটি ইনস্ট্যান্ট ওটমিল। তবে চাইলে সাথে কিছু বরফের কুচিও যোগ করতে পারেন। সবকিছু একসঙ্গে ব্লেন্ড করলেই আপনার স্মুদি তৈরি হয়ে যাবে। প্রতিদিন এটা খাওয়া শুরু করুন আর নিজেই নিজের ভেতরের পরিবর্তন লক্ষ্য করতে পারবেন। 

২। তরমুজ এবং শশার জুস

তরমুজ এবং শশার জুস

গুরুত্বপূর্ণ কাজের সময় মাথা ব্যথা বা মাইগ্রেনের সমস্যা দেখা দিলে সেটা খুবই বিরক্তিকর লাগে। আর এটাই সবথেকে উপযুক্ত সময় তরমুজ এবং শশার জুস খাওয়ার।

এই জুসটি বানানোর জন্য আপনার লাগবে অর্ধেক তরমুজ, অর্ধেক শশা, ১ টেবিল চামচ মধু এবং ২টি পুদিনা পাতা। তরমুজের বিচি ফেলে দিয়ে ছোট ছোট টুকরো করে কাটুন এবং শশারও বিচি ফেলে দিয়ে ছোট করে কেটে নিন। সবগুলো উপকরণ একসঙ্গে ব্লেন্ড করলেই তৈরি হয়ে যাবে সুস্বাদু জুস। সাথে কিছু বরফের টুকরোও যোগ করতে পারেন।

তরমুজে প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে সাথে পটাসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়ামও আছে। এগুলো আপনাকে হাইড্রেট রাখে এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ সিস্টেমকে সচল রাখে।

এছাড়াও শশাতে ৯৬% পানি থাকে এবং সাথে ভিটামিন বি ও ইলেক্ট্রোলাইটস থাকে যেটা আপনার মাথা ব্যথা কমানোর জন্য পর্যাপ্ত পুস্টিউপাদান সরবরাহ করে থাকে। মধুতে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি উপাদান ইনস্ট্যান্টলি মাথা ব্যথা কমাতে সাহায্য করে এমনকি মাইগ্রেনের ব্যথাও ভ্যানিশ করে দেয়। তাই আপনি যদি প্রায়শই মাথা ব্যথার সমস্যাই ভুগে থাকেন তাহলে নিয়মিত এই জুস পান করা শুরু করুন। 

৩। টমেটো, শশা এবং গাজরের জুস 

ঘন, কালো, লম্বা চুল পাওয়া যেকোনো মেয়েরই স্বপ্ন। তবে অধিকাংশ মানুষ যে ভুলটি করে থাকে তাহল- ভেতর থেকে যত্ন নেওয়ার পরিবর্তে শুধুমাত্র বাইরে থেকেই চুলের যত্ন নিয়ে থাকে। তাই এক্ষেত্রে টমেটো, শশা এবং গাজরের জুস হতে পারে আপনার পরম বন্ধু।

টমেটোতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, বি, সি এবং ই থাকে যেটা চুলের বৃদ্ধির জন্য প্রভাবক হিসাবে কাজ করে। এছাড়াও খুশকি দূর করতে, চুল পড়া কমাতে এবং মাথার তালুর গন্ধ দূর করতে এগুলো খুবই দরকারি। দ্রুত ফল পেতে প্রতিদিন টমেটো খেতেও পারেন আবার হেয়ার মাস্ক তৈরি করে চুলে মাখতেও পারেন।

চুলের বৃদ্ধির জন্য গাজরও খুব উপকারী কারণ এতেও ম্যাগনেসিয়াম এবং ফসফরাস ছাড়াও ভিটামিন বি, সি এবং ই থাকে যা মাথার ত্বকের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে যেটা প্রাকৃতিকভাবে চুল বেড়ে ওঠার জন্য খুবই প্রয়োজনীয়।

বিশেষজ্ঞরা বলেন যে, নিয়মিত গাজর খেলে অকালে চুল পেকে যাওয়া রোধ হয়। আর শশার উপকারিতা তো আগেই জেনেছেন। ৪টি গাজর, ১টি শশা এবং ১টি টমেটো একসঙ্গে ব্লেন্ড করে প্রতিদিন খাওয়ার চেষ্টা করুন। 

৪। বিট কপি আর গাজরের জুস

বিট কপি আর গাজরের জুস

আমাদের মধ্যে অনেকেরই ব্রণের সমস্যা খুবই সাধারণ একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর আপনিও যদি এই সমস্যাই ভুগে থাকেন তাহলে বিট কপি আর গাজরের জুস হতে পারে আপনার জন্য লাইফ সেভিং ড্রিংক।

অর্ধেক লেবুর রস, ২কাপ গাজর কুচি, ১টি ছোট আপেল, ১টি লাল রঙের বিট কপি এবং অল্প পরিমাণ আদা কুচি একসঙ্গে ব্লেন্ড করে জুস বানিয়ে খেয়ে নিন।

সপ্তাহ ৩দিন এই জুস খেলে আপনার ত্বক হয়ে উঠবে উজ্জ্বল ও আকর্ষণীয়। লেবুতে থাকা ভিটামিন সি ফ্রি র‍্যাডিকেলের বিরুদ্ধে লড়াই করে যেটা শরীরে কোলাজেন উৎপাদনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিট কপিতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ত্বকের বলিরেখা দূর করে বয়সের ছাপ পড়তে দেয়না। 

৫। জাম্বুরা এবং শশার জুস

জাম্বুরা এবং শশার জুস

আজকের যুগে ওজন নিয়ে চিন্তা করেন না এমন লোক হয়ত খুঁজে পাওয়া যাবেনা। আর জাম্বুরা এবং শশার জুস সেক্ষেত্রে আপনার পরম বন্ধু হতে পারে! জাম্বুরা বা মোসম্বিলেবুতে এক ধরণের এনজাইম থাকে যেটার নাম এ এম পি- অ্যাক্টিভেটেড প্রোটিন কাইনেজ। এই এনজাইম আপনার শরীরের চিনি প্রক্রিয়াকরণ এবং বিপাকে সাহায্য করে। যার ফলে ক্যালরি দ্রুত ক্ষয় হয়।

অন্যদিকে শশা লিভারকে ডিটক্সিফাই করে এবং আপনার শরীরকে সতেজ রাখে। এই জুসটি তৈরি করতে ১টি মিডিয়াম সাইজের জাম্বুরা নিন, অর্ধেক শশা টুকরো করে কেটে নিন, অর্ধেক লেবু এবং কিছু পুদিনা পাতা নিন। সবগুলো উপকরণ ব্লেন্ডারে ঢেলে দিন আর সাথে এক কাপ পানি দিয়ে ব্লেন্ড করুন। তৈরি হয়ে গেলো মজাদার ওয়েট লস ড্রিংক। 

আপনি তাহলে কোন ড্রিংকটি বেঁছে নিচ্ছেন? অবশ্যই আমাদের কমেন্ট করে জানান।