Categories
Uncategorized

কোমরের ব্যথা দূর করার জাদুকরী উপায়

কোমরের ব্যথা কমবেশি সব মানুষের হয়। এই ব্যথা যুবক থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সেই হতে পারে। গবেষণায় বলা হয়, বিশ্বের ৭০ থেকে ৮০ ভাগ প্রাপ্তবয়স্ক লোক জীবনে কখনও না কখনও এ ব্যথায় আক্রান্ত হয়। শুরু থেকে কোমরের ব্যথা নির্মূল করতে না পারলে রোগীকে ভবিষ্যতে বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।

তাই চলুন জেনে নেওয়া যাক কীভাবে এই কোমরের ব্যথা প্রতিরোধ করা যায় এবং এর কিছু ঘরোয়া সমাধান সম্পর্কে। 

বরফের সেঁক দিন

কোমরের ব্যথায় বরফের সেঁক ভীষণ কাজ করে। তবে মনে রাখা জরুরি যে এটা কোন স্থায়ী সমাধান নয়। বরফের সেঁক দ্বারা সাময়িক ব্যথা কমানো সম্ভব। এর জন্য একটি পরিষ্কার তোয়ালে নিয়ে তাতে কয়েক টুকরো বরফ পেঁচিয়ে ব্যথার স্থানে ১৫-২০ মিনিট সেঁক দিতে হবে। আইস ব্যাগ ব্যবহার করেও সেঁক দিতে পারেন। এভাবে দিনে কয়েকবার দিন। তবে বরফের সেঁক ছাড়াও অনেকের গরম পানিতে তোয়ালে ভিজিয়ে সেঁক দিলেও কাজ হয়। 

বসার ভঙ্গি পরিবর্তন করুন 

Right Sitting Position

মানুষের বসার ভঙ্গি অনেক সময় তার কোমর ব্যথার জন্য দায়ী হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় চেয়ারে বসলে মানুষ তার স্বাভাবিক গঠন ধরে রাখতে পারেনা এবং কিছুটা কোমর ভাজ করে এলিয়ে বসে যেটা কোমর ব্যথার একটা বড় কারণ।

তাই চেয়ারে বসার সময় প্রথমে কোমর, তারপর বুক এবং সব শেষে কাঁধ ও ঘাড় সোজা করে বসুন। এই ভঙ্গিতে সহজ এবং আরামদায়কভাবে বসার চেষ্টা করুন। এটা শুধু কোমর ব্যথা নয়, বার্ধ্যকের কুঁজিয়ে যাওয়া সমস্যাও প্রতিরোধ করে। এইভাবে অফিসে কাজ, পড়া এবং হাঁটার অভ্যাস করুন।

বিশ্রামের পরিমাণ কমিয়ে দিন

অনেকসময় দীর্ঘক্ষন ঘুম এবং অতিরিক্ত শুয়ে বসে থাকার কারনেও কোমর ব্যথা হতে পারে। তাই প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ ঘুমান এবং যথাসম্ভব কাজের ভেতর থাকার চেষ্টা করুন। এতে করে আপনার কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং কোমর ব্যথা থেকেও দূরে থাকতে পারবেন। আর কখনো ঘুম থেকে উঠে কোমরে ব্যথা অনুভব করলে সাথে সাথে উঠেই কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করুন। এছাড়াও পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশ্রাম নিন, বেশিও না আবার কমও না। 

নিয়মিত ব্যায়াম করুন

প্রতিদিন অল্প করেও হলেও ব্যায়াম করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। নিয়মিত ব্যায়াম করলে পেশি শক্তিশালী হয়। এছাড়াও অনেক সময় পেশিতে টান লাগার ফলে কোমর ব্যথা হতে পারে। তাই প্রতিদিন ব্যায়াম করলে পেশি সচল থাকে, দেহের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায় এবং টান লাগার কোন সম্ভাবনা থাকেনা। এজন্য প্রতিদিন ১৫-২০ মিনিট ব্যায়াম করুন।

যেসব খাবার কোমরের ব্যথা দূর করতে সাহায্য করে

আদা

আদাতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে। এই পটাশিয়ামের অভাবের ফলে নার্ভের সমস্যা দেখা দেয়। প্রতিদিন নিয়মিত আদা খেলে কোমরের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।

হলুদ

হলুদের গুনের কথা আমরা কমবেশি সবাই জানি। ত্বকের ক্ষেত্রে হলুদ মিশ্রিত দুধ যেমন উপকারী ঠিক তেমনি কোমরের ব্যথা দূর করতেও গুরুত্বপুর্ন ভূমিকা পালন করে। তাই আপনি যদি কোমর ব্যথায় ভুগে থাকেন তাহলে আজ থেকেই নিয়মিত রাতে হলুদ মিশ্রিত দুধ খাওয়ার চেষ্টা করুন। 

মেথি বীজ

মেথির নানাবিধ গুনের কথা সকলেরই জানা। কিন্তু কোমর ব্যথা দূর করতে এর বীজের কার্যকারিতার কথা সবাই জানেনা। তাই মেথি বীজের গুড়ো, দুধের সঙ্গে মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন। নিয়মিত ব্যথার জায়গায় এই মিশ্রণ লাগালে উপকার পাবেন।

লেবুর শরবত

লেবুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে। ভিটামিন সি যন্ত্রণা উপশমে খুবই কার্যকারী। তবে লেবুর শরবতে চিনি দেওয়া যাবেনা। 

অ্যালোভেরা

প্রতিদিন নিয়ম করে অ্যালোভেরার জুস খেলেও কোমরের ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন

পেইনকিলার খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে মোটেই ভালো নয়। এর চেয়ে কোমরে ব্যথানাশক ক্রিম অথবা মলম ম্যাসাজ করতে পারেন যেটা বেশ কার্যকরও বটে। তবে যথাসম্ভব ব্যথানাশক স্প্রে-এর ব্যবহার এড়িয়ে চলুন। এটি দ্রুত ব্যথা হ্রাস করে ঠিকই কিন্তু এটা কোন স্থায়ী সমাধান নয়।

এছাড়াও ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেশিয়াম জাতীয় খাদ্য যেমন – প্রতিদিন নিয়ম করে দুধ, ঘি, চিজ, ফল, শাকসবজি, বাদাম ইত্যাদি খেলে কোমরের ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

আশা করি পোস্টটি আপনাদের ভালো লেগেছে। স্বাস্থ্য সম্পর্কিত যেকোনো তথ্য পেতে আমাদের ফেজবুক পেজে লাইক দিয়ে সাথেই থাকুন।

Categories
Uncategorized

৫টি খাবার যা অস্বাস্থ্যকর মনে হলেও শরীরের জন্য উপকারী!

আপনি হয়ত স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করতে চাচ্ছেন কিন্তু আপনার চোখ বারবারই চকলেট আর পাস্তার দিকে যাচ্ছে, যেগুলো আপনার ডায়েটের অন্তর্ভুক্ত নয়! কিন্তু যে খাবারগুলো সারাজীবন জেনে আসছেন অস্বাস্থ্যকর সেগুলোতেই যদি স্বাস্থ্যকর কিছু লুকিয়ে থাকে তাহলে কেমন হয়? হ্যা, ঠিক শুনেছেন!

তবে চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন কয়েকটি খাবারের কথা যেগুলো অস্বাস্থ্যকর হওয়া সত্ত্বেও আপনার শরীরের জন্য খুবই উপকারী।

১। ক্যান্ড ভেজিটেবলস (Canned Vegetables)

ক্যান্ড ভেজিটেবলস

প্রথমেই আসি ক্যান্ড ভেজিটেবলসের কথায়। এগুলো খুবই সহজলভ্য এবং এগুলো খেয়ে খুব সহজেই আপনি প্রতিদিনকার শাকসবজির চাহিদা মিটিয়ে ফেলতে পারেন। কিন্তু সেই জন্মলগ্ন থেকেই হয়ত শুনে আসছেন যে কৌটাজাত করা সবজি স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয় এবং এর পরিবর্তে তাজা শাকসবজি খেতে হবে, তাই না? কারণ ওগুলোতে নাকি কোন পুষ্টিগুণই থাকেনা। কিন্তু এমন কিছু কিছু কৌটাজাত সবজি আছে যেগুলো আপনাকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি এবং ভিটামিন সরবরাহ করতে পারে।

২০১৪ সালে আমেরিকান জার্নাল অব মেডিসিনের একটা গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, ক্যান্ড ভেজিটেবলস তাজা শাকসবজির মতই পুষ্টিকর। তবে ক্ষতিকর সেগুলো যাতে লবণ এবং অন্যান্য জিনিস মেশানো থাকে। তাই স্বাস্থ্যকর কৌটাজাত সবজি বেছে নিতে খেয়াল রাখুন যেন এতে সোডিয়াম এবং লবণ অ্যাড করা না থাকে।

২। ডার্ক চকলেট

চকলেট এমন একটা জিনিস যেটা দেখে ছোট বড় সবারই লোভ লাগে। কিন্তু সেই ছোটবেলা থেকেই হয়ত শুনে আসছেন যে চকলেট খাওয়া যাবেনা দাঁতে পোকা লাগবে!

তবে অনেকেই হয়ত এখনো জানেন না যে, চকলেট আপনার ব্রেইন, হার্ট এবং মন ভালো রাখতে কতটা কার্যকরী। তাই বলে ভেবে বসবেন না যে ১০ টাকার চকলেট খেলেই আপনার বুদ্ধি খুলে যাবে! এতে বরং আরও উল্টোটা হবে। ডার্ক চকলেট অথবা এমন কোন চকলেট যাতে চিনির পরিমাণ কম, সেটাই আপনার জন্য সবথেকে উপকারী।

২০১০ সালে অস্ট্রেলিয়ার সুইসবার্ন ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, চকলেট আপনার রক্তপ্রবাহ ঠিক রাখে কারণ কোকোয়াতে থাকা পলিফেনল রক্তে কোলেস্টেরলের লেভেল নিয়ন্ত্রণে রাখে। তাই এখন থেকে চিনিতে পরিপূর্ণ চকলেট বারের পরিবর্তে ডার্ক চকলেট খাওয়া শুরু করুন।

৩। স্মুদি অথবা মিল্ক শেক

মিল্ক শেক

স্মুদি অথবা মিল্ক শেক খেতে যারা পছন্দ করেন, শপিং মলে গেলে তারা হয়ত এটা না খেয়ে বাসায় ফিরতে চাইবেন না। তবে এই ধরণের বাইরের স্মুদি খেলে আপনি প্রতিদিনের প্রয়োজনের তুলনায় অধিক পরিমাণে চিনি খেয়ে ফেলেন কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্মুদিকে সুস্বাদু করতে বিক্রেতারা এতে দুধ, ক্রিম বা আইসক্রিম মিশিয়ে থাকেন।

তাই এরপর থেকে বাইরে স্মুদি খেতে গেলে অবশ্যই বলে দিবেন যেন তা চিনি ছাড়া হয় এবং ১০০% ফল দিয়ে বানিয়ে দেওয়া হয়। তবে সাথে চাইলে টক দই যোগ করে দিতে পারেন। এতে আপনার স্মুদি খাওয়ার ইচ্ছাও পূরণ হবে আবার এর থেকে অনেক প্রয়োজনীয় পুষ্টিও পেয়ে যাবেন। তাই সবথেকে ভালো হয় যদি আপনি বাড়িতেই স্মুদি বানিয়ে খেতে পারেন।

তবে খেয়াল রাখবেন অতিরিক্ত পরিমাণে ফল খেলে কিন্তু আপনার ওজন বেড়ে যেতে পারে কারণ ফল প্রাকৃতিকভাবেই অনেক মিষ্টি হয়। কলা এবং আপেলের মত ফল নিয়মিত খেতে থাকলে রক্তে সুগারের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে।

৪। পাস্তা (Pasta)

অনেকের ফাস্টফুডের পছন্দের তালিকায় হয়ত পাস্তা শীর্ষে রয়েছে। তবে যদি ডায়েটে থাকেন এবং কার্বোহাইড্রেটের কথা চিন্তা করে থাকেন তাহলে হয়ত পাস্তার বাটি সামনে রেখে এতদিন কান্না করা ছাড়া আর কোন পথ ছিলনা!! কিন্তু আজ থেকে চোখের পানি মুছে ফেলুন কারণ পাস্তাকে আপনি যতটা ক্ষতিকর মনে করেন এটা ততটাও ক্ষতিকর নয়।

বরং ২০০৬ সালে ১৪০০০ স্টুডেন্টের একটা গবেষণায় উঠে এসেছে যে যারা নিয়মিত পাস্তা খায় তারা খুব সহজেই হেলদি এবং ব্যালান্সড ডায়েট মেইন্টেইন করতে পারে। তবে যদি পাস্তায় প্রচুর পরিমাণে চিজ এবং টেস্টি সস অ্যাড করে খাওয়া হয় তখন তা অস্বাস্থ্যকর হয়ে যায়। তাই নিয়মিত পাস্তা খেলে অবশ্যই ভেজিটেবল বেসড সস এবং প্রচুর পরিমাণে সবজি মিশিয়ে খান।

৫। কফি (Coffee)

কফি

পুরো দুনিয়াজুড়ে কফি খুবই প্রচলিত একটি পানীয়। এবং শতাব্দীর পর শতাব্দী, মানুষের এটি খেয়ে আসার পেছনে অনেক কারণ রয়েছে। কফির অনেক ধরণের স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। এটা একদিকে যেমন লিভারের কার্যক্রম চলমান রাখতে সাহায্য করে অপরদিকে স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দেয়। কিন্তু যদি আপনি প্রতিদিন দুইকাপ কফি খেতে থাকেন তাহলে কিভাবে বুঝবেন যে এটা আপনার কোন ক্ষতি করছে কি না?

তবে আমেরিকান ডায়েটারি গাইডলাইন বলছে, একজন পূর্ণবয়স্কের জন্য প্রতিদিন ৩-৫ কাপ পর্যন্ত কফি খাওয়া ঠিক আছে যতক্ষণ পর্যন্ত একজন ব্যাক্তি ৪০০ মিলিগ্রামের বেশি ক্যাফেইন না খেয়ে ফেলছে। তবে কফি খাওয়া আপনার জন্য ক্ষতিকর হয়ে যাবে তখনই যখন আপনি এতে চিনি, ক্রিম বা অন্য কোন মিষ্টিজাতীয় কিছু মিশিয়ে খাবেন। 

আপনার যদি আরও কোন এমন খাবারের কথা জানা থাকে যেগুলো অস্বাস্থ্যকর হলেও উপকারী তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।

Categories
Uncategorized

৫টি স্বাস্থ্যকর জুসের রেসিপি যা আপনি ১  মিনিটেই বানিয়ে ফেলতে পারবেন

প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হোমমেড পানীয়গুলো সবসময়ই যেকোনো সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে থাকে। এমনকি ওজন বাড়ানোর সমস্যা থেকে শুরু করে ব্রণের সমস্যা পর্যন্ত সমাধান করে থাকে। ইন্টারনেটে একটু সার্চ করলেই এতো এতো রেসিপি পাবেন যে কনফিউজড হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক। তাই আজকের পোস্টে এমন ৫টি জুসের রেসিপি জানতে পারবেন যেটা আপনার স্বাস্থ্য পরিবর্তন করে দিতে যথেষ্ট।

১। কলা এবং ওটমিলের স্মুদি

কলা এবং ওটমিলের স্মুদি

প্রতিদিন সকালটা পজিটিভভাবে শুরু করা খুবই জরুরি। তাই সকালের নাস্তায় সুস্বাদু ও হাই প্রোটিনসমৃদ্ধ কলা এবং ওটমিলের স্মুদি হতে পারে আপনার নিত্য দিনের সঙ্গী। কলার মতো এতো গুণসম্পন্ন সহজলভ্য ও সস্তা ফল হয়ত আর দ্বিতীয়টি হয়না। এটি রক্তে চিনির মাত্রা ঠিক রাখে, হার্টকে সুস্থ রাখে, খাবার পরিপাকে সাহায্য করে এবং আপনাকে সারাদিন অ্যাক্টিভ থাকতে সাহায্য করে।

ওটমিলেও রয়েছে শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু উপাদান যেমন- ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম, জিংক এবং ভিটামিন বি1 ও বি5 । এছাড়াও স্মুদিকে আরও টেস্টি করে তুলতে এতে একটু কমলার রসও যোগ করতে পারেন যা থেকে ভিটামিন সি ও পেয়ে যাবেন। আর এটি শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং ডিটক্সিফাই করতে সাহায্য করে।

এই স্মুদি তৈরি করতে আপনার লাগবে ১ কাপ লো ফ্যাট দুধ, ১ কাপ কমলার রস, একটা মিডিয়াম সাইজ কলা এবং এক বাটি ইনস্ট্যান্ট ওটমিল। তবে চাইলে সাথে কিছু বরফের কুচিও যোগ করতে পারেন। সবকিছু একসঙ্গে ব্লেন্ড করলেই আপনার স্মুদি তৈরি হয়ে যাবে। প্রতিদিন এটা খাওয়া শুরু করুন আর নিজেই নিজের ভেতরের পরিবর্তন লক্ষ্য করতে পারবেন। 

২। তরমুজ এবং শশার জুস

তরমুজ এবং শশার জুস

গুরুত্বপূর্ণ কাজের সময় মাথা ব্যথা বা মাইগ্রেনের সমস্যা দেখা দিলে সেটা খুবই বিরক্তিকর লাগে। আর এটাই সবথেকে উপযুক্ত সময় তরমুজ এবং শশার জুস খাওয়ার।

এই জুসটি বানানোর জন্য আপনার লাগবে অর্ধেক তরমুজ, অর্ধেক শশা, ১ টেবিল চামচ মধু এবং ২টি পুদিনা পাতা। তরমুজের বিচি ফেলে দিয়ে ছোট ছোট টুকরো করে কাটুন এবং শশারও বিচি ফেলে দিয়ে ছোট করে কেটে নিন। সবগুলো উপকরণ একসঙ্গে ব্লেন্ড করলেই তৈরি হয়ে যাবে সুস্বাদু জুস। সাথে কিছু বরফের টুকরোও যোগ করতে পারেন।

তরমুজে প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে সাথে পটাসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়ামও আছে। এগুলো আপনাকে হাইড্রেট রাখে এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ সিস্টেমকে সচল রাখে।

এছাড়াও শশাতে ৯৬% পানি থাকে এবং সাথে ভিটামিন বি ও ইলেক্ট্রোলাইটস থাকে যেটা আপনার মাথা ব্যথা কমানোর জন্য পর্যাপ্ত পুস্টিউপাদান সরবরাহ করে থাকে। মধুতে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি উপাদান ইনস্ট্যান্টলি মাথা ব্যথা কমাতে সাহায্য করে এমনকি মাইগ্রেনের ব্যথাও ভ্যানিশ করে দেয়। তাই আপনি যদি প্রায়শই মাথা ব্যথার সমস্যাই ভুগে থাকেন তাহলে নিয়মিত এই জুস পান করা শুরু করুন। 

৩। টমেটো, শশা এবং গাজরের জুস 

ঘন, কালো, লম্বা চুল পাওয়া যেকোনো মেয়েরই স্বপ্ন। তবে অধিকাংশ মানুষ যে ভুলটি করে থাকে তাহল- ভেতর থেকে যত্ন নেওয়ার পরিবর্তে শুধুমাত্র বাইরে থেকেই চুলের যত্ন নিয়ে থাকে। তাই এক্ষেত্রে টমেটো, শশা এবং গাজরের জুস হতে পারে আপনার পরম বন্ধু।

টমেটোতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, বি, সি এবং ই থাকে যেটা চুলের বৃদ্ধির জন্য প্রভাবক হিসাবে কাজ করে। এছাড়াও খুশকি দূর করতে, চুল পড়া কমাতে এবং মাথার তালুর গন্ধ দূর করতে এগুলো খুবই দরকারি। দ্রুত ফল পেতে প্রতিদিন টমেটো খেতেও পারেন আবার হেয়ার মাস্ক তৈরি করে চুলে মাখতেও পারেন।

চুলের বৃদ্ধির জন্য গাজরও খুব উপকারী কারণ এতেও ম্যাগনেসিয়াম এবং ফসফরাস ছাড়াও ভিটামিন বি, সি এবং ই থাকে যা মাথার ত্বকের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে যেটা প্রাকৃতিকভাবে চুল বেড়ে ওঠার জন্য খুবই প্রয়োজনীয়।

বিশেষজ্ঞরা বলেন যে, নিয়মিত গাজর খেলে অকালে চুল পেকে যাওয়া রোধ হয়। আর শশার উপকারিতা তো আগেই জেনেছেন। ৪টি গাজর, ১টি শশা এবং ১টি টমেটো একসঙ্গে ব্লেন্ড করে প্রতিদিন খাওয়ার চেষ্টা করুন। 

৪। বিট কপি আর গাজরের জুস

বিট কপি আর গাজরের জুস

আমাদের মধ্যে অনেকেরই ব্রণের সমস্যা খুবই সাধারণ একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর আপনিও যদি এই সমস্যাই ভুগে থাকেন তাহলে বিট কপি আর গাজরের জুস হতে পারে আপনার জন্য লাইফ সেভিং ড্রিংক।

অর্ধেক লেবুর রস, ২কাপ গাজর কুচি, ১টি ছোট আপেল, ১টি লাল রঙের বিট কপি এবং অল্প পরিমাণ আদা কুচি একসঙ্গে ব্লেন্ড করে জুস বানিয়ে খেয়ে নিন।

সপ্তাহ ৩দিন এই জুস খেলে আপনার ত্বক হয়ে উঠবে উজ্জ্বল ও আকর্ষণীয়। লেবুতে থাকা ভিটামিন সি ফ্রি র‍্যাডিকেলের বিরুদ্ধে লড়াই করে যেটা শরীরে কোলাজেন উৎপাদনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিট কপিতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ত্বকের বলিরেখা দূর করে বয়সের ছাপ পড়তে দেয়না। 

৫। জাম্বুরা এবং শশার জুস

জাম্বুরা এবং শশার জুস

আজকের যুগে ওজন নিয়ে চিন্তা করেন না এমন লোক হয়ত খুঁজে পাওয়া যাবেনা। আর জাম্বুরা এবং শশার জুস সেক্ষেত্রে আপনার পরম বন্ধু হতে পারে! জাম্বুরা বা মোসম্বিলেবুতে এক ধরণের এনজাইম থাকে যেটার নাম এ এম পি- অ্যাক্টিভেটেড প্রোটিন কাইনেজ। এই এনজাইম আপনার শরীরের চিনি প্রক্রিয়াকরণ এবং বিপাকে সাহায্য করে। যার ফলে ক্যালরি দ্রুত ক্ষয় হয়।

অন্যদিকে শশা লিভারকে ডিটক্সিফাই করে এবং আপনার শরীরকে সতেজ রাখে। এই জুসটি তৈরি করতে ১টি মিডিয়াম সাইজের জাম্বুরা নিন, অর্ধেক শশা টুকরো করে কেটে নিন, অর্ধেক লেবু এবং কিছু পুদিনা পাতা নিন। সবগুলো উপকরণ ব্লেন্ডারে ঢেলে দিন আর সাথে এক কাপ পানি দিয়ে ব্লেন্ড করুন। তৈরি হয়ে গেলো মজাদার ওয়েট লস ড্রিংক। 

আপনি তাহলে কোন ড্রিংকটি বেঁছে নিচ্ছেন? অবশ্যই আমাদের কমেন্ট করে জানান।

Categories
Uncategorized

রাতে ঘুমানোর আগে এই ৭টি অভ্যাস আপনার ওজন কমাতে সাহায্য করবে

রাতে ঘুমানোর সময় আপনার দেহ ৩০০-৪০০ ক্যালরি ক্ষয় করে থাকে যেটা টানা এক ঘণ্টা দৌড়ালে যে পরিমাণ শক্তি ক্ষয় হয় তার সমান। বিশেষজ্ঞরা দাবি করেন যে, শারীরিক অনুশীলনের মতো মানসম্পন্ন ঘুমও ওজন হ্রাসে অবদান রাখতে পারে। আপনি যদি নিজের জীবনেও এর কার্যকারিতা দেখতে চান তাহলে ঘুমানোর সময় নির্দিষ্ট কিছু অভ্যাস মেনে চলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যা ঘুমের মধ্যে আপনার বিপাক প্রক্রিয়াকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।

তাই Health বার্তা টিম আজকে আপনার সামনে এমন কিছু অভ্যাসের কথা তুলে ধরবে যা ওজন কমাতে আপনার খুবই উপকারী মনে হবে।

ঘুমের আগে এই অভ্যাসগুলো আপনার ওজন কমাতে সাহায্য করবে

১। ঠাণ্ডা পরিবেশে ঘুমান

বিপাক বাড়ানোর জন্য বিশেষজ্ঞরা রাতে আপনার শোবার ঘরের তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড (৬৪.৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট) রাখার পরামর্শ দেন। গবেষণায় দেখা গেছে যে, ঠাণ্ডা পরিবেশ শরীরের ধূসরবর্ণের ফ্যাটি কোষগুলিকে সক্রিয় করে, যা থার্মোরোগুলেশনের জন্য দায়ী। আপনি যখন ঠান্ডা ঘরে ঘুমাচ্ছেন বা নগ্ন হয়ে ঘুমান, আপনার শরীর তাপ বজায় রাখতে আরও শক্তি পোড়াতে শুরু করে। একারণেই সকালে ঘুম থেকে উঠে আপনার নিজেকে রাতের চেয়ে বেশি পাতলা মনে হবে।

২। বেশি বেশি আঙ্গুরের জুস খান

আঙ্গুরের রসে রেসভেরাট্রোল নামক একটি বিশেষ উপাদান রয়েছে যার কারণে এটি ক্যালরি বার্ন করতে সহায়তা করে। এটি শরীরের জন্য ক্ষতিকর সাদা ফ্যাটকে বেইজ ফ্যাটে রূপান্তর করে। আপনি যখন ঘুমাবেন, আপনার শরীর আপনাকে উষ্ণ রাখার জন্য বেইজ ফ্যাট ব্যবহার করে।

সুতরাং, আপনি বিছানায় যাওয়ার আগে এক কাপ আঙ্গুরের রস খেলে অতিরিক্ত গ্রীস আপনার শরীরে জমাট বাঁধার পরিবর্তে তা থেকে মুক্তি দিবে। অতিরিক্ত চিনি খাওয়া এড়িয়ে চলতে তাজা ফলের জুস খান। এবং এটি বাড়িতে বানিয়ে খাওয়াই উত্তম কারণ বাজারের কেনা জুসে বেশি পরিমাণে অ্যাডেড সুগার থাকে যেটা শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর।

৩। সুনিদ্রিস্ট সময়ে ঘুমাতে যান এবং সকালে একই সময়ে উঠুন

গবেষণা বলছে, অনিয়ন্ত্রিত ঘুমের সময়সূচী অতিরিক্ত ওজন বাড়ানোর সাথে যুক্ত। সাধারণত হরমোন মেলাটোনিন আমাদের কখন বিছানায় যেতে হবে তা বলে থাকে। এটি বেইজ ফ্যাট কোষগুলিকে সক্রিয় করতে সাহায্য করে যা ক্যালরি বার্ন করতে সহায়তা করে। আপনি যদি অনিয়ন্ত্রিতভাবে ঘুমান তাহলে এটি আপনার মেলাটোনিন উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটায় এবং আপনি শান্তিপূর্ণ ঘুম থেকে নিজেকে বঞ্চিত করেন।

ফলস্বরূপ, আপনি সকালে ক্লান্তি বোধ করেন এবং আপনার শক্তি বাড়ানোর জন্য উচ্চ-ক্যালরিযুক্ত স্ন্যাকস খেতে চান। এই সমস্যা এড়িয়ে চলতে প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যান এবং একই সময়ে ঘুম থেকে উঠুন।

৪। বেশি করে প্রোটিনযুক্ত স্নাক্স খান

ঘুমাতে যাওয়ার আগে স্নাক্স খাওয়া দোষের কিছু নয় যদি আপনি সঠিক খাবার নির্বাচন করতে পারেন। এজন্য উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার বেছে নিন যেমন- টক দই, লো-ফ্যাটের কটেজ চিজ, পি-নাট বাটার ইত্যাদি। এগুলো আপনার বিপাক প্রক্রিয়াকে বৃদ্ধি করবে এবং মাংসপেশিতে শক্তি যোগাবে।

৫। ঘুমানোর আগে ব্যায়াম করুন

ঘুমানোর আগে শরীরচর্চা হচ্ছে মানসিক চাপ ঝেড়ে ফেলা ও মেটাবোলিজম রেট বৃদ্ধি করার সেরা উপায়। কার্ডিও এবং এ্যারোবিক উভয় ব্যায়ামই বেশ উপকারী তবে যে ব্যায়ামগুলোতে কষ্ট বেশি সেগুলো মেদ কমাতেও বেশি কার্যকর।

রাতে সাঁতার কাটা কিংবা ওয়েট উত্তোলন করা আপনার ভালো ঘুম হওয়ার একটি উত্তম উপায়। আর এগুলোর জন্য আপনাকে বেশি পরিশ্রম করা লাগে না আবার রাতে আপনার ঘুমও ভালো হয়।

৬। হারবাল চা পান করুন

কিছু নির্দিষ্ট চা আপনাকে ওজন কমাতে সাহায্য করে। তবে না, আমরা সেই ধরণের চা এর কথা বলছিনা যেগুলো আপনাকে রাতারাতি মেদ কমানোর আশ্বাস দিয়ে থাকে। প্রাকৃতিক হারবাল চা সত্যিই অনেক বেশি উপকারী এবং এটি বিভিন্ন ভাবে আপনার শরীরকে ফিট রাখতে সাহায্য করে। দারচিনি প্রদাহ দূর করে এবং সকালে বমি বমি ভাব হওয়া প্রতিরোধ করে। মেন্থল ক্ষুধা হ্রাস করে এবং স্নাক্সের প্রতি আপনার আগ্রহ কমায়। ক্যামোমাইল হজমে সাহায্য করে এবং আপনার স্নায়ু শিথিল রাখে।

আপনি যদি আজ থেকেই এই টিপসগুলো মেনে চলা শুরু করেন তবে একমাসের মধ্যেই নিশ্চিত ফল পাবেন। তবে যদি আপনি ব্যায়াম না করেন ও স্বাস্থ্যকর খাবার না খান তবে কোনভাবেই আপনি এগুলো থেকে অলৌকিক কিছু আশা করতে পারবেন না।

Categories
Uncategorized

অ্যাপল সিডার ভিনেগার কতদিন ব্যবহার করা যাবে?

রান্নায় এবং বেকিং করতে প্রায় আমরা অ্যাপল সিডার ভিনেগার ব্যবহার করে থাকি। মাংস মেরিনেড করা এবং সালাদ ড্রেসিং-ও বাদ যায়না। 

অ্যাপল সিডার ভিনেগার তৈরি করতে আপেল কুচি কুচি করে কেটে পানিতে ডুবিয়ে গাজন প্রক্রিয়ায় ইথানলে রুপান্তর করা হয়। প্রাকৃতিক ব্যাকটেরিয়া এই ইথানলকে এসিটিক এসিডে রুপান্তর করে, যেটা ভিনেগার তৈরির প্রধান উপাদান।  

যেকোন একটি কাজে বা রান্নায় একবারে পুরো এক বোতল অ্যাপল সিডার ভিনেগার শেষ করে ফেলা সম্ভব নয়। তাই স্বভাবতই আপনার মনে একটা প্রশ্ন জাগতেই পারে যে, এই এক বোতল ভিনেগার আসলে কতদিন ব্যবহার করা যাবে? অর্থাৎ এর শেলফ লাইফ বা মেয়াদ কতদিন। 

আজকে আমরা এসব বিষয় নিয়েই আলোচনা করব যে আসলে অ্যাপল সিডার ভিনেগার কতদিন ব্যবহার করা যাবে, কোন ভিনেগার আপনার শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতি বয়ে আনতে পারে এবং এটা ঠিকভাবে সংরক্ষণ করার কিছু উপায় সম্পর্কে।

শেলফ লাইফ এবং যথাযথভাবে সংরক্ষনের উপায় 

ভিনেগারের অম্লীয় স্বাদ একে নিজের থেকেই সংরক্ষনের ক্ষমতা প্রদান করে যার অর্থ এটা কোনদিন টক হবেনা বা মেয়াদউত্তীর্ন হবেনা। 

কোন পদার্থের পি এইচ (pH) স্কেলের উপর নির্ভর করে নির্ধারন করা হয় যে এটা আসলে কতটা অম্লীয় বা এসিডিক যার মাত্রা ০-১৪। পি এইচ (pH) এর মান ৭ এর নিচে হলে সেগুলো অম্লীয় এবং ৭ এর উপরে হলে তা ক্ষারীয়। অ্যাপল সিডার ভিনেগারের প্রধান উপাদান এসিটিক এসিড যেটার পি এইচের (pH) মান ২-৩ এর মধ্যে অর্থাৎ এটা যথেষ্ট পরিমাণে অম্লীয়।

ভিনেগারে থাকা প্রাকৃতিক অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান এর শেলফ লাইফ বাড়িয়ে দেয়। প্রকৃতপক্ষে ভিনেগার, ই-কোলাই (E. coli), স্টাফিলোকক্কাস অরিয়াস (Staphylococcus aureus) এবং ক্যান্ডিডা অ্যালবিকানস (Candida albicans) নামক জীবানুদের দ্বারা ঘটিত সংক্রমণ রোধ করে এবং আপনাকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

এক গবেষণায় পাওয়া গিয়েছে যে, কফি, সোডা, চা, জুস এবং অলিভ অয়েলের তুলনায় ভিনেগারের অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান সবচেয়ে বেশি এবং শক্তিশালী। 

অ্যাপল সিডার ভিনেগার সংরক্ষনের সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে এয়ার টাইট কন্টেইনারে রেখে কোন ঠাণ্ডা এবং অন্ধকার স্থানে রাখতে হবে যেখানে সুর্যের আলো পৌছায় না যেমন- রান্না ঘরের কাবার্ডে কিংবা বেসমেন্টে। ভিনেগার ফ্রিজে রাখা অনর্থক এবং এটা এর শেলফ লাইফ বাড়াতে কোন ভুমিকাও রাখেনা। 

কীভাবে সময়ের সাথে অ্যাপল সিডার ভিনেগার পরিবর্তন হয়

একটা ভিনেগার বোতলের যত বেশি বয়স হতে থাকে তত দেখা যায় ভিনেগারের পানি অস্পষ্ট হয়ে যায় এবং বোতলের নিচে তলানি জমতে থাকে। এটার প্রধান কারণ হচ্ছে অক্সিজেন। কারণ আপনি যতবার ভিনেগার ঢালার জন্য বোতলের মুখ খোলেন ততবার এর মধ্যে অক্সিজেন প্রবেশ করে। এই অক্সিজেন, সিট্রিক এসিড এবং সালফার ডাইঅক্সাইডেরও নিঃস্বরণ ঘটায় যে দুটো উপকরণ ভিনেগার সংরক্ষনে গুরুত্বপুর্ন ভূমিকা পালন করে।

তবে বারবার ভিনেগারের বোতলের মুখ খোলার ফলে এই দুইটি উপকরণ বেরিয়ে যেতে থাকে এবং ভিনেগারের স্বাদ পরিবর্তন হতে থাকে। তাই যত দ্রুত সম্ভব অ্যাপল সিডার ভিনেগার শেষ করে ফেলা উচিত এবং এক বোতল দীর্ঘদিন ব্যবহার করা উচিত নয়। 

এতক্ষণে নিশ্চয় একটা সূক্ষ্ম ধারণা পেয়েছেন যে এই ভিনেগারের শেলফ লাইফ কতদিন এবং এটি আসলে কিভাবে সংরক্ষণ করতে হয় সে সম্পর্কে। তবে আবারও বলছি এক বোতল বেশিদিন ধরে ব্যবহার করবেন না।

যেহেতু অ্যাপল সিডার ভিনেগার বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায় এবং প্রতিদিন আপনি গরম পানিতে মিশিয়ে এটি খেতেও পারেন তাই এক বোতল এমনিও বেশিদিন যাবেনা। তবে সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একটু সতর্কতা অবলম্বন করবেন।

আশা করি পোস্টটি আপনাদের ভালো লেগেছে। স্বাস্থ্য সম্পর্কিত যেকোনো তথ্য পেতে আমাদের ফেজবুক পেজে লাইক দিয়ে সাথেই থাকুন।

Categories
Uncategorized

সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠতে না পারার কারণ!

সারারাত ভালভাবে ঘুম হওয়া সত্ত্বেও কি আপনি কি সকালে ক্রমাগত অ্যালার্মের স্নুজ বাটন চেপেই যাচ্ছেন? আপনি যদি সকালের পাখি হওয়ার থেকে রাত জাগা পেঁচা হয়ে যান তাহলে রাত জেগে করা ঐ কাজগুলোই আপনাকে সকালে উঠতে বাধা দিবে।

তবে যদি এরকম না হয়, তাহলে হয়ত অন্য কোন কারণ রয়েছে যার কারণে আপনি সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠতে পারছেন না। চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক কি সেই কারণ গুলো। 

এক অনানুষ্ঠানিক তালিকা থেকে উঠে এসেছে যে, ৯০% সফল ব্যক্তিরায় সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন জ্যাক ডরসি (টুইটারের সি ই ও), যিনি ভোর ৫ টায় ঘুম থেকে ওঠেন।

টিম কুক (অ্যাপেলের সি ই ও), যিনি ঘুম থেকে ওঠেন ভোর ৩:৪৫ এ। এবং ইন্দ্রা নোয়ি (পেপ্সিকোর সি ই ও), যিনি ভোর ৪ টায় ঘুম থেকে ওঠেন। এর কারণ হচ্ছে দ্রুত ঘুম থেকে উঠলে তারা ব্যায়াম করার জন্য যথেষ্ট সময় পান, সংবাদ গুলো একবার দেখে নিতে পারেন এবং স্বাস্থ্যকর ব্রেকফাস্ট খেতে পারেন।

এছাড়াও সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠলে তা মানুষের শরীরের জন্য আরও অনেক উপকার বয়ে আনে। তবে আপনি আসলে সকাল সকাল কেন উঠতে পারছেন না জানেন?

সকাল ঘুম থেকে উঠতে না পারার কারণ

জীনগত বৈশিষ্ট্যের কারণে 

২০১৬ সালে টুয়েন্টি থ্রি এন্ড মি থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয় যে, জীনগত বৈশিষ্ট্য অনেক সময় ঠিক করে দেয় যে কে রাত জাগা পেঁচার মত হবে আর কে সকাল বেলার পাখি হবে। এটাতে আরও বলা হয় যে, যারা সকালে ওঠা পছন্দ করে, তাদের সাতটি জীন সার্কাডিয়ান রিদিমের সাথে যুক্ত রয়েছে যেটা তাদের পছন্দকে নিয়ন্ত্রণ করে।

সার্কাডিয়ান রিদিম মূলত আমাদের দেহের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি যেটা বলে দেয় কখন ঘুম থেকে উঠতে হবে এবং কখন ঘুমাতে যেতে হবে। তাই জীনগত কারণের জন্য আপনি হয়ত রাত জাগতে পছন্দ করেন না হয় সকাল সকাল উঠতে পছন্দ করেন।

এই গবেষণায় আরও দেখা যায় যে, ৮৯% অংশগ্রহণকারীর মধ্যে ৫৬% মানুষ তাদের নিশাচর হিসাবে দাবি করেছেন এবং বাকিদের মধ্য থেকে দেখা গেছে মহিলারা এবং ষাটোর্ধ মানুষেরা সকালে উঠতে বেশি পছন্দ করেন। তাই যদি আপনি শত চেষ্টা করেও ঘুম থেকে উঠতে না পারেন তাহলে সেই দোষ নির্দিধায় আপনার বাবা-মার উপরে চাপিয়ে দিয়ে পারেন। তবে সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে নিজে নিজে আপনার অভ্যন্তরীণ ঘড়ির সময়ও বদলে ফেলতে পারেন।

ডিপ্রেশনে থাকার কারণে

যদি আপনার দেরি করে ঘুম থেকে ওঠার জন্য জীনগত কারণ দায়ী না থাকে তাহলে হয়ত ডিপ্রেশন একটা কারণ হতে পারে। তবে আপনার মনে হতে পারে, “না, আমিতো ডিপ্রেসড নই! আমিতো অনেক হাসিখুশিই আছি।” তবে এই ডিপ্রেশন সেটা নয় যেটা আপনি কল্পনা করছেন। এই ধরণের ডিপ্রেশনে থাকা মানুষগুলোর থেকে থেকে মন খারাপ হয় তবে এরা আনন্দপূর্ণ কোন পরিবেশের মধ্যে থাকলে এদের মুখে সবসময় হাসি থাকে।

এমনকি এই সমস্যায় ভোগা লোকেরা হয়ত জানেইনা যে তারা ডিপ্রেসেড। এর দুইটি প্রধান লক্ষণ হচ্ছে বেশি বেশি খাওয়া এবং ঘুমানো। যদি আপনি প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টার বেশি ঘুমিয়েও সারাদিন ঘুম ঘুম অনুভব করেন তাহলে হয়ত আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের উপর একটু নজর দেওয়া উচিত। আর এর জন্য ভালো কোন ডাক্তার বা থেরাপিস্টের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

শরীরে আয়রনের ঘাটতি

আপনি যদি স্বাস্থ্যকর খাবার খান, নিয়মিত ব্যায়াম করেন, নিজেকে চাঙ্গা রাখার জন্য কফি খান এবং তারপরেও প্রতিদিন সকালের দিকে ক্লান্তি অনুভব করেন তাহলে এটা বলা যায় যে আপনার শরীরে আয়রনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এর ফলেই আপনি সকালে ঘুম ঘুম অনুভব করেন এবং এর রেশ প্রায় সারাদিনই থেকে যায়। এর ফলে রক্তস্বল্পতাও দেখা দেয়। যারা সবুজ শাকসবজি ও লাল মাংস খায়না তাদের ক্ষেত্রে রক্তসল্পতার ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই এই সমস্যা সমাধানে একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার অথবা নিউট্রশনিস্টের সাথে পরামর্শ করতে পারেন।

ঘুমের কোয়ালিটি নষ্ট হলে

তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠার সাথে আরও দুইটি বিষয়ের যোগসূত্র রয়েছে- একটি হল ঘুমের কোয়ালিটি এবং অন্যটি হল কত দেরি করে আপনি বিছানায় যাচ্ছেন। প্রতিদিন যে ইলেক্ট্রনিক গ্যাজেটগুলো ব্যবহার করছেন সেটা অনেকাংশে আপনার ঘুমের কোয়ালিটি নষ্ট করার জন্য দায়ী।

যদি ঘুমানোর একদম পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত আপনার ফোন ব্যবহার করতে থাকেন তাহলে এটাই যথেষ্ট আপনার সকালে দেরি করে ওঠার জন্য। আপনার সার্কাডিয়ান রিদিম দুইটি তরল পদার্থ নিঃসরণের সাথে যুক্ত রয়েছে- মেলাটোনিন এবং সেরোটোনিন। মেলাটোনিন এর উৎপাদন শুরু হয় যখন চারিদিকে পুরোপুরি অন্ধকার হয়ে যায়। তবে আশেপাশে পুরো অন্ধকার থাকলেও দুর্ভাগ্যবশত আপনার ফোন থেকে যে ব্লু লাইট নিঃসরণ হয়, তা আপনার ব্রেইনকে সংকেত দেয় যে এখন দিনের বেলা।

তাই যদি আপনি ঘুমানোর ঠিক পূর্ব মুহূর্তে ফোনে ফেসবুক চালান অথবা মেইলগুলো চেক করতে থাকেন তাহলে এটা নিশ্চিত যে আপনার রাতের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটতে চলেছে। এটা আপনার শরীরের মেলাটোনিন এর উৎপাদন কমিয়ে দিবে যার ফলে আপনি সকালে ঘুম থেকে উঠতে পারবেন না।

আবহাওয়ার কারণে 

সকালে ঘুম থেকে তাড়াতাড়ি উঠতে না পারার আর একটা কারণ হতে পারে আবহাওয়া। দেখা যায় যে, গরমের দিনে আপনি না চাইতেই সকাল সকাল আপনার ঘুম ভেঙ্গে যাচ্ছে সূর্যের আলো ছড়ানোর সাথে সাথেই। কিন্তু শীতকালে ঐ প্রিয় কম্বল ছেড়ে কে-ই বা উঠতে চায়! এটা শুধু তাপমাত্রার কারণে নয় বরং সূর্য দেরি করে ওঠার কারণে।

শীতকালের দিন ছোট এবং রাত বড় হয়। আর আগেই জেনেছেন যে আমাদের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি সূর্য ওঠার সাথে সাথেই সংকেত দিতে থাকে যে এখন ঘুম থেকে ওঠার সময়। কিন্তু শীতকালে সূর্য যখন দেরি করে আলো ছড়ায় তখন আমাদের ব্রেইনও ভাবতে থাকে তাহলে এখনও হয়ত সকাল হয়নি।

তাই শীতকালে যেহেতু আমাদের দেহ পর্যাপ্ত সূর্যের আলো পায়না, তাই যথারীতি শরীরের সেরোটোনিন লেভেল ও কমে যায়। যার ফলে আপনার এনার্জি কমে যায় এবং আপনার মুড ভালো থাকেনা। তবে যদি আপনি নিয়মিত সকালে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস তৈরি করে ফেলেন তাহলে শীতকালেও আপনি সময় মতই উঠতে পারবেন কারণ আপনার অভ্যন্তরীণ ঘড়ি নিয়মের সাথে মানিয়ে যাবে।

তাই আজ থেকেই ঘুমের সময় বদলে ফেলুন এবং ঘুমানোর সময় ফোন এবং অন্যান্য ইলেক্ট্রনিক গ্যাজেট দূরে রাখুন।

আশা করি পোস্টটি আপনাদের ভালো লেগেছে। স্বাস্থ্য সম্পর্কিত যেকোনো তথ্য পেতে আমাদের ফেজবুক পেজে লাইক দিয়ে সাথেই থাকুন।