Categories
Foods

সুপারফুড স্পিরুলিনা কেন এতো উপকারী?

স্পিরুলিনা মুলত কি?

স্পিরুলিনা হল একটি নীল-সবুজ শৈবাল যা বিশুদ্ধ এবং লবনাক্ত উভয় পানিতেই জন্মে। এটি এক ধরনের সায়ানোব্যাকটেরিয়া। এর পুষ্টি উপাদান এবং সম্ভাব্য স্বাস্থ্য সুবিধার কারণে মানুষ একে সুপারফুড বলে মনে করে।

স্পিরুলিনা মূলত সাপ্লিমেন্টারী ফুড। এতে প্রোটিন,আয়রন, আয়োডিন এবং অন্যান্য ভিটামিন রয়েছে, যা নিরামিষভোজীদের জন্য একটি উপযুক্ত খাদ্যতালিকাগত সম্পূরক।

গবেষণা প্রস্তাব করে যে, স্পিরুলিনাতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং প্রদাহ-লড়াই বৈশিষ্ট্য ও ইমিউন সিস্টেম নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করার ক্ষমতা রয়েছে। []

স্পিরুলিনা এর পুষ্টিগুণ

স্পিরুলিনা একটি ভেষজ শক্তিবর্ধক সম্পূরক। ১০০ গ্রাম স্পিরুলিনা পাউডারে-

উপাদানপরিমাণ
শক্তি২৫০ কিলোক্যালরী
প্রোটিন৫০ গ্রাম
শর্করা৫০ গ্রাম
লৌহ৫৪ মিলি গ্রাম
ফসফরাস১০০০ মিলি গ্রাম
পটাসিয়াম১৫০০ মিলি গ্রাম
ম্যাঙ্গানিজ৩ মিলি গ্রাম
থায়ামিন৫ মিলি গ্রাম
রিবোফ্লেভিন৪.২৫ মিলি গ্রাম
নিয়াসিন১০ মিলি গ্রাম

স্পিরুলিনা শরীরে কিভাবে কাজ করে?

১। স্পিরুলিনা পুষ্টির একটি শক্তিশালী উৎস। এতে ফাইকোসায়ানিন নামে একটি শক্তিশালী উদ্ভিজ্জ প্রোটিন রয়েছে। স্পিরুলিনাকে একটি সম্পূর্ণ প্রোটিন বলা যেতে পারে কারণ এতে অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড থাকে। যা কিনা আমাদের শরীরের জন্য দরকার। এই অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড মূলত খাদ্যের মাধ্যমেই গ্রহণ করতে হয়। কারণ এরা শরীরে উৎপ্নন হয় না।

২। এর মধ্যে থাকা প্রোটিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান অপুষ্টি প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। কারণ স্পিরুলিনায় প্রায় ৬০% প্রোটিন রয়েছে বলে দেখা গেছে।

৩। এতে আয়রন রয়েছে যা কিনা রক্তাল্পতা দূর করতে সহায়তা করে।

৪। তাছাড়া এতে গামা লিনোলেনিক এসিড বিদ্যমান যা কিনা শিশুর সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

৫। পেটের উপকারী ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধিতে সাহায্য করে, যার ফলে হজমশক্তি বাড়ে ও পেটের সুস্বাস্থ্য বজায় থাকে।

সুপারফুড স্পিরুলিনা এর উপকারিতা

সুপারফুড স্পিরুলিনার উপকারিতা

১। কোলেস্টেরল কমাতে

স্পিরুলিনা নির্যাস গ্রহণ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করতে পারে। উচ্চ কোলেস্টেরলের মাত্রা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
২০১৩ সালের একটি গবেষণায়, গবেষকরা দেখেছেন যে প্রতিদিন ১ গ্রাম স্পিরুলিনা গ্রহণ করলে ৩ মাস পর মানুষের মোট কোলেস্টেরল কমে যায়।

২। রক্তচাপ কমাতে

কোলেস্টেরল কমানোর পাশাপাশি, স্পিরুলিনা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে থাকে। ২০১৬ সালের একটি ছোট আকারের গবেষণায় দেখা গেছে যে ৩ মাস ধরে নিয়মিত স্পিরুলিনা গ্রহণ করা অতিরিক্ত ওজন এবং উচ্চ রক্তচাপযুক্ত ব্যক্তিদের রক্তচাপ হ্রাস করে। []

৩। হৃদরোগ প্রতিরোধে

উচ্চ রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা উভয়ই হৃদরোগের সাথে যুক্ত। ২০১৮ সালের পর্যালোচনায় দেখা যায় যে স্পিরুলিনা হৃদরোগের মতো দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহজনিত রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে। এটি রক্তচাপ, গ্লুকোজের মাত্রা এবং লিপিড স্তরের উপর প্রভাবের কারণে হতে পারে। []

৪। গর্ভাবস্থায়

স্পিরুলিনা মানবদেহে একটি গতিশীল কাজ করে এবং মাকে একটি সুস্থ শিশুর জন্ম দিতে সাহায্য করে। এর কিছু সম্ভাব্য স্বাস্থ্য সুবিধা রয়েছে-

  • গর্ভাবস্থায় আয়রন ও ফলিক অ্যাসিডের চাহিদা বেশি থাকে তাই স্পিরুলিনায় উপস্থিত এই পুষ্টি উপাদান হিমোগ্লোবিন উন্নত করতে সাহায্য করে এবং রক্তাল্পতা এবং ক্লান্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে।
  • স্পিরুলিনা গ্রহণ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। সুতরাং, এটা বলা যেতে পারে যে স্পিরুলিনা গর্ভকালীন ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সাহায্য করে।
  • স্পিরুলিনায় উচ্চ ঘনত্ব সহ ওমেগা অ্যাসিড রয়েছে। এটি মায়ের গর্ভে থাকাকালীন শিশুর মস্তিষ্কের বৃদ্ধিতে সাহায্য করতে পারে
  • স্পিরুলিনায় বেশ কিছু ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে যা হরমোনের ভারসাম্য বাড়ায় এবং মানবদেহে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
  • গবেষণায় দেখা গেছে যে, স্পিরুলিনা সম্পূরক, গর্ভবতী মহিলাদের শেষ ট্রাইমেস্টারে হিমোগ্লোবিনেমিয়া উন্নতিতে আয়রন এবং ফলিক অ্যাসিডের সাপ্লিমেন্টের চেয়ে বেশি কার্যকর এবং রক্তাল্পতা প্রতিরোধে ভূমিকা পালন করে। []

৫। চোখের সুস্থতায়

স্পিরুলিনায় রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বিটা ক্যারোটিন। শরীর বিটা ক্যারোটিনকে ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত করে, যা চোখের স্বাস্থ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

২০১৯ সালে প্রকাশিত গবেষণায়, বিজ্ঞানীরা ৪ সপ্তাহের জন্য ইঁদুরকে একটি আদর্শ খাদ্য বা ২০% স্পিরুলিনাযুক্ত খাদ্য দিয়েছেন। তারপরে, তারা অন্ধকারে সময় কাটানোর জন্য ইঁদুরদের ছেড়ে দেয় এবং ১ ঘন্টা সাদা আলোতে রাখা হয়। যে ইঁদুরগুলি স্পিরুলিনা খেয়েছিল তাদের ভাল সুরক্ষা ছিল এবং তাদের চোখের রেটিনা এবং ফটোরিসেপ্টরগুলির কম ক্ষতি হয়েছিল।

অর্থাৎ এটি পরামর্শ দেয় যে স্পিরুলিনা মানুষের চোখের স্বাস্থ্য রক্ষা করতে সাহায্য করতে পারে, যদিও আরও গবেষণা প্রয়োজন। []

৬। ওজন কমাতে

২০২০ সালের পর্যালোচনা উপসংহারে এসেছে যে খাদ্যে স্পিরুলিনা অন্তর্ভুক্ত করলে যা কমাতে সাহায্য করতে পারে:

  • বডি মাস ইনডেক্স (BMI)
  • শরীরের চর্বি
  • কোমরের পরিধি
  • ক্ষুধা
  • রক্তের লিপিড

এর সম্ভাব্য কারণ হল স্পিরুলিনার উপাদানগুলি ছোট অন্ত্রকে চর্বি শোষণ করতে বাধা দেয়।

৭। অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি

প্রাণীজ গবেষণায় দেখা যায় যে স্পিরুলিনা মানুষের বয়স বাড়ার সাথে সাথে অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে। বয়স্ক ইঁদুরের উপর ২০১৭ সালের একটি গবেষণায় বলা হয়েছে যে স্পিরুলিনা বার্ধক্য প্রক্রিয়ার সময় স্বাস্থ্যকর অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া সংরক্ষণ করতে পারে। []

৭। গ্লুকোজ মাত্রা নিয়ন্ত্রণে

স্পিরুলিনা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে, যা ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় পাওয়া গেছে যে স্পিরুলিনা গ্রহণ করলে খালি পেটে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

৮। হৃদরোগ প্রতিরোধে

উচ্চ রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা উভয়ই হৃদরোগের সাথে যুক্ত। ২০১৮ সালের পর্যালোচনায় দেখা যায় যে স্পিরুলিনা হৃদরোগের মতো দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহজনিত রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে। এটি রক্তচাপ, গ্লুকোজের মাত্রা এবং লিপিড স্তরের উপর প্রভাবের কারণে হতে পারে।

৯। বিপাক বৃদ্ধি

স্পিরুলিনা একজন ব্যক্তির বিপাক বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। যারা দিনে ৬ গ্রাম স্পিরুলিনা গ্রহণ করেন তারা ওজন কমানো এবং স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত জীবনযাত্রার মানের পাশাপাশি উপকারী বিপাকীয় প্রভাব অনুভব করেন।

সুপারফুড স্পিরুলিনা মূলত কাদের জন্য ?

  • নিরামিষভোজীদের শরীরে আয়রন এবং প্রোটিনের ঘাটতি আছে তাদের জন্য একটি আদর্শ পরিপূরক হিসেবে কাজ করে।
  • যাদের শরীর দুর্বল ও ক্লান্ত থাকে, তাদের জন্য স্পিরুলিনা ভালো কাজ করে।
  • যারা অ্যাথলেটস ও প্রতিদিন খেলাধুলা করে, তারা স্পিরুলিনা খেতে পারেন।
  • যাদের কাজের চাপ বেশি থাকে, তারাও খাদ্য তালিকায় স্পিরুলিনা রাখতে পারেন।
  • যাদের থাইরয়েডের সমস্যা আছে, তাদের জন্য স্পিরুলিনা একটি সুপারফুড।

স্পিরুলিনা কিভাবে খাবেন?

স্পিরুলিনা কিভাবে খাবেন

স্পিরুলিনা নানাভাবেই খাওয়া যেতে পারে। যেমন-

ট্যাবলেট হিসেবে

  • একে ট্যাবলেট হিসেবে খাওয়া যেতে পারে। যা কিনা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খেতে পারেন।

পাউডার হিসেবে

  • স্পিরুলিনা পাউডার ফল বা সবজিতে যোগ করা যেতে পারে। যেমন- কলা, আনারস, আম ইত্যাদি।
  • এটা স্যুপ, সালাদ, পাস্তা, পাউরুটি বা দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • এক গ্লাস পানি বা জুসে এক চামচ স্পিরুলিনা পাউডার মিশিয়ে সরাসরি পান করা যেতে পারে অথবা স্মুদিতে ও ফলের রসের সাথে যোগ করা যেতে পারে।

কতটুকু ব্যবহার করা উচিত?

স্পিরুলিনার একটি আদর্শ দৈনিক ডোজ হল ১-৩ গ্রাম, কিন্তু প্রতিদিন ১০ গ্রাম পর্যন্ত ডোজ কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথ (এনআইএইচ) অনুসারে, লোকেরা সর্বাধিক ২ মাসের জন্য প্রতিদিন ১৯ গ্রাম পর্যন্ত এবং সর্বাধিক ৬ মাস ধরে প্রতিদিন ১০ গ্রাম পর্যন্ত ডোজ ব্যবহার করেছে। পণ্যের লেবেলে বর্ণিত ডোজ অতিক্রম করা উচিত নয়। [সূত্র]

স্পিরুলিনা দীর্ঘদিন কিভাবে সংরক্ষণ করা যায়?

স্পিরুলিনা ট্যাবলেট এবং পাউডার রেফ্রিজারেটরে সংরক্ষণ করা ভাল। যদিও সময়ের সাথে সাথে এর পুষ্টিগুণ হ্রাস পাবে। সুতরাং, স্পিরুলিনা খোলার কয়েক মাসের মধ্যেই এটি খাওয়া ভাল। তবে সংরক্ষণ করার সময় খেয়াল রাখতে হবে যাতে ঠান্ডা ও শুষ্ক স্থানে রাখা হয় এবং সূর্যের আলো থেকে এটি দূরে থাকে।

স্পিরুলিনা কোথায় পাবেন?

বিভিন্ন হেলথ ফুড স্টোর বা অনলাইন স্টোরে শুকনো স্পিরুলিনা পাওয়া যায়। স্পিরুলিনা ট্যাবলেটগুলি স্বাস্থ্যকর খাবারের দোকান, যে কোন ওষুধের দোকান এবং অনলাইনে পাওয়া যায়।

স্পিরুলিনার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

সাধারনত প্রাকৃতিক উপাদানে কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় না তবে অতিরিক্ত মাত্রায় যদি স্পিরুলিনা গ্রহণ করা হয়, তবে অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতি হতে পারে। যেমন-

  • ডায়রিয়া বা বমি বমি ভাব
  • গ্যাস্ট্রোইনটেসটিনাল সমস্যা

স্পিরুলিনা গ্রহনে সতর্কতা

  • যাদের ফিনাইলকিটোনিউরিয়া আছে, তাদের জন্য এটি ক্ষতিকর।
  • যাদের কিনা অটোইমিউন রোগ আছে, তাদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
  • দূষিত স্পিরুলিনায় কিছু ক্ষতিকারক টক্সিন থাকতে পারে যা গর্ভাবস্থায় ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই গর্ভবতী মা ও দুগ্ধদানকারী মা এটি গ্রহণের আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

স্পিরুলিনা ইতিমধ্যেই একটি খুব জনপ্রিয় এবং সুপরিচিত খাদ্যতালিকাগত সম্পূরক যার কিনা স্বাস্থ্যগত উপকারিতা অনেক। এতে উচ্চ ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট উপাদান থাকায় এটি ভিটামিন সম্পূরকগুলির জন্য একটি বিকল্প খাদ্য হিসাবে বিশেষজ্ঞগন খাওয়ার পরমার্শ দিয়ে থাকেন।

Categories
Foods ঘরোয়া সমাধান

অশ্বগন্ধার উপকারিতা এবং খাওয়ার নিয়ম

অশ্বগন্ধা মূলত ভেষজ জড়িবুটির মধ্যে অন্যতম একটি উপাদান। সেই প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন রোগের ওষুধ হিসাবে অশ্বগন্ধা ব্যবহার হয়ে আসছে। মনে করা হয় ৬০০ খ্রিস্টাব্দ বা তারও আগে থেকে অশ্বগন্ধার ব্যবহার শুরু হয়েছে। আয়ুর্বেদিক শাস্ত্রেও একটি গুরুত্বপুর্ন উপাদান হিসাবে অশ্বগন্ধা স্থান পেয়েছে। এখনকার সময়ে বিভিন্ন ক্লিনিক্যাল স্টাডিতেও মানব শরীরে এর উপকারিতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। [1]

আজকের এই লেখার মাধ্যমে জানতে পারবেন অশ্বগন্ধার বিভিন্ন উপকারিতা সম্পর্কে। এছাড়াও কোন রোগে এটি কিভাবে ব্যবহার করবেন এবং কতটুকু পরিমাণে খেলে এটি আপনার জন্য বেশি উপকারী হবে সে সম্পর্কেও জানতে পারবেন। তাহলে চলুন শুরু করা যাক।

অশ্বগন্ধা কি? 

ভেষজ উদ্ভিদ অশ্বগন্ধা

অশ্বগন্ধার প্রধান উপকারিতাগুলো জানার আগে অশ্বগন্ধা আসলে কি সেটা জানা জরুরি। এটি মূলত এক প্রকার ভেষজ উদ্ভিদ। ভারত, পাকিস্তান, স্পেন, আফ্রিকা, মধ্য প্রাচ্য এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলিতে এই গাছ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এই গাছের পাতা, ফল, বীজ, শিকড় সবকিছুই আয়ুর্বেদিক ঔষুধ তৈরী করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। তবে এর শেকড়ের ব্যবহার সবচেয়ে প্রচলিত। ভারতীয় চিকিৎসা শাস্ত্রে এটি অত্যাশ্চর্য ভেষজ নামেও পরিচিত। 

মানসিক চাপ কমাতে এটি অধিক কার্যকরী বলে একে অ্যাডাপ্টোজেনও বলা হয়। অ্যাডাপ্টোজেনের অর্থ মানসিক চাপ মুক্তির এজেন্ট। তবে অশ্বগন্ধা নামের উৎপত্তি হচ্ছে ঘোড়ার থেকে। এর শেকড় থেকে ঘোড়ার মূত্রের মতো এক ধরনের গন্ধ আসায় এটি অশ্বগন্ধা নামে পরিচিত। এর বৈজ্ঞানিক নাম Withania Somnifera।

অশ্বগন্ধায় উপস্থিত উপকারী উপাদানসমূহ 

অশ্বগন্ধার এত এত গুণের প্রধান কারণ হচ্ছে এতে উপস্থিত ফাইটোকেমিক্যাল। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, অশ্বগন্ধার নির্যাসে ৩৫ ধরনের ফাইটোকেমিক্যাল উপাদান থাকে। যার ফলে সঠিক পরিমাণে ব্যবহার করলে এটি ক্যান্সার প্রতিরোধেও সাহায্য করে। এছাড়াও এতে উপস্থিত অন্যান্য উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যালকালয়েড, স্ট্রেরয়ডাল, ল্যাক্টনস, ট্যানিনস, স্যাপোনিনস, উইথানন, উইথাফেরিন এ, ডি, ই , উইথাননোলাইড ইত্যাদি।

অশ্বগন্ধার কিছু গুরুত্বপুর্ন উপকারিতা 

অশ্বগন্ধার উপকারিতা

১। ঘুমের সমস্যা সমাধান করে 

অশ্বগন্ধায় অ্যানজাইলটিক উপাদান থাকার কারণে এটি মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক এবং মনোযোগ বৃদ্ধি করে। আর মানুষের শরীরে স্ট্রেস এর পরিমাণ কম থাকলে এবং মস্তিষ্কের উপর চাপ কম থাকলে ঘুমের সমস্যা দূর হয়। এর প্রধান কারণ হচ্ছে অশ্বগন্ধা স্নায়ু শিথিল রাখতে সাহায্য করে। যার ফলে আপনার আর ঘুমের ওষুধের প্রয়োজন হবেনা।  

২। যৌন ক্ষমতা ও যৌন উদ্দীপক

পুরুষের শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি করে প্রাচীনকাল থেকেই অশ্বগন্ধার সুনাম রয়েছে। এছাড়াও নিয়মিত এটি খেলে শরীরে টেস্টোস্টেরন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। যার ফলে যৌন আকাঙ্ক্ষা এবং ক্ষমতা দুই-ই বৃদ্ধি পায়। বিভিন্ন ক্লিনিক্যাল স্টাডিতেও প্রমাণিত হয়েছে যে এটি কামশক্তি বৃদ্ধি এবং শুক্রতারুল্যের সমস্যা সমাধান করে।

৩। থাইরয়েড সমস্যায় উপকারী 

থাইরয়েড সমস্যায় অশ্বগন্ধা খুবই কার্যকর ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত এটি খেলে শরীরে থাইরয়েড হরমোন বৃদ্ধি পায়। তাই যাদের শরীরে থাইরয়েড হরমোনের পরিমাণ কম থাকে তাদের জন্য এটি বিশেষভাবে উপকারী। 

৪। ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে 

কিছু কিছু গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, অশ্বগন্ধা ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে। এতে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যেগুলো শরীরে ক্যান্সার কোষ বৃদ্ধি পেতে বাঁধা দেয়। যার ফলে নিয়মিত অশ্বগন্ধা খেলে কোলন ক্যান্সার, ব্রেস্ট ক্যান্সার, ওভারিয়ান ক্যান্সার, প্রস্টেট ক্যান্সার এবং ব্রেন ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি হ্রাস পায়।  

৫। মাসিকের সমস্যায় কার্যকর 

অধিকাংশ মেয়েদের মাসিকের সময় তীব্র পেটে ব্যথার সমস্যা লক্ষ্য করা যায়। যার ফলে প্রতিমাসেই পিরিয়ড চলাকালীন তারা তীব্র অসুস্থতায় ভোগে। কিন্তু অশ্বগন্ধা এই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে। নিয়মিত যদি নির্দিষ্ট পরিমাণে অশ্বগন্ধা খাওয়া যায় তাহলে পেটে ব্যথার এই সমস্যা থেকে চিরতরে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। শুধু তাই নয়, অনিয়মিত মাসিকের সমস্যাও এটি সমাধান করে। 

৬। রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে 

অশ্বগন্ধা মানবদেহে রক্ত চলাচল নিয়ন্ত্রনে রাখে। যার ফলে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা কমে যায় এবং হৃদপিণ্ড অন্যান্য অনেক রোগ থেকেও সুস্থ থাকে। আর শরীরে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকার ফলে আর্থ্রাইটিসের ব্যথাও উপশম হয়। এছাড়া এটি শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সাহায্য করে। 

৭। ত্বক ও চুলের যত্নে সহায়ক 

অশ্বগন্ধা যৌবন ধরে রাখতে সাহায্য করে। তাই নিয়মিত অশ্বগন্ধা খেলে ত্বকের বলিরেখা কিংবা বয়সের ছাপ পড়ার মতো সমস্যা থেকে দূরে থাকবেন। এটি ত্বককে ভেতর থেকে সুস্থ রাখে এবং উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। এছাড়াও এটি চুল পড়া রোধ করে এবং চুলের গোঁড়া মজবুত করতে সাহায্য করে।

অশ্বগন্ধা খাওয়ার নিয়ম 

অশ্বগন্ধার শেকড় এবং গুঁড়া দুইভাবেই খাওয়া যায়। তবে এখন অশ্বগন্ধা গুঁড়া খাওয়ার প্রচলন সবচেয়ে বেশি। কারণ বাজারে শেকড়ের থেকে গুঁড়া বেশি দেখা যায়। ভালো ফল পেতে প্রতিদিন ৪-৫ গ্রাম অর্থাৎ ১ চামচ অশ্বগন্ধা গুঁড়া খেতে পারবেন।

আপনি চাইলে এটি কুসুম গরম পানিতে মিশিয়ে, হালকা গরম দুধে মিশিয়ে অথবা মধু মিশিয়েও খেতে পারেন। প্রতিদিন সকালে ১ চামচ অথবা সকালে ১/২ চামচ আর রাতে ঘুমানোর আগে ১/২ চামচ খেতে পারবেন। তবে আপনার সমস্যার উপর ভিত্তি করে বিশেষজ্ঞ একজন ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী অশ্বগন্ধা খাওয়া সবথেকে নিরাপদ।

অশ্বগন্ধা খাওয়ার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

অশ্বগন্ধা সম্পুর্ন প্রাকৃতিক উপাদান অতিরিক্ত মাত্রায় সেবনের ফলে কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হতে পারে। তবে অশ্বগন্ধা খাওয়ার সময় অবশ্যই কিছু বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখা জরুরী।

  • অশ্বগন্ধা খাওয়ার ফলে অনিদ্রার সমস্যা সমাধান হয় এবং ঘুম ভালো হয়। তাই এটি খাওয়াকালীন আলাদা ঘুমের ওষুধ না খাওয়াই উত্তম। 
  • আর একটানা দীর্ঘদিন অশ্বগন্ধা খেলে ডায়রিয়া, গ্যাস্ট্রিক, বমির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই একটানা কিছুদিন খাওয়ার পর আবার ১০-১৫ দিন গ্যাপ দিয়ে খাওয়া শুরু করতে হবে।  
  • যেহেতু অশ্বগন্ধা রক্ত পরিষ্কার করতে সাহায্য করে, এতে করে রক্ত পাতলা হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। তাই কোন অস্ত্রপচারের আগে, পরে বা সমসাময়িক এটি খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। না হলে অধিক রক্তপাত হয়ে মারাত্মক বিপদ হতে পারে।
  • অশ্বগন্ধা প্রাকৃতিকভাবেই শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। ফলে এটি খাওয়ার সময় অন্য কোন শর্করা কমানোর ওষুধ না খাওয়াই উত্তম। তা না হলে রক্তে শর্করার মাত্রা অধিক পরিমাণে কমে গিয়ে সমস্যা দেখা দিতে পারে। 
  • গর্ভবতী মহিলাদের অশ্বগন্ধা খেলে গর্ভপাত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আর যেসব মায়েরা শিশুদের বুকের দুধ খাওয়ান তাদের ক্ষেত্রেও অশ্বগন্ধা না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

অশ্বগন্ধা সম্পর্কিত কিছু সাধারণ প্রশ্ন

প্রতিদিন কি অশ্বগন্ধার গুঁড়ো খাওয়া যেতে পারে ?

নির্দিষ্ট পরিমাণে প্রতিদিন অশ্বগন্ধার গুঁড়া খাওয়া যাবে। ওয়েব এম ডি এর তথ্য অনুযায়ী, একজন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তি প্রতিদিন ১০০০ মিলিগ্রাম অশ্বগন্ধা ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত খেতে পারবেন। তবে সমস্যা অনুযায়ী সেবনের মাত্রা কমবেশি হতে পারে। তাই খাওয়ার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। [2]

অশ্বগন্ধার গুঁড়া খেলে কি লম্বা হওয়া যায়?

অশ্বগন্ধার গুঁড়া খেয়ে লম্বা হওয়ার মতো কোন তথ্য এখনো প্রমাণিত হয়নি। তবে এটি আমাদের হাড় মজবুত করতে সাহায্য করে এবং হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধি করে। এছাড়াও এর আরও অনেক উপকারিতার কথা ইতোমধ্যেই আপনারা জানতে পেরেছেন।

কোথায় পাওয়া যাবে অশ্বগন্ধার গুঁড়া? 

যেকোন সুপারশপেই এখন অশ্বগন্ধার গুঁড়া পাওয়া যায়। আবার বাজারেও বিভিন্ন দোকানে এর দেখা পাবেন। কিন্তু নির্ভেজাল গুঁড়া পাওয়া এখন খুবই কষ্টকর। কারণ বাজারের দোকানে যেগুলো দেখা যায় সেগুলো খোলা অবস্থায় থাকার ফলে ধুলাবালি মিশে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক। তাই সুপারশপ থেকে অনলাইন স্টোর থেকে প্যাকেটজাত অস্বগন্ধার গুঁড়া কিনতে পারেন।

অশ্বগন্ধার কোন ক্ষতিকর দিক আছে কি? 

অশ্বগন্ধার কোন ক্ষতিকর দিক নেই। তবে এটি খাওয়ার মাত্রার উপর নির্ভর করে কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া আছে যেগুলো উপরে বিস্তারিতভাবে বর্ননা দেওয়া হয়েছে। অশ্বগন্ধা খাওয়ার সময় শুধু এই ব্যাপারগুলো মাথায় রাখলেই চলবে।

মেয়েদের জন্য অশ্বগন্ধার কোন উপকারিতা কি? 

মেয়েদের ঋতুস্রাবের সময় যে তীব্র পেটে ব্যথা করে, অশ্বগন্ধা সেটা লাঘব করে। এছাড়াও অনিয়মিত ঋতুস্রাবের সমস্যা এবং বন্ধ্যা নারীর ক্ষেত্রেও এর উপকারিতা লক্ষ্য করা গেছে। নিয়মিত এটি খেতে থাকলে শরীরের রক্ত চলাচল ঠিক থাকে এবং হরমোনাল ইমব্যালেন্স দূর হয়। ফলে মাসিকের সমস্যা ঠিক হওয়ার পাশাপাশি বন্ধ্যাত্বের সমস্যাতেও উপকার পাওয়া যায়। [3]

পরিশেষে

তাহলে বুঝতেই পারছেন ঔষধি গাছ হিসাবে অশ্বগন্ধার উপকারিতা অনেক বেশি। তাই নিয়ম মেনে সঠিক পরিমাণে যদি নিয়মিত এটি সেবন করতে পারেন তাহলে নানাবিধ রোগ থেকে দূরে থাকতে পারবেন। তবে নির্দিষ্ট কোন রোগের জন্য অবশ্যই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে অশ্বগন্ধা খাওয়া উচিত।

তথ্যসূত্রঃ healthline.com | webmd.commedicalnewstoday.com

Categories
Foods

যেসব খাবার কখনোই একসঙ্গে খাওয়া উচিত নয়

খাদ্য ছাড়া বেঁচে থাকার কথা ভাবাই যায়না! কেউ কেউ ভালবাসে সাধারণভাবে রান্না করা খাবার আবার কেউ কেউ ভালবাসে একটু তীব্র সুগন্ধযুক্ত ও ভিন্ন কম্বিনেশনের খাবার খেতে। 

তবে খেয়াল রাখবেন ভিন্ন কিছু খেতে গিয়ে যেন শরীরের ১২ টা না বেজে যায়! দুধ আর আনারস একসঙ্গে খেলে যেমন শরীরের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে তেমনি আরও কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো একসঙ্গে খেলে অনেক বড় বিপদ ঘটতে পারে।

ডায়েট স্পেশালিষ্টদের মতামত অনুসারে, এমন ৬জোড়া খাবারের কম্বিনেশন তুলে ধরা হল যেগুলো একসঙ্গে না খাওয়াই আপনার জন্য মঙ্গলজনক। 

যে খাবারগুলো একসঙ্গে খাওয়া উচিত নয়

১। কলা ও দুধ জাতীয় খাবার

ঘাবড়ে গেলেন নিশ্চয়? স্বাস্থ্যসচেতন লোকদের মাঝেই এই দুইটি খাবার একসঙ্গে খাওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। কারণ কলা ও দুধ সহজলভ্য এবং একই সাথে পুষ্টিকর ও তাড়াতাড়ি এর স্মুদি তৈরি করা যায়। আয়ুর্বেদের মতে, এই খাবার দুইটির সংমিশ্রণ সবচাইতে ভারী ও বিষাক্ত। এটা শরীরে একরকম ভারী ভাব এনে দেয় এবং মনকেও মন্থর করে দেয়। 

তবে কলা ও দুধের স্মুদি ছাড়া যদি চলতে না পারেন, সেক্ষেত্রে অবশ্যই লক্ষ্য রাখুন কলা যেন ভালভাবে পাকা হয়। আর হজমের সুবিধার জন্য এতে এলাচের গুড়ো মিশিয়ে দিন। 

২। কফি ও স্যান্ডউইচ 

অধিকাংশ লোকই সকালের নাস্তা শুরু করেন কফি এবং স্যান্ডউইচ দিয়ে। যখন হাতে মোটেই সময় থাকেনা এবং বাইরের থেকে কিছু খেয়ে নিতে হয় তখন তো এর থেকে ভালো সমাধান আর হতেই পারেনা। 

কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত চিজ স্যান্ডউইচের সাথে কফি খাওয়া মানেই চিজের সব গুণাগুণকে বিদায় করে দেওয়া। এর প্রধান কারণ হচ্ছে পাউরুটিতে থাকা কার্বোহাইড্রেট, ক্যালসিয়ামকে হজম হতে বাধা প্রদান করে। 

যার ফলে আপনার স্নায়ুতন্ত্র এবং রক্ত সংবহনতন্ত্রের কাজ ঠিকভাবে সম্পন্ন হয়। তাই সেক্ষেত্রে যদি স্যান্ডউইচের সাথে ইনস্ট্যান্ট কফি খান তাহলে সেটা আপনার শরীরের কোন কাজেই লাগেনা। 

তবে দুঃখ পাবেন না, যদি চিজ স্যান্ডউইচ আপনার খুব প্রিয় হয়ে থাকে তাহলে কফির পরিবর্তে গ্রিন টি পান করুন। এটা শুধু আপনার তৃপ্তি-ই মিটাবে না, আপনাকে এনারজেটিক ও রিফ্রেসশড রাখবে যা ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাবে ও আপনার ত্বককে সুন্দর করবে। 

৩। টমেটো ও শশা 

এটা শুনে আপনি এতক্ষণ হয়ত রীতিমতো চমকে গিয়েছেন তাইনা? কারণ সালাদ হিসাবে তো টমেটো ও শশার কম্বিনেশন ছাড়া কিছু চিন্তায় করা যায় না! সারা বিশ্বেও এর প্রচলন চোখে পড়ার মতো। তবে আধুনিক গবেষণাগুলো বলছে, এই দুটো সবজি একসঙ্গে খাওয়া মোটেই স্বাস্থ্যকর নয়। কারণ এটা আপনার শরীরের প্রাণরসায়নিক ব্যবস্থাপনাকে বিপাকে ফেলছে। 

এই দুইটি সবজি একসঙ্গে খেলে আপনার শরীরে বেশি পরিমাণে ক্যালসিয়াম জমে যায় এবং যে পরিমাণে ভিটামিন এগুলো বহন করে তা সঠিকভাবে পরিপাক হয়না। ফলে আপনার শরীর ফুলে যাবে যেটা হয়ত আপনি মেনে নিতে পারবেন না!

এই দুইটি খাবারের হজমের সময় ভিন্ন ভিন্ন হওয়ায় আজকে টমেটোর সালাদ খেলে কালকে শশার সালাদ খান। এতে আপনার শরীর পরিপূর্ণ ভিটামিন পাবে এবং আপনি থাকবেন তরতাজা! 

৪। ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের সাথে স্টেক 

এখনকার সময়ে এটা খুবই জনপ্রিয় একটা কম্বিনেশন। আর রেস্টুরেন্টগুলো যে হারে অফার দিচ্ছে তাতে করে মানুষের স্টেক খাওয়ার হার দিন দিন বেড়েই চলেছে। তবে স্টেকের সাথে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই খেয়েছেন তো বিপদে পড়েছেন! 

কারণ আলুতে থাকা অতিরিক্ত স্টার্চ হজমে ক্ষারীয় অন্ত্ররস প্রয়োজন। অন্যদিকে মাংসে থাকা প্রোটিন হজম করতে অম্লীয় অন্ত্ররস প্রয়োজন। তাই এই দুইটি খাবার আপনি যখন একসাথে খাবেন তখন তা পাকস্থলীতে আটকে থাকে এবং হৃৎপিণ্ডের নানারকম সমস্যা হতে থাকে যেমন- বুক জালাপোড়া, ঘন ঘন ঢেকুর ওঠা, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা এবং আরও কত কি। 

তবে এই সমস্যা এড়াতে মাংসের সাথে আলুর পরিবর্তে স্টার্চবিহীন সবজি খেতে পারেন। যেমন- ব্রকলি, শতমূলী, ধুন্দল, ফুলকপি অথবা শিম। 

৫। আনারসের সাথে দুধ

এটা আমরা হয়ত সকলেই জানি যে দুধ এবং আনারস একসঙ্গে খাওয়া উচিত নয়। কিন্তু এর আসল কারণ কি হতে পারে তা কি কখনো ভেবেছেন? টকজাতীয় ফল হজম হতে অনেক সময় লাগে বিশেষ করে সকালের দিকে। এছাড়াও আনারসে, ব্রোমালাইন নামক এক ধরণের এনজাইম থাকে যার কারণে এটি দুধ বা দুধের তৈরি কোন খাবারের সাথে খেলে বিষক্রিয়া হতে পারে। 

তবে যদি আপনি দুধের সাথে ফল মিশিয়ে খেতে পছন্দ করেন তাহলে কিসমিস যোগ করতে পারেন যা খাবারকে সুস্বাদু তো করবেই এবং তাড়াতাড়ি হজমও হয়ে যাবে। 

৬। বিয়ার ও লবণযুক্ত বাদাম 

চোখ কপালে ওঠার মতোই একটা বিষয় এটা। কারণ বিশ্বব্যাপী বিয়ার খুবই জনপ্রিয় একটি ড্রিঙ্কস। আর অনেকেই আছেন যারা বিয়ারের সাথে স্পাইসি কিছু খেতে পছন্দ করেন এবং সহজলভ্য হিসাবে বেছে নিতে পারেন লবণযুক্ত বাদামকে। কিন্তু আপনার জন্য এটা মোটেই সুখবর নয়। 

উচ্চমাত্রার লবণযুক্ত খাবার শুধু অস্বাস্থ্যকরই নয় বরং ডিহাইড্রেশনের একটা বড় কারণ। লবণযুক্ত খাবার প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম বহন করে যা আপনার শরীর থেকে তরল পদার্থ বের করে দেয় এবং আপনি তৃষ্ণার্ত অনুভব করেন। যার কারণে হয়ত আপনি গ্লাসের পর গ্লাস বিয়ার খেতেই থাকেন। 

এটা সার্বজনীন যে, আমাদের শরীরে বিয়ারের অনেক ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে। তার মধ্যে একটা হল আপনার ভুঁড়ি বেড়ে যাবে। তবে বিয়ারের সাথে বাদাম খাওয়ার লোভ যদি সামলাতে না পারেন, তাহলে বিয়ারের পাশে সোডা অথবা পানি রাখুন যেটা আপনার পিপাসা মেটাতে সাহায্য করবে এবং অধিক পরিমাণে বিয়ার খাওয়া থেকেও আপনাকে বিরত রাখবে।  

এগুলো ছাড়াও আপনার যদি এমন কোন খাবারের কম্বিনেশন জানা থাকে যেগুলো একসঙ্গে খাওয়া খুবই অস্বাস্থ্যকর তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করুন।

আশা করি পোস্টটি আপনাদের ভালো লেগেছে। স্বাস্থ্য সম্পর্কিত যেকোনো তথ্য পেতে আমাদের ফেজবুক পেজে লাইক দিয়ে সাথেই থাকুন।

Categories
Foods

সৌন্দর্য চর্চায় অ্যালোভেরার ভূমিকা

প্রায় প্রতিদিনই বাইরে যেতে হয় নানা প্রয়োজনে। কিন্তু বাইরে বেরুলেই ধূলা-বালিতে ত্বকের অবস্থা শোচনীয় হয়ে যায়। ব্যস্ততার কারণে হয়তো পার্লারে গিয়ে ত্বকের যত্ন নেওয়ার সুযোগও হয়না। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ত্বকের যত্নে সবচেয়ে ভাল প্রাকৃতিক উপাদানের মধ্যে অ্যালোভেরা খুবই উপকারী।

আমাদের দেশে ঘৃতকুমারী নামেও এটি পরিচিত। আর ত্বককে সুন্দর রাখতে অ্যালোভেরার মতো প্রাকৃতিক উপাদান বেশি ব্যবহার করা উচিত কারণ প্রাকৃতিক উপাদানের কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই।

তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক ত্বকের যত্নে অ্যালোভেরার ভূমিকা কি এবং সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে অ্যালোভেরা কীভাবে ব্যবহার করবেন সে সম্পর্কে। 

প্রাকৃতিক স্ক্রাব

স্ক্রাব হিসেবে অ্যালোভেরা ব্যবহার করতে পারেন। বিশেষ করে শুষ্ক ত্বকের জন্য এটি খুবই কার্যকর। অ্যালোভেরার সঙ্গে দুধ, মসুর ডালের গুঁড়া, তুলসী পাতা, চন্দন ও গোলাপ পাপড়ি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। মিশ্রণটি দিয়ে ঘষে ঘষে ত্বক পরিষ্কার করুন। এতে করে মরা কোষ উঠে স্নিগ্ধ হবে ত্বক। তাই সপ্তাহে অন্তত ২ বার এই প্যাক ব্যবহার করুন। 

বলিরেখা দূর করে 

ত্বকের বলিরেখা দূর করার জন্য অ্যালোভেরার রস খুবই উপকারী। এজন্য শুকনো কমলালেবুর খোসার গুঁড়ো, চালের গুঁড়ো, মধু ও তুলসী পাতার মিশ্রণের সঙ্গে অ্যালোভেরা মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এই মিশ্রণটি ত্বকে লাগিয়ে রাখুন কিছুক্ষণ। এরপর শুকিয়ে গেলে ঠাণ্ডা পানির ঝাপটায় ধুয়ে ফেলুন। এভাবে নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বকের বলিরেখা দূর হবে এবং অল্প বয়সে বুড়িয়ে যাওয়া প্রতিরোধ হবে। 

প্রাকৃতিক নাইট ক্রিম

রাতে ক্ষতিকর নাইট ক্রিমের বদলে অ্যালোভেরা জেল লাগান। দেখবেন স্কিন গ্লো করছে মাত্র এক সপ্তাহে। যদি অ্যালোভেরা গাছের থেকে জেল নিয়ে মাখতে পারেন তাহলে সবচেয়ে ভালো ফল পাবেন।

কিন্তু অ্যালোভেরা গাছ না থাকলে, পতঞ্জলির অ্যালোভেরা জেলও ব্যবহার করতে পারেন। রাতে ঘুমোতে যাবার আগে ভালো করে মুখ ধুয়ে পুরো মুখে ভালোভাবে অ্যালোভেরার জেল লাগান। সকালে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। তবে ভালো ফলাফলের জন্য এটি সপ্তাহে সাত দিনই ব্যবহার করতে হবে। নিয়মিত ব্যবহার করতে বাড়িতেই লাগাতে পারেন অ্যালোভেরা গাছ। এতে প্রতিদিন তাজা পাতা পাওয়া যাবে।

সানবার্ন দূর করে

সানবার্ন থেকে রেহাই পেতে অ্যালোভেরার চেয়ে ভালো কোন সমাধান হতেই পারেনা। তাই ত্বকের রোদে পোড়া ভাব দূর করতে হোমমেড অ্যালোভেরার লোশন ব্যবহার করতে পারেন। সবচেয়ে ভালো হয় যদি অ্যালোভেরা জেল সরাসরি ত্বকে লাগাতে পারেন তাহলে। নিয়মিত ব্যবহারে নিমিষেই রোদে পোড়ার তামাটে রঙ দূর হয়ে যাবে।

ব্রণের যম

অ্যালোভেরার প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান ব্রণ সারাতে আর নুতন কোষ জন্মাতে খুবই কার্যকর। অ্যালোভেরার জেল আইস কিউব ট্রেতে করে অ্যালোভেরার আইস কিউব তৈরি করে এই কিউব দিনে দু তিনবার ব্রণ আক্রান্ত স্থানে ঘষলে ব্রণের সমস্যার সমাধান হবে।

ক্ষত সারাতে ওস্তাদ

অ্যালোভেরার অ্যান্টিসেপটিক গুনাগুনও উল্লেখযোগ্য। অ্যালোভেরার পাতার জেল বের ফ্রিজে রাখুন আর অল্প কেটে গেলে বা ক্ষত হলে সাথে সাথে ফ্রিজ থেকে কিউব বের করে লাগান। দিনে দুই বা তিন বার লাগালেই ক্ষত দ্রুত সেরে উঠবে।

চুলের যত্নে অ্যালোভেরা

ত্বকের পাশাপাশি চুলের জন্য অ্যালোভেরা অনেক দরকারি। অ্যালোভেরা ব্যবহারে মাথার ত্বকের পি এইচ ঠিক থাকে আর খুশকিও দূর হয়। ২ঃ১ অনুপাতে  অ্যালোভেরা জেল আর ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে মাথার ত্বকে লাগিয়ে সারা রাত রেখে সকালে শ্যাম্পু করতে হবে। এতে করে চুল খুশকি মুক্ত থাকবে।

ঠোঁটের রঙ উজ্জ্বল করে

ঠোঁটের রঙ উজ্জ্বল রাখতে, ঠোঁট নরম আর মসৃণ করতে অ্যালোভেরা ব্যবহার করা যায়। নিয়মিত অ্যালোভেরা জেল ঠোঁটে লাগালেই ঠোঁট উজ্জ্বল হবে। এক টেবিল চামচ চালের গুঁড়া আর অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে আস্তে আস্তে এই মিশ্রণ ঠোঁটে ঘষে লাগিয়ে ৫ মিনিট পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এরকমভাবে কিছুদিন করলে দেখতেই পারবেন ঠোঁট কত উজ্জ্বল, মসৃণ এবং কোমল হয়ে ওঠে।

ত্বকের ইনফেকশন দূর করে

পোকামাকড়ের কামড় অথবা ইনফেকশন দূর করতে পারে অ্যালোভেরা। এজন্য অ্যালোভেরা জেল আক্রান্ত স্থানে কিছুক্ষণ ঘষে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। 

ত্বক উজ্জ্বল করে 

নিয়মিত অ্যালোভেরার জুস পান করলে ত্বক থাকে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল। এছাড়া অ্যালোভেরা জেল সরাসরি ত্বকে লাগালেও ত্বক হবে উজ্জ্বল ও সুন্দর। 

ত্বকের লালচে ভাব দূর করে 

ত্বকের লালচে ভাব দূর করতে ময়েশ্চারাইজার অথবা ক্রিমের সঙ্গে অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে নিয়মিত ব্যবহার করুন। এতে করে ত্বকের লালচে ভাব দূর হয়ে ত্বক হবে প্রানবন্ত।

শুষ্ক ত্বকের যত্নে

রুক্ষ ও প্রানহীন ত্বকের যত্নে অ্যালোভেরা অনন্য। ত্বকে প্রতিদিন অ্যালোভেরা জেল ম্যাসাজ করুন। ত্বকের পিএইচ লেভেল নিয়ন্ত্রণ করে ত্বক সুস্থ রাখবে এটি। অ্যালোভেরার রস মুখে লাগিয়ে শুকিয়ে গেলে এভাবেই ঘুমিয়ে পড়তে পারেন।

সারারাত অ্যালোভেরার রস ত্বকের নানা সমস্যা দূর করতে ভূমিকা রাখবে। তবে তুলো বা সুতি কাপড় ছাড়া অন্যকিছু দিয়ে ত্বকে অ্যালোভেরা লাগানো ঠিক নয়। তাতে অ্যালার্জী হওয়ার ঝুকি তৈরি হয়। শুধু মুখের জন্য নয়, পুরো শরীরে ব্যবহার করা যায় অ্যালোভেরা।

এক্ষেত্রে সাবধানতা হলো, অ্যালোভেরার রস ত্বকে লাগিয়ে রোদে যাওয়া যাবে না। তাতে উল্টো ত্বকের ক্ষতি হতে পারে।

আশা করি পোস্টটি আপনাদের ভালো লেগেছে। স্বাস্থ্য সম্পর্কিত যেকোনো তথ্য পেতে আমাদের ফেজবুক পেজে লাইক দিয়ে সাথেই থাকুন।