Categories
ঘরোয়া সমাধান স্বাস্থ্য ও সুস্থতা

কোষ্ঠকাঠিন্যের লক্ষণ ও ঘরোয়া সমাধান

যখন মলত্যাগ কম হয় এবং মল ত্যাগ করা কঠিন হয়, তখন কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়। এটি প্রায়শই ডায়েট বা রুটিনে পরিবর্তনের কারণে বা অপর্যাপ্ত ফাইবার গ্রহণের কারণে ঘটে থাকে। যদি তীব্র ব্যথা, মলে রক্ত বা কোষ্ঠকাঠিন্য তিন সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয় তবে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত।

কোষ্ঠকাঠিন্যের লক্ষণ ও ঘরোয়া সমাধান

কোষ্ঠকাঠিন্য কি?

কোষ্ঠকাঠিন্য এমন একটি অবস্থা যেখানে একজন ব্যক্তির অস্বস্তিকর বা কদাচিৎ মলত্যাগ হয়। এক্ষেত্রে ব্যক্তির কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে অল্প পরিমাণে মল, শক্ত ও  শুকনো মল, সাধারণত সপ্তাহে তিনবারের কম হয়ে থাকে। অর্থাৎ মল ত্যাগ করা ব্যক্তির জন্য কঠিন বা বেদনাদায়ক হয়ে উঠে।

কোষ্ঠকাঠিন্যের প্রধান লক্ষণ

যদি কেউ নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি অনুভব করে তবে তার কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে:

  • সপ্তাহে তিনবারেরও কম মলত্যাগ
  • শক্ত বা শুকনো মল ত্যাগ করা
  • মলত্যাগের সময় চাপ বা ব্যথা
  • মলত্যাগের পরেও অন্ত্র সম্পূর্ণরূপে খালি হয়নি এই অনুভূতি থাকা

কোষ্ঠকাঠিন্য কেন হয়?

কোলনের প্রধান কাজ হল অবশিষ্ট খাবার থেকে পানি শোষণ করা। কোলন অত্যধিক পানি শোষণের ফলে শক্ত ও শুষ্ক মল হয়ে থাকে।

সাধারণত, কোলন (বৃহৎ অন্ত্র নামেও পরিচিত) দিয়ে খাদ্য চলাচলের সময় কোলন মল (বর্জ্য দ্রব্য) গঠনের সময় পানি শোষণ করে। পেশীর সংকোচন তখন মলটিকে মলদ্বারের দিকে ঠেলে দেয় এবং মল মলদ্বারে পৌঁছানোর সময়, বেশিরভাগ পানি শোষিত হয়ে যায়, যা মলটিকে শক্ত করে তোলে। []

যখন কোলনের পেশী সংকোচন ধীর বা মন্থর হয়, তখন মল কোলনের মধ্য দিয়ে খুব ধীরে চলে যায়, ফলে খুব বেশি পানি শোষিত হয়। কোষ্ঠকাঠিন্যের কিছু সাধারণ কারণগুলির মধ্যে নিম্নলিখিতগুলি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:

  • অনুশীলনের অভাব
  • পানিশূন্যতা
  • খাবারে অপর্যাপ্ত ফাইবার
  • বিরক্তিকর পেটের সমস্যা
  • মলত্যাগের তাগিদ উপেক্ষা করা
  • স্ট্রেস, রুটিনে পরিবর্তন, এবং এমন অবস্থা যা কোলনের পেশী সংকোচনকে ধীর করে দেয়
  • অভ্যাস বা জীবনযাত্রার পরিবর্তন, যেমন ভ্রমণ, গর্ভাবস্থা এবং বার্ধক্য
  • অন্ত্রের কার্যকারিতা নিয়ে সমস্যা

কোষ্ঠকাঠিন্যের ঘরোয়া সমাধান

যদি কোষ্ঠকাঠিন্যের সম্মুখীন হন তবে নিম্নলিখিত দ্রুত চিকিত্সাগুলি কয়েক ঘন্টার মধ্যে অন্ত্রের সমস্যাকে প্ররোচিত করতে সহায়তা করতে পারে।

পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা

পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করাঃ

  • ডিহাইড্রেশনের কারণে একজন ব্যক্তির কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। এটি প্রতিরোধ করার জন্য, পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা এবং হাইড্রেটেড থাকা গুরুত্বপূর্ণ। তবে চিনিযুক্ত সোডার মতো কার্বনেটেড পানীয় পান করা ভাল নয়, কারণ এই পানীয়গুলি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলতে পারে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য আরও খারাপ করতে পারে।
  • কিছু গবেষণায় দেখা গেছে বদহজম বা ডিসপেপসিয়া এবং দীর্ঘস্থায়ী ইডিওপ্যাথিক কোষ্ঠকাঠিন্যে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে কলের পানির চেয়ে ঝকঝকে পানি বেশি কার্যকর। []

ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার খাওয়াঃ

বিভিন্ন ধরনের খাদ্যতালিকাগত ফাইবার আছে। কিন্তু সাধারণভাবে, দুই ধরনের ফাইবার রয়েছে।  অদ্রবণীয় ফাইবার এবং দ্রবণীয় ফাইবার।

  • অদ্রবণীয় ফাইবারঃ গমের ভুসি, শাকসবজি এবং গোটা শস্যে উপস্থিত  ফাইবার হজম ব্যবস্থার মাধ্যমে মলকে আরও দ্রুত এবং সহজে যেতে সাহায্য করতে পারে।
  • দ্রবণীয় ফাইবারঃ ওট ব্রান, বার্লি, বাদাম, বীজ, মটরশুটি, ডাল এবং মটর, সেইসাথে কিছু ফল এবং সবজিতে উপস্থিত ফাইবার পানি শোষণ করে এবং জেলের মতো পেস্ট তৈরি করে, যা মলকে নরম করে এবং এর সামঞ্জস্য উন্নত করে।

কোষ্ঠকাঠিন্যের চিকিৎসার জন্য, পুষ্টিবিদরা প্রায়ই রোগীদেরকে তাদের খাদ্যতালিকায় ফাইবার গ্রহণ বাড়াতে বলেন। এর কারণ হল ফাইবার গ্রহণের পরিমাণ বাড়ানোর ফলে অন্ত্রের গতিবিধির বাড়তি এবং সামঞ্জস্যতা বৃদ্ধি পায়, যা তাদের জন্য মল ত্যাগ করা সহজ করে তোলে। এটি তাদের আরও দ্রুত পাচনতন্ত্রের মধ্য দিয়ে যেতে সাহায্য করে।

ফাইবারসমৃদ্ধ সম্পূরক খাওয়াঃ

ফাইবার সম্পূরকগুলি সহজেই পাওয়া যায় এবং অন্ত্রের গতিবিধি প্ররোচিত করার জন্য কার্যকর। কারণ অপর্যাপ্ত ফাইবার খাদ্য, কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ হয়। ফাইবার মূলত মলের ভলিউম বৃদ্ধি করে। এটি অন্ত্রের মাধ্যমে শরীরের বাইরে মল বের করতে সাহায্য করে। []

দোকানে বা অনলাইনে ফাইবার পরিপূরক কিনতে পারেন। এখানে কয়েকটি সাধারণ রয়েছে:

  • ক্যালসিয়াম পলিকার্বোফিল (ফাইবারকন)
  • মিথাইলসেলুলোজ (সিট্রুসেল)
  • সাইলিয়াম (মেটামুসিল, কনসিল)

শারীরিক পরিশ্রম করাঃ

  • ব্যায়াম পাচনতন্ত্রের নীচের অংশের পেশীগুলিকে উদ্দীপিত করতে পারে। অন্ত্রের এই অংশটি মলের আকারে শরীর থেকে বর্জ্য বের করে দেয়।

বিভিন্ন গবেষণায় জানা গেছে যে ব্যায়াম কোষ্ঠকাঠিন্যের লক্ষণগুলিকে উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে। কিছু মৃদু ব্যায়াম করার চেষ্টা করা যেতে পারে। যেমন- নিয়মিত হাঁটা, সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো বা জগিং। []

প্রোবায়োটিক খাবার বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণঃ

প্রোবায়োটিক খাবার বা সাপ্লিমেন্ট
  • প্রোবায়োটিকগুলি দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করতে সাহায্য করতে পারে। প্রোবায়োটিক হল উপকারী ব্যাকটেরিয়া যা প্রাকৃতিকভাবে অন্ত্রে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে বিফিডোব্যাকটেরিয়া এবং ল্যাকটোব্যাসিলাস। মানুষ প্রোবায়োটিক খাবার খেয়ে তাদের মাত্রা বাড়াতে পারে।
  • কিছু লোক যাদের দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য রয়েছে তাদের অন্ত্রে ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্যহীনতা রয়েছে। আরও প্রোবায়োটিক খাবার খাওয়া এই ভারসাম্যকে উন্নত করতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করতে সাহায্য করতে পারে।
  • ২০১৯ সালের একটি পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে ২ সপ্তাহের জন্য প্রোবায়োটিক গ্রহণ কোষ্ঠকাঠিন্য, মল ফ্রিকোয়েন্সি এবং মলের সামঞ্জস্য বৃদ্ধি করতে সাহায্য করতে পারে।

প্রোবায়োটিক সম্পূরকগুলি গ্রহণ করতে পারেন, যা অনলাইনে পাওয়া যায়। এছাড়াও প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। প্রোবায়োটিক খাবারের মধ্যে রয়েছে:

  • দই
  • সাওয়ারক্রাউট
  • কিমচি

লো FODMAP ডায়েট গ্রহণঃ

কোষ্ঠকাঠিন্য, আইবিএস এর একটি উপসর্গ হতে পারে। নিম্ন FODMAP ডায়েট হল একটি নির্মূল খাদ্য যা আইবিএস – এর চিকিৎসায় সাহায্য করে এবং আইবিএস – সম্পর্কিত কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি দিতে পারে।

ম্যাগনেসিয়াম সম্পূরক গ্রহণঃ

পরিমিত পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম সম্পূরক গ্রহণ কোষ্ঠকাঠিন্য উপশম করতে সাহায্য করতে পারে। ডাক্তাররা অস্ত্রোপচার বা অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতির আগে অন্ত্র প্রস্তুত এবং পরিষ্কার করার জন্য এটি উচ্চ মাত্রায় ব্যবহার করেন।

কিউই ফলঃ

কিউই ফলগুলিতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে এবং ২০১৯ এ এক গবেষণা পরামর্শ দেয় যে তারা হজমে সহায়তা করতে পারে। অর্থাৎ কিউই ফলটি একটি উপকারী প্রাকৃতিক রেচক হতে পারে।

দুগ্ধজাত খাবার এড়ানোর চেষ্টা করাঃ

  • অসহিষ্ণু ব্যক্তিদের মধ্যে, দুগ্ধজাত খাবার খাওয়ার ফলে অন্ত্রের নড়াচড়ার উপর প্রভাবের কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে।
  • ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা কিছু লোকের দুগ্ধজাত খাবারে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। এই ব্যক্তিদের মধ্যে, খাদ্য থেকে দুগ্ধ অপসারণ করলে লক্ষণগুলি উপশম করতে সাহায্য করতে পারে।

কখন ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে?

যদি উপসর্গগুলি না যায় বা ব্যক্তির কোলন বা মলদ্বার ক্যান্সারের পারিবারিক ইতিহাস থাকে তবে সেক্ষেত্রে একজন ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।  ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ডায়াবেটিস অ্যান্ড ডাইজেস্টিভ অ্যান্ড কিডনি ডিজিজ (NIDDK) সুপারিশ করে যে নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি লক্ষ্য করলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবেঃ

  • মলদ্বার থেকে রক্তপাত
  • মলের মধ্যে রক্ত
  • অবিরাম পেটে ব্যথা
  • পিঠের নীচে ব্যথা
  • একটি অনুভূতি যে গ্যাস আটকে আছে
  • বমি
  • জ্বর
  • ব্যাখ্যাহীন ওজন হ্রাস
  • অন্ত্রের গতিবিধিতে হঠাৎ পরিবর্তন

মল ত্যাগ করতে না পারা অস্বস্তিকর এবং হতাশাজনক। তবে খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনধারায় পরিবর্তন না আনলে কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। হাঁটা, ব্যায়াম করা, তরল পান করা এবং খাবারে কিছু উচ্চ আঁশযুক্ত খাবার অন্তর্ভুক্ত করলেই অস্বস্তিকর কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করা সম্ভব।

Categories
Foods ঘরোয়া সমাধান

অশ্বগন্ধার উপকারিতা এবং খাওয়ার নিয়ম

অশ্বগন্ধা মূলত ভেষজ জড়িবুটির মধ্যে অন্যতম একটি উপাদান। সেই প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন রোগের ওষুধ হিসাবে অশ্বগন্ধা ব্যবহার হয়ে আসছে। মনে করা হয় ৬০০ খ্রিস্টাব্দ বা তারও আগে থেকে অশ্বগন্ধার ব্যবহার শুরু হয়েছে। আয়ুর্বেদিক শাস্ত্রেও একটি গুরুত্বপুর্ন উপাদান হিসাবে অশ্বগন্ধা স্থান পেয়েছে। এখনকার সময়ে বিভিন্ন ক্লিনিক্যাল স্টাডিতেও মানব শরীরে এর উপকারিতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। [1]

আজকের এই লেখার মাধ্যমে জানতে পারবেন অশ্বগন্ধার বিভিন্ন উপকারিতা সম্পর্কে। এছাড়াও কোন রোগে এটি কিভাবে ব্যবহার করবেন এবং কতটুকু পরিমাণে খেলে এটি আপনার জন্য বেশি উপকারী হবে সে সম্পর্কেও জানতে পারবেন। তাহলে চলুন শুরু করা যাক।

অশ্বগন্ধা কি? 

ভেষজ উদ্ভিদ অশ্বগন্ধা

অশ্বগন্ধার প্রধান উপকারিতাগুলো জানার আগে অশ্বগন্ধা আসলে কি সেটা জানা জরুরি। এটি মূলত এক প্রকার ভেষজ উদ্ভিদ। ভারত, পাকিস্তান, স্পেন, আফ্রিকা, মধ্য প্রাচ্য এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলিতে এই গাছ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এই গাছের পাতা, ফল, বীজ, শিকড় সবকিছুই আয়ুর্বেদিক ঔষুধ তৈরী করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। তবে এর শেকড়ের ব্যবহার সবচেয়ে প্রচলিত। ভারতীয় চিকিৎসা শাস্ত্রে এটি অত্যাশ্চর্য ভেষজ নামেও পরিচিত। 

মানসিক চাপ কমাতে এটি অধিক কার্যকরী বলে একে অ্যাডাপ্টোজেনও বলা হয়। অ্যাডাপ্টোজেনের অর্থ মানসিক চাপ মুক্তির এজেন্ট। তবে অশ্বগন্ধা নামের উৎপত্তি হচ্ছে ঘোড়ার থেকে। এর শেকড় থেকে ঘোড়ার মূত্রের মতো এক ধরনের গন্ধ আসায় এটি অশ্বগন্ধা নামে পরিচিত। এর বৈজ্ঞানিক নাম Withania Somnifera।

অশ্বগন্ধায় উপস্থিত উপকারী উপাদানসমূহ 

অশ্বগন্ধার এত এত গুণের প্রধান কারণ হচ্ছে এতে উপস্থিত ফাইটোকেমিক্যাল। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, অশ্বগন্ধার নির্যাসে ৩৫ ধরনের ফাইটোকেমিক্যাল উপাদান থাকে। যার ফলে সঠিক পরিমাণে ব্যবহার করলে এটি ক্যান্সার প্রতিরোধেও সাহায্য করে। এছাড়াও এতে উপস্থিত অন্যান্য উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যালকালয়েড, স্ট্রেরয়ডাল, ল্যাক্টনস, ট্যানিনস, স্যাপোনিনস, উইথানন, উইথাফেরিন এ, ডি, ই , উইথাননোলাইড ইত্যাদি।

অশ্বগন্ধার কিছু গুরুত্বপুর্ন উপকারিতা 

অশ্বগন্ধার উপকারিতা

১। ঘুমের সমস্যা সমাধান করে 

অশ্বগন্ধায় অ্যানজাইলটিক উপাদান থাকার কারণে এটি মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক এবং মনোযোগ বৃদ্ধি করে। আর মানুষের শরীরে স্ট্রেস এর পরিমাণ কম থাকলে এবং মস্তিষ্কের উপর চাপ কম থাকলে ঘুমের সমস্যা দূর হয়। এর প্রধান কারণ হচ্ছে অশ্বগন্ধা স্নায়ু শিথিল রাখতে সাহায্য করে। যার ফলে আপনার আর ঘুমের ওষুধের প্রয়োজন হবেনা।  

২। যৌন ক্ষমতা ও যৌন উদ্দীপক

পুরুষের শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি করে প্রাচীনকাল থেকেই অশ্বগন্ধার সুনাম রয়েছে। এছাড়াও নিয়মিত এটি খেলে শরীরে টেস্টোস্টেরন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। যার ফলে যৌন আকাঙ্ক্ষা এবং ক্ষমতা দুই-ই বৃদ্ধি পায়। বিভিন্ন ক্লিনিক্যাল স্টাডিতেও প্রমাণিত হয়েছে যে এটি কামশক্তি বৃদ্ধি এবং শুক্রতারুল্যের সমস্যা সমাধান করে।

৩। থাইরয়েড সমস্যায় উপকারী 

থাইরয়েড সমস্যায় অশ্বগন্ধা খুবই কার্যকর ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত এটি খেলে শরীরে থাইরয়েড হরমোন বৃদ্ধি পায়। তাই যাদের শরীরে থাইরয়েড হরমোনের পরিমাণ কম থাকে তাদের জন্য এটি বিশেষভাবে উপকারী। 

৪। ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে 

কিছু কিছু গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, অশ্বগন্ধা ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে। এতে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যেগুলো শরীরে ক্যান্সার কোষ বৃদ্ধি পেতে বাঁধা দেয়। যার ফলে নিয়মিত অশ্বগন্ধা খেলে কোলন ক্যান্সার, ব্রেস্ট ক্যান্সার, ওভারিয়ান ক্যান্সার, প্রস্টেট ক্যান্সার এবং ব্রেন ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি হ্রাস পায়।  

৫। মাসিকের সমস্যায় কার্যকর 

অধিকাংশ মেয়েদের মাসিকের সময় তীব্র পেটে ব্যথার সমস্যা লক্ষ্য করা যায়। যার ফলে প্রতিমাসেই পিরিয়ড চলাকালীন তারা তীব্র অসুস্থতায় ভোগে। কিন্তু অশ্বগন্ধা এই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে। নিয়মিত যদি নির্দিষ্ট পরিমাণে অশ্বগন্ধা খাওয়া যায় তাহলে পেটে ব্যথার এই সমস্যা থেকে চিরতরে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। শুধু তাই নয়, অনিয়মিত মাসিকের সমস্যাও এটি সমাধান করে। 

৬। রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে 

অশ্বগন্ধা মানবদেহে রক্ত চলাচল নিয়ন্ত্রনে রাখে। যার ফলে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা কমে যায় এবং হৃদপিণ্ড অন্যান্য অনেক রোগ থেকেও সুস্থ থাকে। আর শরীরে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকার ফলে আর্থ্রাইটিসের ব্যথাও উপশম হয়। এছাড়া এটি শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সাহায্য করে। 

৭। ত্বক ও চুলের যত্নে সহায়ক 

অশ্বগন্ধা যৌবন ধরে রাখতে সাহায্য করে। তাই নিয়মিত অশ্বগন্ধা খেলে ত্বকের বলিরেখা কিংবা বয়সের ছাপ পড়ার মতো সমস্যা থেকে দূরে থাকবেন। এটি ত্বককে ভেতর থেকে সুস্থ রাখে এবং উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। এছাড়াও এটি চুল পড়া রোধ করে এবং চুলের গোঁড়া মজবুত করতে সাহায্য করে।

অশ্বগন্ধা খাওয়ার নিয়ম 

অশ্বগন্ধার শেকড় এবং গুঁড়া দুইভাবেই খাওয়া যায়। তবে এখন অশ্বগন্ধা গুঁড়া খাওয়ার প্রচলন সবচেয়ে বেশি। কারণ বাজারে শেকড়ের থেকে গুঁড়া বেশি দেখা যায়। ভালো ফল পেতে প্রতিদিন ৪-৫ গ্রাম অর্থাৎ ১ চামচ অশ্বগন্ধা গুঁড়া খেতে পারবেন।

আপনি চাইলে এটি কুসুম গরম পানিতে মিশিয়ে, হালকা গরম দুধে মিশিয়ে অথবা মধু মিশিয়েও খেতে পারেন। প্রতিদিন সকালে ১ চামচ অথবা সকালে ১/২ চামচ আর রাতে ঘুমানোর আগে ১/২ চামচ খেতে পারবেন। তবে আপনার সমস্যার উপর ভিত্তি করে বিশেষজ্ঞ একজন ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী অশ্বগন্ধা খাওয়া সবথেকে নিরাপদ।

অশ্বগন্ধা খাওয়ার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

অশ্বগন্ধা সম্পুর্ন প্রাকৃতিক উপাদান অতিরিক্ত মাত্রায় সেবনের ফলে কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হতে পারে। তবে অশ্বগন্ধা খাওয়ার সময় অবশ্যই কিছু বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখা জরুরী।

  • অশ্বগন্ধা খাওয়ার ফলে অনিদ্রার সমস্যা সমাধান হয় এবং ঘুম ভালো হয়। তাই এটি খাওয়াকালীন আলাদা ঘুমের ওষুধ না খাওয়াই উত্তম। 
  • আর একটানা দীর্ঘদিন অশ্বগন্ধা খেলে ডায়রিয়া, গ্যাস্ট্রিক, বমির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই একটানা কিছুদিন খাওয়ার পর আবার ১০-১৫ দিন গ্যাপ দিয়ে খাওয়া শুরু করতে হবে।  
  • যেহেতু অশ্বগন্ধা রক্ত পরিষ্কার করতে সাহায্য করে, এতে করে রক্ত পাতলা হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। তাই কোন অস্ত্রপচারের আগে, পরে বা সমসাময়িক এটি খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। না হলে অধিক রক্তপাত হয়ে মারাত্মক বিপদ হতে পারে।
  • অশ্বগন্ধা প্রাকৃতিকভাবেই শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। ফলে এটি খাওয়ার সময় অন্য কোন শর্করা কমানোর ওষুধ না খাওয়াই উত্তম। তা না হলে রক্তে শর্করার মাত্রা অধিক পরিমাণে কমে গিয়ে সমস্যা দেখা দিতে পারে। 
  • গর্ভবতী মহিলাদের অশ্বগন্ধা খেলে গর্ভপাত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আর যেসব মায়েরা শিশুদের বুকের দুধ খাওয়ান তাদের ক্ষেত্রেও অশ্বগন্ধা না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

অশ্বগন্ধা সম্পর্কিত কিছু সাধারণ প্রশ্ন

প্রতিদিন কি অশ্বগন্ধার গুঁড়ো খাওয়া যেতে পারে ?

নির্দিষ্ট পরিমাণে প্রতিদিন অশ্বগন্ধার গুঁড়া খাওয়া যাবে। ওয়েব এম ডি এর তথ্য অনুযায়ী, একজন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তি প্রতিদিন ১০০০ মিলিগ্রাম অশ্বগন্ধা ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত খেতে পারবেন। তবে সমস্যা অনুযায়ী সেবনের মাত্রা কমবেশি হতে পারে। তাই খাওয়ার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। [2]

অশ্বগন্ধার গুঁড়া খেলে কি লম্বা হওয়া যায়?

অশ্বগন্ধার গুঁড়া খেয়ে লম্বা হওয়ার মতো কোন তথ্য এখনো প্রমাণিত হয়নি। তবে এটি আমাদের হাড় মজবুত করতে সাহায্য করে এবং হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধি করে। এছাড়াও এর আরও অনেক উপকারিতার কথা ইতোমধ্যেই আপনারা জানতে পেরেছেন।

কোথায় পাওয়া যাবে অশ্বগন্ধার গুঁড়া? 

যেকোন সুপারশপেই এখন অশ্বগন্ধার গুঁড়া পাওয়া যায়। আবার বাজারেও বিভিন্ন দোকানে এর দেখা পাবেন। কিন্তু নির্ভেজাল গুঁড়া পাওয়া এখন খুবই কষ্টকর। কারণ বাজারের দোকানে যেগুলো দেখা যায় সেগুলো খোলা অবস্থায় থাকার ফলে ধুলাবালি মিশে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক। তাই সুপারশপ থেকে অনলাইন স্টোর থেকে প্যাকেটজাত অস্বগন্ধার গুঁড়া কিনতে পারেন।

অশ্বগন্ধার কোন ক্ষতিকর দিক আছে কি? 

অশ্বগন্ধার কোন ক্ষতিকর দিক নেই। তবে এটি খাওয়ার মাত্রার উপর নির্ভর করে কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া আছে যেগুলো উপরে বিস্তারিতভাবে বর্ননা দেওয়া হয়েছে। অশ্বগন্ধা খাওয়ার সময় শুধু এই ব্যাপারগুলো মাথায় রাখলেই চলবে।

মেয়েদের জন্য অশ্বগন্ধার কোন উপকারিতা কি? 

মেয়েদের ঋতুস্রাবের সময় যে তীব্র পেটে ব্যথা করে, অশ্বগন্ধা সেটা লাঘব করে। এছাড়াও অনিয়মিত ঋতুস্রাবের সমস্যা এবং বন্ধ্যা নারীর ক্ষেত্রেও এর উপকারিতা লক্ষ্য করা গেছে। নিয়মিত এটি খেতে থাকলে শরীরের রক্ত চলাচল ঠিক থাকে এবং হরমোনাল ইমব্যালেন্স দূর হয়। ফলে মাসিকের সমস্যা ঠিক হওয়ার পাশাপাশি বন্ধ্যাত্বের সমস্যাতেও উপকার পাওয়া যায়। [3]

পরিশেষে

তাহলে বুঝতেই পারছেন ঔষধি গাছ হিসাবে অশ্বগন্ধার উপকারিতা অনেক বেশি। তাই নিয়ম মেনে সঠিক পরিমাণে যদি নিয়মিত এটি সেবন করতে পারেন তাহলে নানাবিধ রোগ থেকে দূরে থাকতে পারবেন। তবে নির্দিষ্ট কোন রোগের জন্য অবশ্যই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে অশ্বগন্ধা খাওয়া উচিত।

তথ্যসূত্রঃ healthline.com | webmd.commedicalnewstoday.com

Categories
Uncategorized

যে খাবারগুলো সবসময় এড়িয়ে চলা উচিত

এমন কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো খাবার তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া উচিত। ফুড সেফটি নিয়ে সংঘটিত অনেক গবেষণা থেকে পাওয়া গেছে যে, এমন অনেক স্বাস্থ্যকর খাবার রয়েছে যেগুলো আসলে শরীরের জন্য কতটা ক্ষতিকর সে সম্পর্কে আপনাদের কোন ধারনা-ই নেই!

সেক্ষেত্রে তাজা সবজি আপনার শরীরের উপকারের থেকে ক্ষতি করে বেশি। কি অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে নিশ্চয়? চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক। 

১। ফলের জুস 

জুস আমাদের সবার পছন্দের একটি খাবার এবং তা যদি হয় তাজা ফলের রস থেকে তৈরি তাহলে তো কোন কথা-ই নেই। তবে একটি খারাপ সংবাদ হচ্ছে আজ থেকে এই তাজা ফলের জুস খাওয়া বন্ধ করে দিন কারণ ফ্রেশলি স্কুইজড জুস থেকে ভাইরাস এবং ব্যক্টেরিয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন রোগ ছড়াতে পারে।

তাই এর বদলে পাস্তুরাইজড জুস খেতে পারেন। তবে সব থেকে ভালো হয় যদি জুস না করে শুধু তাজা ফল খান। 

২। কাঁচা দুধ

কাঁচা দুধকে কোনভাবেই স্বাস্থ্যকর বলা চলেনা এমনকি গরুর মালিক যদি গরুর খুব ভালভাবে যত্ন নিয়ে থাকে তাও। কাঁচা দুধে বিভিন্ন ধরণের ভাইরাস এবং ব্যক্টেরিয়া থাকার সম্ভবনা থাকে যা শুধু ফুটানোর মাধ্যমেই বিনাশ করা সম্ভব।

তাই কোনভাবেই দুধের তৈরি কিছু রান্না করতে গেলে তাতে সরাসরি কাঁচা দুধ মেশাবেন না। শুধু খাওয়ার জন্য হোক বা কোন কিছু রান্না করার জন্য আগে ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ভালভাবে দুধ ফুটিয়ে নিবেন তারপর ব্যবহার করবেন। 

৩। সিদ্ধ মাছ 

সারভিল ইউনিভার্সিটির এক স্প্যানিশ বিজ্ঞানীর গবেষণা থেকে পাওয়া গেছে যে, স্বাদু পানির মাছ সিদ্ধ করলে তার থেকে মাত্র ১৮% জীবননাশ কারি সায়ানো টক্সিন দূর করা যায়। বাকি অংশটুকু সিদ্ধ করার সময় পানির সাথে মিশে যায় এবং মাছের মধ্যে ঢুকে যায়।

সেক্ষেত্রে ভাপে সিদ্ধ করা মাছ রান্না করে খেতে পারেন। যেটা স্টিম পদ্ধতি নামেও পরিচিত। এতে করে ২৬% সায়ানো টক্সিন দূর হয় এবং বাকিটাও অতটা ক্ষতি করতে পারেনা। তবে অবশ্যই সামুদ্রিক মাছ এবং ফিশ স্যুপ খাওয়া থেকে সাবধান থাকবেন। 

৪। প্রসেসড মিট 

আমেরিকান স্টাডি এটা নিশ্চিত করেছে যে, সব ধরণের মাংসজাতীয় পণ্যে নাইট্রেট এবং নাইট্রাইট থাকে, তা যত উন্নতমানের-ই হোক না কেন। আর এর থেকেই হতে পারে ভয়াবহ ক্যান্সার।

১০০ কিলোগ্রাম গরুর মাংসের থেকে ১০০ কিলোগ্রাম সসেজে ৪০০% বেশি লবণ এবং ৫০% বেশি ফ্যাট থাকে। তাহলে আপনি কোনটা বেছে নিবেন? সেটা নিশ্চয় আর আমাদের বলে দেওয়া লাগবেনা। 

৫। অঙ্কুরিত খাবার

অনেকসময়ই দেখা যায় যে অনেক দিন ধরে ঘরে রাখা আলু বা পেঁয়াজ অঙ্কুরিত হয়ে যায়। তবে সেগুলোকে উপেক্ষা করেই আমরা তা কেটে খেয়ে ফেলি। কিন্তু এই অঙ্কুরিত শস্যতে ই-কোলাই এবং স্যালমোনেলার মত ব্যক্টেরিয়া থাকে যেটা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তাই আজ থেকেই এই ধরণের খাবার খাওয়া ছেড়ে দিন। 

৬। যেকোন চিপস

চিপসের মত দুই বা ততোধিক উপাদান দিয়ে তৈরি প্যাকেজিং করা খাবার হতে পারে আপনার শরীরের জন্য হুমকিস্বরূপ। এগুলো তৈরির সময় এতে প্রিজারভেটিভেস হিসাবে বিউটিলেটেড হাইড্রক্সি অ্যানিসল এবং বিউটিল হাইড্রক্সি টলুইন ব্যবহার করা হয়।

আর এগুলো অধিক মাত্রায় শরীরে প্রবেশ করলে তা থেকে আপনার হরমোনের সমস্যা দেখা দিবে। এছাড়াও নিয়মিত এগুলো খেলে তা থেকে ক্যন্সারের টিউমার সৃষ্টি হওয়ার আশংখা থাকে। এর বদলে নিজের হাতের তৈরি করা খাবার জারে করে সংরক্ষণ করে খান। 

তাহলে আজ থেকেই এই খাবারগুলো খাওয়া বন্ধ করে দিন। কারণ এগুলো না খেয়েও আপনি দিব্যি সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে পারবেন।

Categories
Uncategorized

বাসমতী চালের ভাত কতটা স্বাস্থ্যকর?

সাউথ ইন্ডিয়ান খাবারের মধ্যে বাসমতী চালের ভাত খুবই জনপ্রিয়। বিশেষ করে ইন্ডিয়ায় এটি বেশি জনপ্রিয়। সাদা এবং বাদামী এই দুই ধরনের বাসমতী চাল হয়ে থাকে যেটা এর বাদাম ফ্লেভার এবং ভিন্ন স্বাদের জন্য বেশি প্রিয়।

তবে আপনি কি জানেন অন্যান্য চালের তুলনায় এই বাসমতী চালের ভাত আসলে কতটুকু স্বাস্থ্যকর? তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক এটা আসলে কতটা স্বাস্থ্যকর এবং এর পুষ্টি উপাদান সম্পর্কে। 

বাসমতী চালের পুষ্টি উপাদান

বাসমতী চালের আসল পুষ্টিগুণ চালের উপর নির্ভর করে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। তবে প্রতি প্লেটে উচ্চ মাত্রার ক্যালরি এবং কার্বোহাইড্রেটের সাথে কিছু মাইক্রোনিউট্রিইয়েন্টস যেমন- ফোলেট, থায়ামিন এবং সেলেনিয়াম থাকে। 

এক কাপ (১৬৩ গ্রাম) রান্না করা বাসমতী চালে থাকেঃ

ক্যালরি২১০
প্রোটিন৪.৪ গ্রাম
ফ্যাট০.৫ গ্রাম
কার্বোহাইড্রেট৪৫.৬ গ্রাম
ফাইবার০.৭ গ্রাম
সোডিয়াম৩৯৯ মিলিগ্রাম
ফোলেটদৈনিক আহারের ২৪%
থায়ামিনদৈনিক আহারের ২২%
সেলেনিয়ামদৈনিক আহারের ২২%
নিয়াসিনদৈনিক আহারের ১৫%
কপারদৈনিক আহারের ১২%
আয়রনদৈনিক আহারের ১১%
ভিটামিন বি৬দৈনিক আহারের ৯%
জিঙ্কদৈনিক আহারের ৭%
ফসফরাসদৈনিক আহারের ৬%
ম্যাগনেসিয়ামদৈনিক আহারের ৫%
Source: healthline.com

বাসমতী চালের উপকারিতা 

উচ্চ মাত্রার কার্বোহাইড্রেট এবং ক্যালরি থাকা সত্ত্বেও বাসমতী চালের কিছু উপকারিতাও রয়েছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক কি সেগুলোঃ

আর্সেনিকের মাত্রা কম 

আর্সেনিক একটি ভারী ধাতু যেটা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এবং বেশি মাত্রায় গ্রহণের ফলে তা হার্টের রোগ, ডায়াবেটিস, এমনকি ক্যান্সারের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। আর অন্যান্য চালের তুলনায় বাসমতী চালে আর্সেনিকের মাত্রা কম থাকে।

আর এইসব রোগের ঝুঁকি তাদের বেশি থাকে যারা নিয়মিত অন্যান্য চালের ভাত খায়। ক্যালিফোর্নিয়া, ইন্ডিয়া এবং পাকিস্তানের বাসমতী চালের উপর গবেষণা চালিয়ে দেখা গেছে যে, এইসব দেশের বাসমতী চালে আর্সেনিকের মাত্রা অন্যান্য চালের তুলনায় অনেক কম থাকে।

বলে রাখা জরুরি যে, লাল চালে আর্সেনিকের মাত্রা সাদা চালের তুলনায় বেশি থাকে। 

পুষ্টিতে সমৃদ্ধ

সাদা বাসমতী চাল প্রায়সময়ই পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ হয় কারণ প্রসেসিং এর সময় এতে প্রয়োজনীয় কিছু উপাদান যোগ করা হয় যাতে করে তা পুষ্টিগুণ বৃদ্ধি করতে পারে। এতে করে বাসমতী চাল আপানার নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় কিছু ভিটামিন এবং মিনারেলের চাহিদা পূরণ করতে পারে।

এছাড়াও এতে পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়রন, ভিটামিন বি, ফলিক এসিড, থায়ামিন এবং নিয়াসিন থাকে যা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

কিছু খারাপ দিক

সাদা বাসমতী চাল পরিশোধিত শস্যদানা। যার ফলে এতে থাকা কিছু গুরুত্বপুর্ন উপাদান প্রসেসিং এর সময় বাদ পড়ে যায়। অন্যদিকে ব্রাউন বা লাল বাসমতী চালে সেগুলো অক্ষুন্ন থাকে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, বেশি পরিমাণে পরিশোধিত শস্য কণা খেলে তা রক্তের গ্লুকোজের মাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। 

এছাড়াও ২৬০০০ মানুষের (যারা নিয়মিত সাদা চাউলের ভাত খায়) উপর গবেষণা চালিয়ে দেখা গিয়েছে যে, তারা উচ্চ মেটাবলিক সিন্ড্রোমে আক্রান্ত যার অর্থ হল, তাদের হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অত্যধিক মাত্রায় বেশি।

এর প্রধান কারণ লাল চালের তুলনায় সাদা চালে থাকা উচ্চ মাত্রার কার্বোহাইড্রেট এবং কম পরিমাণ ফাইবার। তাই সাদা বাসমতী চালের থেকে ব্রাউন বাসমতী চালের ভাত খাওয়া শ্রেয়।

শেষ কথা

সর্বপরি বাসমতী চাল হচ্ছে সুগন্ধযুক্ত লম্বাটে শস্যদানা যাতে আর্সেনিকের মাত্রা কম এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং মিনারেলও উপস্থিত থাকে। এটা সাদা এবং লাল দুই প্রকারের হয়ে থাকে। তবে যতদূর সম্ভব ব্রাউন বাসমতী চাল খাওয়া উচিত কারণ সাদা বাসমতী চাল পরিশোধিত হওয়ায় তাতে পুষ্টিগুণ অক্ষুণ্ণ থাকেনা, যা শরীরের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আর নিয়মিত বাসমতী চালের ভাত না খাওয়ায় শ্রেয়। 

আপনারা মেইন ডিস হিসাবে কি খান অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।

Categories
Uncategorized

চায়নার মানুষ কেন সবসময় গরম পানি খায়

কল্পনা করুন জুলাইয়ের মাঝামাঝি কোন এক সময়ে আপনি চায়নাতে গিয়েছেন। গরমে সিদ্ধ হয়ে যাওয়ার মত আবহাওয়া আর তখন একটি জিনিসই শুধু আপনার মাথায় আসবে, তা হচ্ছে বরফের মত ঠাণ্ডা এক গ্লাস পানি! কাছাকাছি কোন এক দোকানে গিয়ে আপনি এক গ্লাস পানি চাইলেন এবং দোকানি আপনাকে এতো গরম পানি খেতে দিল যে আপনার জিহ্বা পুড়ে গেল! জি হ্যা, চায়নাতে শীত হোক বা গ্রীষ্মকাল, সবসময়ই গরম পানি খাওয়া হয়। চায়নার সংস্কৃতি ও ইতিহাস ঘাঁটলেই এই রহস্যের সমাধান পাওয়া যায়।

চাইনিজদের গরম পানি খাওয়ার ইতিহাস

সবসময় মনে রাখবেন, কখনোই অতিরিক্ত গরম পানি খাবেন না কারণ তা মুখের ভেতরের কোষ ও লালাগ্রন্থির ক্ষতি করতে পারে। তাই সবসময় কুসুম গরম পানি খাওয়ার অভ্যাস করুন। চলুন এখন জেনে নেওয়া যাক চাইনিজরা আসলে কেন সবসময় গরম পানি খায়।  

চায়নার ঐতিহ্যগত চিকিৎসাশাস্ত্র বিশ্বাস করে যে, মানুষের দেহ- ইন এবং ইয়াং নামে দুইটি উপাদান দ্বারা গঠিত। এবং আপনি তখনই সুস্থ থাকবেন যখন আপনার ইন এবং ইয়াং এর মধ্যে সামঞ্জস্যতা থাকবে। ধরে নেওয়া যাক আপনার ইয়াং খুব শক্তিশালী হয়ে গেল, সেক্ষেত্রে আপনার দেহের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা অনেক বেড়ে যাবে এবং আপনি অসুস্থ হয়ে পড়বেন।

তাই এই অতিরিক্ত ইয়াং বা অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা থেকে মুক্তি পাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর এটা থেকে মুক্তি পাওয়ার সহজ উপায় হচ্ছে গরম জাতীয় পানীয় খাওয়া। এই পানীয়গুলো ইন গোত্রীয় হওয়াই তা ইয়াংকে অতিরিক্ত শক্তিশালী হতে বাধা দেয় এবং শরীরে সামঞ্জস্যতা বজায় থাকে।

চায়নার লোকেরা খ্রিস্টপূর্ব ৪র্থ শতাব্দী থেকে এই পদ্ধতি অবলম্বন করে আসছে। কিন্তু সেই আমলে সবার পক্ষে তেলখড়ি পুড়িয়ে পানি গরম করে খাওয়ার সাধ্য ছিলনা। তাই গরম পানি খাওয়া তখন সংরক্ষণ করে রাখা হত শুধুমাত্র বয়স্ক, অসুস্থ ও গর্ভবতী মহিলাদের জন্য। খাওয়ার মাঝে গরম পানি খাওয়ার আরও একটা কারণ হচ্ছে তা হজম শক্তিকে বৃদ্ধি করে।

গরম পানি খাওয়ার কিছু উপকারিতা

চাইনিজদের গরম পানি খাওয়ার ইতিহাস জানার আগে চলুন জেনে নেওয়া যাক গরম পানি খাওয়ার কিছু উপকারিতা সম্পর্কে। 

১। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে

আপনি কি দীর্ঘদিন ধরে কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগছেন? তাহলে প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে এক গ্লাস কুসুম গরম পানি খাওয়া শুরু করে দিন। এতে করে পেট সহজেই পরিষ্কার হয়ে যাবে। এবং কিছুদিনের মধ্যেই দেখবেন কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে।

২। ওজন নিয়ন্ত্রণ করে

ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে গরম পানি। তবে অন্য কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে শুধু গরম পানি পান করলে কোনভাবেই ওজন কমবে না। তাই পরিপূর্ণ ডায়েট ও ব্যায়ামের পাশাপাশি নিয়মিত গরম পানি পান করলে তা ওজন কমাতে সাহায্য করবে।

এক্ষেত্রে প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে কুসুম গরম পানি এবং লেবুর রস মিশিয়ে পান করলে শরীর অল্প অল্প করে সারাদিন ক্যালোরি পোড়াতে থাকে। এতে করে ওজন কমার পাশাপাশি পেট ফাঁপার সমস্যাও দূর হয়। 

৩। রক্ত চলাচল ঠিক থাকে

ঠাণ্ডা পানি পান করলে পেশী টানটান হয়ে আসে, অন্যদিকে গরম পানি পান করলে পেশীতে রক্ত চলাচল বাড়ে এবং পেশী শিথিল হয়।  জয়েন্টের ব্যথা থেকে শুরু করে পিরিয়ডের ক্র্যাম্প, সব ধরণের ব্যথা কমাতে কাজে আসে গরম পানি। এছাড়া ঘুমাতে যাবার আগে গরম পানি পান করলে শরীর ঝরঝরে এবং ব্যথামুক্ত থাকে।

৪। ঘুমের সমস্যা সমাধান করে

এ যুগের ছেলেমেয়েদের মধ্যে রাতে ভালো ঘুম না হওয়ার সমস্যাটা অনেক বেশি। তবে নিয়মিত গরম পানি পান করলে এই রোগ থেকে মুক্তি মিলবে। গরম পানি পান করলে দেহের তাপমত্রা বেড়ে যায়। ফলে শরীর ও স্নায়ু শান্ত থাকে যা আপনাকে একটি সুনিদ্রা দিতে সাহায্য করে। এছাড়াও এটা মধ্যরাতে ঘুম ভাঙ্গার প্রবণতা কমিয়ে ফেলে।

তাহলে এখন বলুন তো প্রতিদিন আপনি আসলে কতটুকু পানি পান করেন? আর গরম পানি বেশি খান নাকি ঠাণ্ডা পানি? অবশ্যই কমেন্ট করে জানান। 

আশা করি পোস্টটি আপনাদের ভালো লেগেছে। স্বাস্থ্য সম্পর্কিত যেকোনো তথ্য পেতে আমাদের ফেজবুক পেজে লাইক দিয়ে সাথেই থাকুন।

Categories
Uncategorized

কফি খাওয়া ছেড়ে দিলে শরীরে কি ঘটবে

সত্যিকারের কফি লাভারদের ২ ধরনের ব্যক্তিত্ব থাকে – প্রথমত তারা কফির কাপে চুমুক দেওয়ার আগে একরকম থাকে এবং কফি খাওয়ার পর একরকম হয়ে যায়। এটার থেকেই আপনি কিছুটা হলেও ধারণা পাবেন যে ক্যাফেইন কতখানি আসক্তির ব্যাপার হতে পারে। 

তবে এটা হয়ত অনেকেরই জানা যে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর এক কাপ কফি খাওয়ার অভ্যাস ছাড়াটা কতটা কষ্টের! তাই হেলথ বার্তা টিম ঠিক করেছে এটা আপনাদের জানানো আবশ্যক যে, আপনি যদি পুরোপুরি কফি খাওয়া ছেড়ে দেন তাহলে আপনার শরীরে কোন ধরনের পরিবর্তন ঘটতে পারে এবং তখন আপনার কি করা উচিত। 

আপনার ওজনে পরিবর্তন আসবে 

অপ্রত্যাশিতভাবে শরীরের ওজন পরিবর্তন হলে যে কারও জন্য তা চাপ তৈরি করতে পারে এবং কফি ছাড়ার কারণে মাঝে মাঝে এটি হয়ে থাকে। ক্যাফেইন বিপাকের বুস্টার হিসাবে কাজ করে যার অর্থ আপনার শরীর আরও দক্ষতার সাথে ক্যালোরি বার্ন করতে পারে। আপনি যখন কফি পান করা বন্ধ করেন, তখন ক্যালোরি বার্ন করতে ঐ পরিমাণ ক্যাফেইন শরীর আর সরবরাহ করতে পারবেনা এবং বাস্তবে আপনার ওজন কিছুটা বেড়ে যাবে।

অন্যদিকে আপনি যদি দিনে ৩ বার ফ্রেপ্পাচিনো খাওয়ার অভ্যাস ছেড়ে দেন তাহলে আপনার ওজন অবিশ্বাস্যভাবে কমে যাবে। কারণ শরীর আর সেই পরিমাণ ক্যালোরি পাবেনা। 

মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হবে

কফি মানুষকে আরও সজাগ করে তোলে কারণ এটি ডোপামিন এবং অ্যাড্রেনালাইন নিঃসরণকে উদ্দীপিত করে, যা মস্তিষ্কের ক্রিয়াকলাপ এবং রক্তচাপ বাড়ায়। এর অর্থ হল একবার আপনি কফি পান করা বন্ধ করে দিলে আপনি কাজ বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্রিয়ায় মনোনিবেশ করতে অসুবিধার সম্মুখীন হবেন কারণ আপনার মস্তিষ্ক যেভাবে ব্যবহার করা হত তেমনভাবে আর উদ্দীপিত হবে না।

মাঝে মাঝে কেঁপে উঠতে পারেন 

এটি শুনলে গুরুতর মনে হতে পারে তবে এটি নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত হওয়ার কিছু নয়। ক্যাফেইন কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের জন্য উদ্দীপনার একটি শক্তিশালী উৎস। একবার আপনি এটি ছেড়ে দিলে, সেই উদ্দীপক প্রভাবটি কেটে যাওয়ার কারণে আপনি কাঁপুনি অনুভব করতে পারেন। কিছু লোক নিয়মিত ক্যাফেইন ওভারডেজের কারণে মাঝে মাঝে হাত কাঁপা অনুভব করেন।

উদ্বিগ্নতা বেড়ে যেতে পারে 

এমনকি যদি আপনি উদ্বিগ্ন ব্যক্তি না-ও হন তবে আপনার ক্যাফেইন প্রত্যাহার কার্যকর হওয়ার সাথে সাথে আপনি অবশ্যই কিছুটা উদ্বেগের মুখোমুখি হবেন। উদ্বেগ তাদের ক্ষেত্রে অনেক বেশি বেড়ে যেতে পারে যারা প্রকৃত কফি লাভার ছিলেন কিন্তু যেকোন কারনে প্রিয় পানীয় খাওয়া ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অপর্যাপ্ত ক্যাফেইন সরবরাহের কারণে মস্তিষ্ক রাসায়নিক ভারসাম্যহীনতায় ভোগে যার ফলে এটি ঘটে থাকে।

ঘন ঘন মাথা ব্যথা হতে পারে 

দুর্ভাগ্যক্রমে, মাথাব্যথা হল ক্যাফেইনের ঘাটতি হওয়ার সবচেয়ে সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া। এটি আপনার রক্তনালীগুলি খোলার কারণে ঘটে, ফলে মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়। একবার শরীর বর্ধিত রক্ত প্রবাহের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারলে মাথাব্যথা অবশেষে ম্লান হয়ে যায়।

আমরা জানি যে এই প্রক্রিয়ায় আপনি কেমন অনুভব করতে পারেন। এবং মাথা ব্যথার সাথে সম্পর্কিত অস্বস্তি আপনার প্রতিদিনের ক্রিয়াকলাপগুলিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

আপনি দুর্বলতা অনুভব করবেন 

কফিতে আসক্ত হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হল এটি আমাদের শক্তি বৃদ্ধি করে। দুর্ভাগ্যক্রমে, প্রভাবটি কেবল গড়ে ৫ ঘন্টা স্থায়ী হয়, এ কারণেই আমাদের মধ্যে অনেকে প্রতিদিন ১ কাপের বেশি কফি পান করে, এই আশায় যে সারাদিন জোরদার এবং সফলভাবে কাজে মনোনিবেশ করা যাবে।

তবে কফি পান করা বন্ধ করার পরে এটি আপনার শরীরের উপর বিপরীত প্রভাব ফেলবে। বেশিরভাগ ক্যাফেইন আসক্ত ব্যক্তিরা কফি পান করা ছেড়ে দেওয়ার সাথে সাথেই প্রচন্ড ক্লান্তি অনুভব করতে শুরু করেন।

কীভাবে এই নেতিবাচক প্রভাবগুলো হ্রাস করতে পারবেন? 

আপনি দেখতে পাচ্ছেন যে, আমরা যখন আমাদের দেহকে সকালের এক কাপ কফি এবং বিকালের কফি খাওয়া থেকে বঞ্চিত করি তখন আমাদের দেহ বিভিন্নভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়। সুসংবাদটি হল এমন কিছু উপায় রয়েছে যার মাধ্যমে আমরা এই প্রতিক্রিয়াগুলো প্রশমিত করতে বা এমনকি প্রতিরোধ করতে পারি।

তাই আপনি যদি নিজের থেকেই কফি পান করা ছেড়ে দিতে চান এবং সেই সিদ্ধান্তের পরে শরীরের বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া মোকাবেলা করতে চান তাহলে কি কি করতে হবে এক নজরে দেখে নিন।

ধীরে ধীরে কফি খাওয়া ছাড়ুন 

ক্যাফেইনের নেশা ছাড়ার এটা সবচেয়ে ভালো উপায়। আপনি যদি সত্যিকারের একজন কফি লাভার হয়ে থাকেন আর দিনে ৩ কাপ কফি খেয়ে থাকেন তাহলে দিনে ৩ কাপের পরিবর্তে শুধু সকালে খান এক সপ্তাহ। তারপরের সপ্তাহে গড়ে মিলে ৩ কাপ খান।

এভাবে ধীরে ধীরে খাওয়া কমাতে থাকুন। তাহলে শরীর ক্যাফেইন গ্রহণের মাত্রার সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিবে এবং যখন আপনি পুরোপুরি কফি খাওয়া ছেড়ে দিবেন তখন আর কোন সমস্যা অনুভব করবেন না। 

হাইড্রেটেড থাকুন এবং চা পান করুন 

আপনি যখন এক্স-কফি লাভার হয়ে যান তখন নিজেকে হাইড্রেটেড রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ন হয়ে পড়ে। তাই প্রতি ঘন্টায় এক গ্লাস পানি পান করুন। এবং কফির পরিবর্তে সকালে কাপে চুমুক দেওয়ার অভ্যাস বজায় রাখতে পছন্দের কোন চা বেঁছে নিন। 

ব্যায়াম করুন এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন 

স্ট্রেস থেকে দূরে থাকতে এবং এনার্জি লেভেল ঠিক রাখতে খাবার তালিকায় কোন ক্যাফেইন রাখা যাবেনা। আর সাথে প্রতিদিন ১০-১৫ মিনিট ব্যায়াম এবং ওয়েট লিফটিং প্রশিক্ষণ নিতে পারেন।

এগুলো রক্তসঞ্চালনের জন্য খুবই ভাল এবং আপনার শক্তি বাড়িয়ে তুলতেও সাহায্য করবে। সক্রিয় থাকার কারনে আপনার মনোযোগ বেড়ে যাবে এবং কফির কথা মনেও পড়বেনা।

খাদ্য তালিকা পরিবর্তন করুন 

ক্যাফেই প্রত্যাহারের সাথে মোকাবিলা করার সময় আপনার একটি বিষয় বিবেচনা করা উচিত যা হল আরও উচ্চ ফাইবারযুক্ত খাবার আপনার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখা। সেক্ষেত্রে বেশি বেশি ফল এবং শাকসবজী খাওয়া উচিত, কারণ এগুলি ফাইবারের সেরা প্রাকৃতিক উৎসগুলোর মধ্যে একটি। এছাড়াও এগুলো আপনার শরীরে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস সরবরাহ করবে। 

তাহলে বুঝতেই পারছেন, কফি খাওয়া ছেড়ে দিলে সেটা শরীরের জন্য কতখানি উপকারী। তবে আপনি যদি কফি খাওয়া ছেড়ে দিয়ে থাকেন বা খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে থাকেন তাহলে কীভাবে করেছেন তার অভিজ্ঞতা অবশ্যই আমাদের সাথে শেয়ার করুন।

আশা করি পোস্টটি আপনাদের ভালো লেগেছে। স্বাস্থ্য সম্পর্কিত যেকোনো তথ্য পেতে আমাদের ফেজবুক পেজে লাইক দিয়ে সাথেই থাকুন।

Categories
Uncategorized

যে ১০টি খাদ্য আপনার বাচ্চার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর!

আপনার হয়ত অফিসের জন্য দেরি হয়ে যাচ্ছে এদিকে আপনার বাচ্চাদেরও হয়ত তাদের স্কুলের জন্য দেরি হয়ে যাচ্ছে। এমতবস্থায় আপনাকে বাধ্য হয়ে তাড়াতাড়ি কিছু একটা তৈরি করতে হয় সকালের নাস্তার জন্য। আর আপনি হয়ত দুধ এবং সিরিয়াল মিশিয়ে আপনার বাচ্চাকে খেতে দিলেন। কি, এই ব্যপারটা নিশ্চয় খুব পরিচিত লাগছে তাইনা? 

তবে আপনি কি চান যে ছোটবেলা থেকেই আপনার বাচ্চাদের মধ্যে এমন কিছু অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে উঠুক যেটা তারা বড় হয়েও বজায় রাখবে? কিন্তু বাস্তবিক অর্থে ব্যপারটা খুবই কঠিন হয়ে দাড়ায় যখন মা-বাবা দুইজনই বাইরে কাজ করে থাকেন। তবে ছোটবেলা থেকেই বাচ্চাদের জানানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে কোন খাবারগুলো আসলে তাদের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো এবং কোনগুলো ক্ষতিকর। 

তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক কোন খাবারগুলো আপনার বাচ্চাদের জন্য ক্ষতিকর এবং সেগুলোর পুষ্টিকর বিকল্প কি হতে পারে।

বাচ্চার জন্য ক্ষতিকর খাদ্য তালিকা

১। জুস 

প্রথমে আসি জুসের কথায়। এই ফলের রসের পানীয়টা অধিকাংশ বাচ্চাদের প্রিয়। তবে জুস বানানোর সময় যে পরিমাণ চিনি এতে মেশানো হয় তা তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের রক্তে মিশে যায় যা কার্বোহাইড্রেট্রের মেটাবোলিজমের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তাই আমেরিকান একাডেমি অব পিডিয়াট্রিক্স জুসের বদলে বাচ্চাদের শুধু ফল খাওয়ানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে চিনি এবং পানি ছাড়া ফলের জুস করে খাওয়াতে পারেন এবং বাজার থেকে জুস কিনে খাওয়ানোর কথা তো ভুলেই যান! 

২। দই 

আমরা সবাই জানি দই স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। কিন্তু বাচ্চাদের দই খাওয়ানোর আগে দইয়ের গায়ে জড়ানো লেবেল টা পড়ুন এবং দেখুন যে এটা আসলে কি কি উপকরণ দিয়ে বানানো। আর সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে কখনোই ফ্রিজে রাখা দই ব্যাতিত খোলা সেলফ-এ রাখা দই কিনবেন না কারণ সেটা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। সবসময় চেষ্টা করবেন চিনি ছাড়া প্রাকৃতিক দই কিনে খাওয়ানোর যেটা অবশ্য বাজারে পাওয়া মুশকিল। তাই সবথেকে ভালো হয় যদি আপনি বাড়ি দই বানিয়ে খাওয়ান। কারণ চিনিযুক্ত দই খেলে বাচ্চাদের ওজন বেড়ে যাবে এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিবে। 

৩। কর্ণফ্লেক্স এবং সিরিয়াল

কর্ণফ্লেক্স এবং যেকোনো ধরণের সিরিয়াল বিজ্ঞাপনে দেখতে খুব ভালো লাগে এবং খুবই স্বাস্থ্যকর মনে হয়। আর বিজ্ঞাপনদাতা সবসময় দাবি করে থাকেন যে এগুলো অনেক পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এগুলো বিন্দু পরিমাণেও ভিটামিন ও মিনারেলস তো বহন করেই না বরং চিনিতে ভরপুর। প্রোডাকশনের সময় ভুট্টা, গম ও ওটসের সব গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যায় এবং শুধু কার্বোহাইড্রেট অক্ষত থাকে। যার ফলে এটা কোনভাবেই বাচ্চাদের ক্ষুধা মেটাতে পারেনা এবং এক বাটি কর্ণফ্লেক্স খাওয়ার কিছুক্ষণ পরে আবার ক্ষুধা পেয়ে যায়। তাই এর পরিবর্তে ওটমিল খাওয়াতে পারেন এবং স্বাদ বাড়িয়ে তুলতে সাথে কিছু ফল ও বাদামও যোগ করতে পারেন। 

৪। আঙ্গুর

যদিও আঙ্গুর অনেক ধরণের ভিটামিন ও মিনারেলস-এ ভরপুর তবুও বাচ্চাদের আঙ্গুর খেতে দেওয়া ঠিক নয়। কারণ এটা স্লিপারি এবং যেকোনো সময় বাচ্চাদের গলায় আটকে যেতে পারে। আর বাচ্চাদের পাকস্থলীর জন্য আঙ্গুর হজম করা অনেক কঠিন হয়ে যায়। তাই  আঙ্গুরের পরিবর্তে বেশি বেশি কলা খাওয়াতে পারেন। 

৫।  কোক এবং মিল্কশেক

যদি আপনার বাচ্চার জন্য কোক এবং মিল্কশেকের মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিতে বলা হয় তাহলে আপনি কোনটি বেছে নিবেন? নিশ্চয় মিল্কশেক? কিন্তু এই দুইটিই আপনার বাচ্চার জন্য ক্ষতিকর। কারণ এটা প্রচুর পরিমাণে চিনি এবং ফ্যাট বহন করে। আধুনিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, নিয়মিত এরকম ফ্যাটি ড্রিংক খেতে থাকলে হৃদরোগের আশংকা বাড়তে থাকে, যেটা শুধু বাচ্চাদের জন্য নয় বড়দের জন্যও প্রযোজ্য। 

৬। ফাস্টফুড 

বড়দের প্রিয় কিন্তু অস্বাস্থ্যকর খাবার ফাস্টফুড যেমন ফেঞ্ছ ফ্রাই, পিজ্জা এবং বার্গারের সাথে আপনার বাচ্চাকে ভুলেও পরিচয় করাবেন না! এগুলো ঠিক আছে তাদের জন্য, যারা যথেষ্ট পরিশ্রম করে তবে আপনার বাচ্চার জন্য নয়। কারণ এগুলো লবণ, চিনি এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাটে পরিপূর্ণ। আর এগুলো যদি নিয়মিত খেতে থাকা হয় তাহলে স্থুলতাসহ উচ্চ কোলেস্টেরল এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে থাকে। 

৭। কফি 

আর আপনি হয়ত ইতোমধ্যেই জানেন যে বাচ্চাদের জন্য কফি ক্ষতিকর। কিন্তু আপনার মনে প্রশ্নে আসতে পারে যে আসলে কেন ক্ষতিকর? বিশ্বব্যাপী নাম করা স্বাস্থ্য বিষয়ক ম্যাগাজিন হেলথ লাইনের লেখক টবি অ্যামিডর অনেকগুলো কারণের মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক কারণগুলো প্রকাশ করেছেন। কফিতে থাকা ক্যাফেইন বাচ্চাদের শরীরে ক্যালসিয়াম শুষে নিতে বাধা দেয় যেটা বাচ্চাদের হাড়কে দুর্বল করে দেয়। এবং কফিতে অ্যাড করা চিনি স্থূলতা ও ক্যাভিটিসের কারণ হতে পারে। 

৮। প্রোসেসড মিট

প্রোসেসড মিট থেকে বাচ্চাদের দূরে রাখুন যেমন সসেজ, হট ডগ, বেকন ইত্যাদি। কারণ এগুলো সোডিয়াম এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাটে পরিপূর্ণ। যখন প্রতি নিয়ত এগুলো খাওয়া হয় এবং অনেক বেশি পরিমাণে, তখন তা হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল এবং উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। তাই প্রোসেসড মিটের পরিবর্তে সাধারণ ভাবে রান্না করা মাংস ব্যবহার করে হট ডগ বানিয়ে খাওয়ান। এতে আপনার বাচ্চার মনও ভরবে আবার স্বাস্থ্যের কোন ক্ষতিও হবেনা। 

৯। চিকেন নাগেট

অধিকাংশ বাচ্চাদেরই চিকেন নাগেট একটি অতি প্রিয় খাবার। কারণ সেগুলো খেতে অনেক সুস্বাদু এবং বিভিন্ন শেপে পাওয়া যায়। কিন্তু এর অতিরঞ্জিত প্যাকেজিং দেখে মোটেই বিভ্রান্ত হবেন না। কারণ এটা প্রিজারভেটিভ, লবণ, ক্যালরি এবং চিনিতে পরিপূর্ণ। এগুলোর পরিবর্তে বাসায় চিকেন নাগেট বানিয়ে ফেলুন অথবা চিকেন ব্রেস্ট খুব ভালভাবে বেক করে খাওয়ান। 

১০। টমেটো কেচাপ 

কেচাপ বাড়িতে আনা বন্ধ করুন। কারণ কেচাপ দিয়ে খাবার খেতে সুস্বাদু লাগলেও এটা শুধু চিনি, কর্ণ সিরাপ, ফুড কালার এবং অতিরিক্ত ফ্যাট বহন করে। তাই টমেটো দিয়ে বাড়িতেই বানিয়ে ফেলুন মজাদার কেচাপ।

Categories
Foods

যেসব খাবার কখনোই একসঙ্গে খাওয়া উচিত নয়

খাদ্য ছাড়া বেঁচে থাকার কথা ভাবাই যায়না! কেউ কেউ ভালবাসে সাধারণভাবে রান্না করা খাবার আবার কেউ কেউ ভালবাসে একটু তীব্র সুগন্ধযুক্ত ও ভিন্ন কম্বিনেশনের খাবার খেতে। 

তবে খেয়াল রাখবেন ভিন্ন কিছু খেতে গিয়ে যেন শরীরের ১২ টা না বেজে যায়! দুধ আর আনারস একসঙ্গে খেলে যেমন শরীরের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে তেমনি আরও কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো একসঙ্গে খেলে অনেক বড় বিপদ ঘটতে পারে।

ডায়েট স্পেশালিষ্টদের মতামত অনুসারে, এমন ৬জোড়া খাবারের কম্বিনেশন তুলে ধরা হল যেগুলো একসঙ্গে না খাওয়াই আপনার জন্য মঙ্গলজনক। 

যে খাবারগুলো একসঙ্গে খাওয়া উচিত নয়

১। কলা ও দুধ জাতীয় খাবার

ঘাবড়ে গেলেন নিশ্চয়? স্বাস্থ্যসচেতন লোকদের মাঝেই এই দুইটি খাবার একসঙ্গে খাওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। কারণ কলা ও দুধ সহজলভ্য এবং একই সাথে পুষ্টিকর ও তাড়াতাড়ি এর স্মুদি তৈরি করা যায়। আয়ুর্বেদের মতে, এই খাবার দুইটির সংমিশ্রণ সবচাইতে ভারী ও বিষাক্ত। এটা শরীরে একরকম ভারী ভাব এনে দেয় এবং মনকেও মন্থর করে দেয়। 

তবে কলা ও দুধের স্মুদি ছাড়া যদি চলতে না পারেন, সেক্ষেত্রে অবশ্যই লক্ষ্য রাখুন কলা যেন ভালভাবে পাকা হয়। আর হজমের সুবিধার জন্য এতে এলাচের গুড়ো মিশিয়ে দিন। 

২। কফি ও স্যান্ডউইচ 

অধিকাংশ লোকই সকালের নাস্তা শুরু করেন কফি এবং স্যান্ডউইচ দিয়ে। যখন হাতে মোটেই সময় থাকেনা এবং বাইরের থেকে কিছু খেয়ে নিতে হয় তখন তো এর থেকে ভালো সমাধান আর হতেই পারেনা। 

কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত চিজ স্যান্ডউইচের সাথে কফি খাওয়া মানেই চিজের সব গুণাগুণকে বিদায় করে দেওয়া। এর প্রধান কারণ হচ্ছে পাউরুটিতে থাকা কার্বোহাইড্রেট, ক্যালসিয়ামকে হজম হতে বাধা প্রদান করে। 

যার ফলে আপনার স্নায়ুতন্ত্র এবং রক্ত সংবহনতন্ত্রের কাজ ঠিকভাবে সম্পন্ন হয়। তাই সেক্ষেত্রে যদি স্যান্ডউইচের সাথে ইনস্ট্যান্ট কফি খান তাহলে সেটা আপনার শরীরের কোন কাজেই লাগেনা। 

তবে দুঃখ পাবেন না, যদি চিজ স্যান্ডউইচ আপনার খুব প্রিয় হয়ে থাকে তাহলে কফির পরিবর্তে গ্রিন টি পান করুন। এটা শুধু আপনার তৃপ্তি-ই মিটাবে না, আপনাকে এনারজেটিক ও রিফ্রেসশড রাখবে যা ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাবে ও আপনার ত্বককে সুন্দর করবে। 

৩। টমেটো ও শশা 

এটা শুনে আপনি এতক্ষণ হয়ত রীতিমতো চমকে গিয়েছেন তাইনা? কারণ সালাদ হিসাবে তো টমেটো ও শশার কম্বিনেশন ছাড়া কিছু চিন্তায় করা যায় না! সারা বিশ্বেও এর প্রচলন চোখে পড়ার মতো। তবে আধুনিক গবেষণাগুলো বলছে, এই দুটো সবজি একসঙ্গে খাওয়া মোটেই স্বাস্থ্যকর নয়। কারণ এটা আপনার শরীরের প্রাণরসায়নিক ব্যবস্থাপনাকে বিপাকে ফেলছে। 

এই দুইটি সবজি একসঙ্গে খেলে আপনার শরীরে বেশি পরিমাণে ক্যালসিয়াম জমে যায় এবং যে পরিমাণে ভিটামিন এগুলো বহন করে তা সঠিকভাবে পরিপাক হয়না। ফলে আপনার শরীর ফুলে যাবে যেটা হয়ত আপনি মেনে নিতে পারবেন না!

এই দুইটি খাবারের হজমের সময় ভিন্ন ভিন্ন হওয়ায় আজকে টমেটোর সালাদ খেলে কালকে শশার সালাদ খান। এতে আপনার শরীর পরিপূর্ণ ভিটামিন পাবে এবং আপনি থাকবেন তরতাজা! 

৪। ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের সাথে স্টেক 

এখনকার সময়ে এটা খুবই জনপ্রিয় একটা কম্বিনেশন। আর রেস্টুরেন্টগুলো যে হারে অফার দিচ্ছে তাতে করে মানুষের স্টেক খাওয়ার হার দিন দিন বেড়েই চলেছে। তবে স্টেকের সাথে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই খেয়েছেন তো বিপদে পড়েছেন! 

কারণ আলুতে থাকা অতিরিক্ত স্টার্চ হজমে ক্ষারীয় অন্ত্ররস প্রয়োজন। অন্যদিকে মাংসে থাকা প্রোটিন হজম করতে অম্লীয় অন্ত্ররস প্রয়োজন। তাই এই দুইটি খাবার আপনি যখন একসাথে খাবেন তখন তা পাকস্থলীতে আটকে থাকে এবং হৃৎপিণ্ডের নানারকম সমস্যা হতে থাকে যেমন- বুক জালাপোড়া, ঘন ঘন ঢেকুর ওঠা, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা এবং আরও কত কি। 

তবে এই সমস্যা এড়াতে মাংসের সাথে আলুর পরিবর্তে স্টার্চবিহীন সবজি খেতে পারেন। যেমন- ব্রকলি, শতমূলী, ধুন্দল, ফুলকপি অথবা শিম। 

৫। আনারসের সাথে দুধ

এটা আমরা হয়ত সকলেই জানি যে দুধ এবং আনারস একসঙ্গে খাওয়া উচিত নয়। কিন্তু এর আসল কারণ কি হতে পারে তা কি কখনো ভেবেছেন? টকজাতীয় ফল হজম হতে অনেক সময় লাগে বিশেষ করে সকালের দিকে। এছাড়াও আনারসে, ব্রোমালাইন নামক এক ধরণের এনজাইম থাকে যার কারণে এটি দুধ বা দুধের তৈরি কোন খাবারের সাথে খেলে বিষক্রিয়া হতে পারে। 

তবে যদি আপনি দুধের সাথে ফল মিশিয়ে খেতে পছন্দ করেন তাহলে কিসমিস যোগ করতে পারেন যা খাবারকে সুস্বাদু তো করবেই এবং তাড়াতাড়ি হজমও হয়ে যাবে। 

৬। বিয়ার ও লবণযুক্ত বাদাম 

চোখ কপালে ওঠার মতোই একটা বিষয় এটা। কারণ বিশ্বব্যাপী বিয়ার খুবই জনপ্রিয় একটি ড্রিঙ্কস। আর অনেকেই আছেন যারা বিয়ারের সাথে স্পাইসি কিছু খেতে পছন্দ করেন এবং সহজলভ্য হিসাবে বেছে নিতে পারেন লবণযুক্ত বাদামকে। কিন্তু আপনার জন্য এটা মোটেই সুখবর নয়। 

উচ্চমাত্রার লবণযুক্ত খাবার শুধু অস্বাস্থ্যকরই নয় বরং ডিহাইড্রেশনের একটা বড় কারণ। লবণযুক্ত খাবার প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম বহন করে যা আপনার শরীর থেকে তরল পদার্থ বের করে দেয় এবং আপনি তৃষ্ণার্ত অনুভব করেন। যার কারণে হয়ত আপনি গ্লাসের পর গ্লাস বিয়ার খেতেই থাকেন। 

এটা সার্বজনীন যে, আমাদের শরীরে বিয়ারের অনেক ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে। তার মধ্যে একটা হল আপনার ভুঁড়ি বেড়ে যাবে। তবে বিয়ারের সাথে বাদাম খাওয়ার লোভ যদি সামলাতে না পারেন, তাহলে বিয়ারের পাশে সোডা অথবা পানি রাখুন যেটা আপনার পিপাসা মেটাতে সাহায্য করবে এবং অধিক পরিমাণে বিয়ার খাওয়া থেকেও আপনাকে বিরত রাখবে।  

এগুলো ছাড়াও আপনার যদি এমন কোন খাবারের কম্বিনেশন জানা থাকে যেগুলো একসঙ্গে খাওয়া খুবই অস্বাস্থ্যকর তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করুন।

আশা করি পোস্টটি আপনাদের ভালো লেগেছে। স্বাস্থ্য সম্পর্কিত যেকোনো তথ্য পেতে আমাদের ফেজবুক পেজে লাইক দিয়ে সাথেই থাকুন।

Categories
Foods

সৌন্দর্য চর্চায় অ্যালোভেরার ভূমিকা

প্রায় প্রতিদিনই বাইরে যেতে হয় নানা প্রয়োজনে। কিন্তু বাইরে বেরুলেই ধূলা-বালিতে ত্বকের অবস্থা শোচনীয় হয়ে যায়। ব্যস্ততার কারণে হয়তো পার্লারে গিয়ে ত্বকের যত্ন নেওয়ার সুযোগও হয়না। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ত্বকের যত্নে সবচেয়ে ভাল প্রাকৃতিক উপাদানের মধ্যে অ্যালোভেরা খুবই উপকারী।

আমাদের দেশে ঘৃতকুমারী নামেও এটি পরিচিত। আর ত্বককে সুন্দর রাখতে অ্যালোভেরার মতো প্রাকৃতিক উপাদান বেশি ব্যবহার করা উচিত কারণ প্রাকৃতিক উপাদানের কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই।

তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক ত্বকের যত্নে অ্যালোভেরার ভূমিকা কি এবং সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে অ্যালোভেরা কীভাবে ব্যবহার করবেন সে সম্পর্কে। 

প্রাকৃতিক স্ক্রাব

স্ক্রাব হিসেবে অ্যালোভেরা ব্যবহার করতে পারেন। বিশেষ করে শুষ্ক ত্বকের জন্য এটি খুবই কার্যকর। অ্যালোভেরার সঙ্গে দুধ, মসুর ডালের গুঁড়া, তুলসী পাতা, চন্দন ও গোলাপ পাপড়ি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। মিশ্রণটি দিয়ে ঘষে ঘষে ত্বক পরিষ্কার করুন। এতে করে মরা কোষ উঠে স্নিগ্ধ হবে ত্বক। তাই সপ্তাহে অন্তত ২ বার এই প্যাক ব্যবহার করুন। 

বলিরেখা দূর করে 

ত্বকের বলিরেখা দূর করার জন্য অ্যালোভেরার রস খুবই উপকারী। এজন্য শুকনো কমলালেবুর খোসার গুঁড়ো, চালের গুঁড়ো, মধু ও তুলসী পাতার মিশ্রণের সঙ্গে অ্যালোভেরা মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এই মিশ্রণটি ত্বকে লাগিয়ে রাখুন কিছুক্ষণ। এরপর শুকিয়ে গেলে ঠাণ্ডা পানির ঝাপটায় ধুয়ে ফেলুন। এভাবে নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বকের বলিরেখা দূর হবে এবং অল্প বয়সে বুড়িয়ে যাওয়া প্রতিরোধ হবে। 

প্রাকৃতিক নাইট ক্রিম

রাতে ক্ষতিকর নাইট ক্রিমের বদলে অ্যালোভেরা জেল লাগান। দেখবেন স্কিন গ্লো করছে মাত্র এক সপ্তাহে। যদি অ্যালোভেরা গাছের থেকে জেল নিয়ে মাখতে পারেন তাহলে সবচেয়ে ভালো ফল পাবেন।

কিন্তু অ্যালোভেরা গাছ না থাকলে, পতঞ্জলির অ্যালোভেরা জেলও ব্যবহার করতে পারেন। রাতে ঘুমোতে যাবার আগে ভালো করে মুখ ধুয়ে পুরো মুখে ভালোভাবে অ্যালোভেরার জেল লাগান। সকালে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। তবে ভালো ফলাফলের জন্য এটি সপ্তাহে সাত দিনই ব্যবহার করতে হবে। নিয়মিত ব্যবহার করতে বাড়িতেই লাগাতে পারেন অ্যালোভেরা গাছ। এতে প্রতিদিন তাজা পাতা পাওয়া যাবে।

সানবার্ন দূর করে

সানবার্ন থেকে রেহাই পেতে অ্যালোভেরার চেয়ে ভালো কোন সমাধান হতেই পারেনা। তাই ত্বকের রোদে পোড়া ভাব দূর করতে হোমমেড অ্যালোভেরার লোশন ব্যবহার করতে পারেন। সবচেয়ে ভালো হয় যদি অ্যালোভেরা জেল সরাসরি ত্বকে লাগাতে পারেন তাহলে। নিয়মিত ব্যবহারে নিমিষেই রোদে পোড়ার তামাটে রঙ দূর হয়ে যাবে।

ব্রণের যম

অ্যালোভেরার প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান ব্রণ সারাতে আর নুতন কোষ জন্মাতে খুবই কার্যকর। অ্যালোভেরার জেল আইস কিউব ট্রেতে করে অ্যালোভেরার আইস কিউব তৈরি করে এই কিউব দিনে দু তিনবার ব্রণ আক্রান্ত স্থানে ঘষলে ব্রণের সমস্যার সমাধান হবে।

ক্ষত সারাতে ওস্তাদ

অ্যালোভেরার অ্যান্টিসেপটিক গুনাগুনও উল্লেখযোগ্য। অ্যালোভেরার পাতার জেল বের ফ্রিজে রাখুন আর অল্প কেটে গেলে বা ক্ষত হলে সাথে সাথে ফ্রিজ থেকে কিউব বের করে লাগান। দিনে দুই বা তিন বার লাগালেই ক্ষত দ্রুত সেরে উঠবে।

চুলের যত্নে অ্যালোভেরা

ত্বকের পাশাপাশি চুলের জন্য অ্যালোভেরা অনেক দরকারি। অ্যালোভেরা ব্যবহারে মাথার ত্বকের পি এইচ ঠিক থাকে আর খুশকিও দূর হয়। ২ঃ১ অনুপাতে  অ্যালোভেরা জেল আর ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে মাথার ত্বকে লাগিয়ে সারা রাত রেখে সকালে শ্যাম্পু করতে হবে। এতে করে চুল খুশকি মুক্ত থাকবে।

ঠোঁটের রঙ উজ্জ্বল করে

ঠোঁটের রঙ উজ্জ্বল রাখতে, ঠোঁট নরম আর মসৃণ করতে অ্যালোভেরা ব্যবহার করা যায়। নিয়মিত অ্যালোভেরা জেল ঠোঁটে লাগালেই ঠোঁট উজ্জ্বল হবে। এক টেবিল চামচ চালের গুঁড়া আর অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে আস্তে আস্তে এই মিশ্রণ ঠোঁটে ঘষে লাগিয়ে ৫ মিনিট পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এরকমভাবে কিছুদিন করলে দেখতেই পারবেন ঠোঁট কত উজ্জ্বল, মসৃণ এবং কোমল হয়ে ওঠে।

ত্বকের ইনফেকশন দূর করে

পোকামাকড়ের কামড় অথবা ইনফেকশন দূর করতে পারে অ্যালোভেরা। এজন্য অ্যালোভেরা জেল আক্রান্ত স্থানে কিছুক্ষণ ঘষে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। 

ত্বক উজ্জ্বল করে 

নিয়মিত অ্যালোভেরার জুস পান করলে ত্বক থাকে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল। এছাড়া অ্যালোভেরা জেল সরাসরি ত্বকে লাগালেও ত্বক হবে উজ্জ্বল ও সুন্দর। 

ত্বকের লালচে ভাব দূর করে 

ত্বকের লালচে ভাব দূর করতে ময়েশ্চারাইজার অথবা ক্রিমের সঙ্গে অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে নিয়মিত ব্যবহার করুন। এতে করে ত্বকের লালচে ভাব দূর হয়ে ত্বক হবে প্রানবন্ত।

শুষ্ক ত্বকের যত্নে

রুক্ষ ও প্রানহীন ত্বকের যত্নে অ্যালোভেরা অনন্য। ত্বকে প্রতিদিন অ্যালোভেরা জেল ম্যাসাজ করুন। ত্বকের পিএইচ লেভেল নিয়ন্ত্রণ করে ত্বক সুস্থ রাখবে এটি। অ্যালোভেরার রস মুখে লাগিয়ে শুকিয়ে গেলে এভাবেই ঘুমিয়ে পড়তে পারেন।

সারারাত অ্যালোভেরার রস ত্বকের নানা সমস্যা দূর করতে ভূমিকা রাখবে। তবে তুলো বা সুতি কাপড় ছাড়া অন্যকিছু দিয়ে ত্বকে অ্যালোভেরা লাগানো ঠিক নয়। তাতে অ্যালার্জী হওয়ার ঝুকি তৈরি হয়। শুধু মুখের জন্য নয়, পুরো শরীরে ব্যবহার করা যায় অ্যালোভেরা।

এক্ষেত্রে সাবধানতা হলো, অ্যালোভেরার রস ত্বকে লাগিয়ে রোদে যাওয়া যাবে না। তাতে উল্টো ত্বকের ক্ষতি হতে পারে।

আশা করি পোস্টটি আপনাদের ভালো লেগেছে। স্বাস্থ্য সম্পর্কিত যেকোনো তথ্য পেতে আমাদের ফেজবুক পেজে লাইক দিয়ে সাথেই থাকুন।

Categories
Uncategorized

জেনে নিন, প্রতিদিন ১টি করে টমেটো খেলে কি হয়?

টমেটো এমন একটি খাবার যেটা দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ এলাকায় এক সময় বিষাক্ত মনে করা হতো এবং আজও যাকে আমরা সবজি ভেবে ভুল করি, কারণ আসলে সেটা একটা ফল। তবে জানেন কি প্রতিদিন একটি করে টমেটো খেলে আমাদের শরীরের কি হবে? চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক।

টমেটো খাওয়ার উপকারিতা

১। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ

টমেটোতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে। অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের কথা আমরা প্রায় সময়ই শুনে থাকি, কিন্তু জানেন এটা কেন এতো গুরুত্বপূর্ণ? আসলে এটা দেহে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে, রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, ধমনী সুরক্ষিত রাখে এবং হার্টকে সুস্থ রাখে। এছাড়াও টমেটোতে লাইকোপেন নামে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে যার কারণেই টমেটো লাল রঙের হয়ে থাকে। 

২। দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে

টমেটো আপনার দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে। মনে করেন, আপনার শরীরে ভিটামিন এ-এর ঘাটতি দেখা দিয়েছে তাহলে চোখের জন্য এটা মোটেও খুশির সংবাদ নয়। কারণ চোখ তখন সঠিকভাবে আলো সনাক্ত করে আপনার ব্রেনে সিগন্যাল পাঠাতে পারেনা। তবে সুসংবাদ হচ্ছে, টমেটোতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ থাকে।

এছাড়াও এতে ক্যারোটিনয়েডস থাকে যা চোখে ক্ষতিকর আলো ঢুকতে বাঁধা দেয় এবং আপনার চোখের টিস্যুগুলোকে সুরক্ষিত রাখে। 

৩। ত্বক উজ্জ্বল করে 

উজ্জ্বল ত্বক পেতে টমেটোর কোন বিকল্প নেই। অ্যান্টি-এজিং প্রোডাক্ট কেনার সময় কোলাজেন শব্দের নাম হয়ত সবাই শুনেছেন। এটা এমন একটা প্রোটিন যেটা আপনার ত্বককে কোমল ও প্রাণবন্ত রাখতে সাহায্য করে। তবে এই প্রোটিন একা একা কিছু করতে পারেনা, এর সঠিকভাবে কাজ করতে ভিটামিন সি এর প্রয়োজন হয়। আর ভিটামিন সি আপনার ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি এবং ফ্রি-রেডিকেল থেকে রক্ষা করে।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে, প্রতিদিন এই ফলটি খেলে তা সানবার্ন, ব্রণ এবং ত্বকের অন্যান্য দাগ দূর করতে সাহায্য করে। আপনি যদি ত্বকের কোলাজেন লেভেল বাড়ানোর জন্য প্রতিদিনের চাহিদা অনুযায়ী ভিটামিন সি খুঁজে থাকেন, তাহলে একটি টমেটো থেকেই তার ৩০% পেয়ে যাবেন!!  

৪। রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

আপনি হয়ত জেনে থাকবেন যে, অসুস্থ হলে বেশি বেশি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খেতে হয়। কিন্তু আপনি যদি প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন সি খান তাহলে ঘন ঘন অসুস্থ হওয়ার সম্ভবনা কমে যায়। কারণ ভিটামিন সি ব্যাক্টেরিয়া এবং ভাইরাল ইনফেকশনের বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং আপনার রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এতে মনে হয় আপনার একটু অসুবিধা হয়ে যাবে, কারণ আপনি তখন আর ঘন ঘন স্কুল কিংবা অফিস কামায় দিতে পারবেন না!! তবে যাই হোক, এটা সত্য যে আপনি সবসময় তরতাজা ও চনমনে থাকবেন! 

৫। শক্তি বৃদ্ধি করে 

টমেটোতে প্রচুর পরিমাণে ফলিক এসিড থাকে যেটা আসলে এক প্রকার ভিটামিন বি যা অবসাদ দূর করতে ওস্তাদ! যার ফলে আপনার এনার্জি লেভেল বেড়ে যাবে এবং আপনি সারাদিন অ্যাক্টিভ থাকতে পারবেন। শুধু এই নয়, গবেষকরা এটা প্রমাণ করেছে যে, যারা নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণে টমেটো খায় তাদের রক্তে ফলিক এসিডের মাত্রা বেশি থাকে যা তাদেরকে ডিপ্রেশন থেকে দূরে রাখে। 

৬।  চুল সুন্দর রাখে

টমেটো আপনার চুল সুন্দর রাখতে সাহায্য করবে। বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের পাশাপাশি এটা আপনাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন কে সরবরাহ করে থাকে। এটা মনে করা হয় যে, চুলের জন্য টমেটো ম্যাজিকের মত কাজ করে। কারণ এটা আসলে চুলকে গোঁড়া থেকে মজবুত করে এবং দ্রুত লম্বা হতে সাহায্য করে।   

৭। হাড় মজবুত করে 

টমেটোতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং ক্যালসিয়াম থাকে যা হাড়কে মজবুত ও শক্তিশালী করে। এতে থাকা লাইকোপেন, অস্টেওপোরেসিস প্রতিরোধ করে যেটা একটা মারাত্মক রোগ। কারণ এই রোগে আক্রান্ত হলে হাড়ে ছিদ্র হওয়া ও হাড় ভেঙ্গে যাওয়ার আশংকা থাকে। 

৮। স্ট্রোকের সম্ভবনা কমায়

মেডিটেরানিয়ান ডায়েট যারা ফলো করেন তাদের মধ্যে হার্টের রোগ হওয়ার সম্ভবনা অনেক কম থাকে। কারণ এই ডায়েটে টমেটো এবং অলিভ অয়েলের পরিমাণ বেশি থাকে। টমেটো জুসে থাকা পুষ্টি উপাদান রক্ত জমাট বাঁধতে দেয়না। এছাড়াও হার্ভার্ডের এক গবেষণায় জানা গেছে যে, যারা বেশি বেশি টমেটো খান তাদের স্ট্রোকের সম্ভবনা অনেক কম থাকে। 

৯। ওজন কমাতে সাহায্য করে

টমেটো ওজন কমাতে সাহায্য করে। যদি আপনি ওজন কমানোর কথা চিন্তা করে টমেটো নাও খেয়ে থাকেন তবুও আপনার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় এটা থাকলে আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এতে অনেক কম পরিমাণে ক্যালরি থাকায় তা শরীরে ফ্যাট জমতে দেয়না। এছাড়া এটা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্যও অনেক উপকারী।

১০। মস্তিকের শক্তি বাড়ায় 

টমেটোতে এমন কিছু পুষ্টি উপাদান থাকে যা মস্তিককে শক্তিশালী করে তোলে। তাই আপনি যদি প্রায়শই ভুলে যাওয়ার সমস্যাই ভুগে থাকেন এবং কোন কাজে ঠিকভাবে মনোযোগ দিতে না পারেন তাহলে আপনার জন্য প্রতিদিন টমেটো খাওয়া বাধ্যতামূলক!  

আশা করি পোস্টটি আপনাদের ভালো লেগেছে। স্বাস্থ্য সম্পর্কিত যেকোনো তথ্য পেতে আমাদের ফেজবুক পেজে লাইক দিয়ে সাথেই থাকুন।