Categories
Foods

সুপারফুড স্পিরুলিনা কেন এতো উপকারী?

স্পিরুলিনা মুলত কি?

স্পিরুলিনা হল একটি নীল-সবুজ শৈবাল যা বিশুদ্ধ এবং লবনাক্ত উভয় পানিতেই জন্মে। এটি এক ধরনের সায়ানোব্যাকটেরিয়া। এর পুষ্টি উপাদান এবং সম্ভাব্য স্বাস্থ্য সুবিধার কারণে মানুষ একে সুপারফুড বলে মনে করে।

স্পিরুলিনা মূলত সাপ্লিমেন্টারী ফুড। এতে প্রোটিন,আয়রন, আয়োডিন এবং অন্যান্য ভিটামিন রয়েছে, যা নিরামিষভোজীদের জন্য একটি উপযুক্ত খাদ্যতালিকাগত সম্পূরক।

গবেষণা প্রস্তাব করে যে, স্পিরুলিনাতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং প্রদাহ-লড়াই বৈশিষ্ট্য ও ইমিউন সিস্টেম নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করার ক্ষমতা রয়েছে। []

স্পিরুলিনা এর পুষ্টিগুণ

স্পিরুলিনা একটি ভেষজ শক্তিবর্ধক সম্পূরক। ১০০ গ্রাম স্পিরুলিনা পাউডারে-

উপাদানপরিমাণ
শক্তি২৫০ কিলোক্যালরী
প্রোটিন৫০ গ্রাম
শর্করা৫০ গ্রাম
লৌহ৫৪ মিলি গ্রাম
ফসফরাস১০০০ মিলি গ্রাম
পটাসিয়াম১৫০০ মিলি গ্রাম
ম্যাঙ্গানিজ৩ মিলি গ্রাম
থায়ামিন৫ মিলি গ্রাম
রিবোফ্লেভিন৪.২৫ মিলি গ্রাম
নিয়াসিন১০ মিলি গ্রাম

স্পিরুলিনা শরীরে কিভাবে কাজ করে?

১। স্পিরুলিনা পুষ্টির একটি শক্তিশালী উৎস। এতে ফাইকোসায়ানিন নামে একটি শক্তিশালী উদ্ভিজ্জ প্রোটিন রয়েছে। স্পিরুলিনাকে একটি সম্পূর্ণ প্রোটিন বলা যেতে পারে কারণ এতে অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড থাকে। যা কিনা আমাদের শরীরের জন্য দরকার। এই অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড মূলত খাদ্যের মাধ্যমেই গ্রহণ করতে হয়। কারণ এরা শরীরে উৎপ্নন হয় না।

২। এর মধ্যে থাকা প্রোটিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান অপুষ্টি প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। কারণ স্পিরুলিনায় প্রায় ৬০% প্রোটিন রয়েছে বলে দেখা গেছে।

৩। এতে আয়রন রয়েছে যা কিনা রক্তাল্পতা দূর করতে সহায়তা করে।

৪। তাছাড়া এতে গামা লিনোলেনিক এসিড বিদ্যমান যা কিনা শিশুর সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

৫। পেটের উপকারী ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধিতে সাহায্য করে, যার ফলে হজমশক্তি বাড়ে ও পেটের সুস্বাস্থ্য বজায় থাকে।

সুপারফুড স্পিরুলিনা এর উপকারিতা

সুপারফুড স্পিরুলিনার উপকারিতা

১। কোলেস্টেরল কমাতে

স্পিরুলিনা নির্যাস গ্রহণ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করতে পারে। উচ্চ কোলেস্টেরলের মাত্রা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
২০১৩ সালের একটি গবেষণায়, গবেষকরা দেখেছেন যে প্রতিদিন ১ গ্রাম স্পিরুলিনা গ্রহণ করলে ৩ মাস পর মানুষের মোট কোলেস্টেরল কমে যায়।

২। রক্তচাপ কমাতে

কোলেস্টেরল কমানোর পাশাপাশি, স্পিরুলিনা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে থাকে। ২০১৬ সালের একটি ছোট আকারের গবেষণায় দেখা গেছে যে ৩ মাস ধরে নিয়মিত স্পিরুলিনা গ্রহণ করা অতিরিক্ত ওজন এবং উচ্চ রক্তচাপযুক্ত ব্যক্তিদের রক্তচাপ হ্রাস করে। []

৩। হৃদরোগ প্রতিরোধে

উচ্চ রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা উভয়ই হৃদরোগের সাথে যুক্ত। ২০১৮ সালের পর্যালোচনায় দেখা যায় যে স্পিরুলিনা হৃদরোগের মতো দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহজনিত রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে। এটি রক্তচাপ, গ্লুকোজের মাত্রা এবং লিপিড স্তরের উপর প্রভাবের কারণে হতে পারে। []

৪। গর্ভাবস্থায়

স্পিরুলিনা মানবদেহে একটি গতিশীল কাজ করে এবং মাকে একটি সুস্থ শিশুর জন্ম দিতে সাহায্য করে। এর কিছু সম্ভাব্য স্বাস্থ্য সুবিধা রয়েছে-

  • গর্ভাবস্থায় আয়রন ও ফলিক অ্যাসিডের চাহিদা বেশি থাকে তাই স্পিরুলিনায় উপস্থিত এই পুষ্টি উপাদান হিমোগ্লোবিন উন্নত করতে সাহায্য করে এবং রক্তাল্পতা এবং ক্লান্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে।
  • স্পিরুলিনা গ্রহণ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। সুতরাং, এটা বলা যেতে পারে যে স্পিরুলিনা গর্ভকালীন ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সাহায্য করে।
  • স্পিরুলিনায় উচ্চ ঘনত্ব সহ ওমেগা অ্যাসিড রয়েছে। এটি মায়ের গর্ভে থাকাকালীন শিশুর মস্তিষ্কের বৃদ্ধিতে সাহায্য করতে পারে
  • স্পিরুলিনায় বেশ কিছু ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে যা হরমোনের ভারসাম্য বাড়ায় এবং মানবদেহে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
  • গবেষণায় দেখা গেছে যে, স্পিরুলিনা সম্পূরক, গর্ভবতী মহিলাদের শেষ ট্রাইমেস্টারে হিমোগ্লোবিনেমিয়া উন্নতিতে আয়রন এবং ফলিক অ্যাসিডের সাপ্লিমেন্টের চেয়ে বেশি কার্যকর এবং রক্তাল্পতা প্রতিরোধে ভূমিকা পালন করে। []

৫। চোখের সুস্থতায়

স্পিরুলিনায় রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বিটা ক্যারোটিন। শরীর বিটা ক্যারোটিনকে ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত করে, যা চোখের স্বাস্থ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

২০১৯ সালে প্রকাশিত গবেষণায়, বিজ্ঞানীরা ৪ সপ্তাহের জন্য ইঁদুরকে একটি আদর্শ খাদ্য বা ২০% স্পিরুলিনাযুক্ত খাদ্য দিয়েছেন। তারপরে, তারা অন্ধকারে সময় কাটানোর জন্য ইঁদুরদের ছেড়ে দেয় এবং ১ ঘন্টা সাদা আলোতে রাখা হয়। যে ইঁদুরগুলি স্পিরুলিনা খেয়েছিল তাদের ভাল সুরক্ষা ছিল এবং তাদের চোখের রেটিনা এবং ফটোরিসেপ্টরগুলির কম ক্ষতি হয়েছিল।

অর্থাৎ এটি পরামর্শ দেয় যে স্পিরুলিনা মানুষের চোখের স্বাস্থ্য রক্ষা করতে সাহায্য করতে পারে, যদিও আরও গবেষণা প্রয়োজন। []

৬। ওজন কমাতে

২০২০ সালের পর্যালোচনা উপসংহারে এসেছে যে খাদ্যে স্পিরুলিনা অন্তর্ভুক্ত করলে যা কমাতে সাহায্য করতে পারে:

  • বডি মাস ইনডেক্স (BMI)
  • শরীরের চর্বি
  • কোমরের পরিধি
  • ক্ষুধা
  • রক্তের লিপিড

এর সম্ভাব্য কারণ হল স্পিরুলিনার উপাদানগুলি ছোট অন্ত্রকে চর্বি শোষণ করতে বাধা দেয়।

৭। অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি

প্রাণীজ গবেষণায় দেখা যায় যে স্পিরুলিনা মানুষের বয়স বাড়ার সাথে সাথে অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে। বয়স্ক ইঁদুরের উপর ২০১৭ সালের একটি গবেষণায় বলা হয়েছে যে স্পিরুলিনা বার্ধক্য প্রক্রিয়ার সময় স্বাস্থ্যকর অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া সংরক্ষণ করতে পারে। []

৭। গ্লুকোজ মাত্রা নিয়ন্ত্রণে

স্পিরুলিনা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে, যা ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় পাওয়া গেছে যে স্পিরুলিনা গ্রহণ করলে খালি পেটে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

৮। হৃদরোগ প্রতিরোধে

উচ্চ রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা উভয়ই হৃদরোগের সাথে যুক্ত। ২০১৮ সালের পর্যালোচনায় দেখা যায় যে স্পিরুলিনা হৃদরোগের মতো দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহজনিত রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে। এটি রক্তচাপ, গ্লুকোজের মাত্রা এবং লিপিড স্তরের উপর প্রভাবের কারণে হতে পারে।

৯। বিপাক বৃদ্ধি

স্পিরুলিনা একজন ব্যক্তির বিপাক বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। যারা দিনে ৬ গ্রাম স্পিরুলিনা গ্রহণ করেন তারা ওজন কমানো এবং স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত জীবনযাত্রার মানের পাশাপাশি উপকারী বিপাকীয় প্রভাব অনুভব করেন।

সুপারফুড স্পিরুলিনা মূলত কাদের জন্য ?

  • নিরামিষভোজীদের শরীরে আয়রন এবং প্রোটিনের ঘাটতি আছে তাদের জন্য একটি আদর্শ পরিপূরক হিসেবে কাজ করে।
  • যাদের শরীর দুর্বল ও ক্লান্ত থাকে, তাদের জন্য স্পিরুলিনা ভালো কাজ করে।
  • যারা অ্যাথলেটস ও প্রতিদিন খেলাধুলা করে, তারা স্পিরুলিনা খেতে পারেন।
  • যাদের কাজের চাপ বেশি থাকে, তারাও খাদ্য তালিকায় স্পিরুলিনা রাখতে পারেন।
  • যাদের থাইরয়েডের সমস্যা আছে, তাদের জন্য স্পিরুলিনা একটি সুপারফুড।

স্পিরুলিনা কিভাবে খাবেন?

স্পিরুলিনা কিভাবে খাবেন

স্পিরুলিনা নানাভাবেই খাওয়া যেতে পারে। যেমন-

ট্যাবলেট হিসেবে

  • একে ট্যাবলেট হিসেবে খাওয়া যেতে পারে। যা কিনা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খেতে পারেন।

পাউডার হিসেবে

  • স্পিরুলিনা পাউডার ফল বা সবজিতে যোগ করা যেতে পারে। যেমন- কলা, আনারস, আম ইত্যাদি।
  • এটা স্যুপ, সালাদ, পাস্তা, পাউরুটি বা দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • এক গ্লাস পানি বা জুসে এক চামচ স্পিরুলিনা পাউডার মিশিয়ে সরাসরি পান করা যেতে পারে অথবা স্মুদিতে ও ফলের রসের সাথে যোগ করা যেতে পারে।

কতটুকু ব্যবহার করা উচিত?

স্পিরুলিনার একটি আদর্শ দৈনিক ডোজ হল ১-৩ গ্রাম, কিন্তু প্রতিদিন ১০ গ্রাম পর্যন্ত ডোজ কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথ (এনআইএইচ) অনুসারে, লোকেরা সর্বাধিক ২ মাসের জন্য প্রতিদিন ১৯ গ্রাম পর্যন্ত এবং সর্বাধিক ৬ মাস ধরে প্রতিদিন ১০ গ্রাম পর্যন্ত ডোজ ব্যবহার করেছে। পণ্যের লেবেলে বর্ণিত ডোজ অতিক্রম করা উচিত নয়। [সূত্র]

স্পিরুলিনা দীর্ঘদিন কিভাবে সংরক্ষণ করা যায়?

স্পিরুলিনা ট্যাবলেট এবং পাউডার রেফ্রিজারেটরে সংরক্ষণ করা ভাল। যদিও সময়ের সাথে সাথে এর পুষ্টিগুণ হ্রাস পাবে। সুতরাং, স্পিরুলিনা খোলার কয়েক মাসের মধ্যেই এটি খাওয়া ভাল। তবে সংরক্ষণ করার সময় খেয়াল রাখতে হবে যাতে ঠান্ডা ও শুষ্ক স্থানে রাখা হয় এবং সূর্যের আলো থেকে এটি দূরে থাকে।

স্পিরুলিনা কোথায় পাবেন?

বিভিন্ন হেলথ ফুড স্টোর বা অনলাইন স্টোরে শুকনো স্পিরুলিনা পাওয়া যায়। স্পিরুলিনা ট্যাবলেটগুলি স্বাস্থ্যকর খাবারের দোকান, যে কোন ওষুধের দোকান এবং অনলাইনে পাওয়া যায়।

স্পিরুলিনার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

সাধারনত প্রাকৃতিক উপাদানে কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় না তবে অতিরিক্ত মাত্রায় যদি স্পিরুলিনা গ্রহণ করা হয়, তবে অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতি হতে পারে। যেমন-

  • ডায়রিয়া বা বমি বমি ভাব
  • গ্যাস্ট্রোইনটেসটিনাল সমস্যা

স্পিরুলিনা গ্রহনে সতর্কতা

  • যাদের ফিনাইলকিটোনিউরিয়া আছে, তাদের জন্য এটি ক্ষতিকর।
  • যাদের কিনা অটোইমিউন রোগ আছে, তাদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
  • দূষিত স্পিরুলিনায় কিছু ক্ষতিকারক টক্সিন থাকতে পারে যা গর্ভাবস্থায় ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই গর্ভবতী মা ও দুগ্ধদানকারী মা এটি গ্রহণের আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

স্পিরুলিনা ইতিমধ্যেই একটি খুব জনপ্রিয় এবং সুপরিচিত খাদ্যতালিকাগত সম্পূরক যার কিনা স্বাস্থ্যগত উপকারিতা অনেক। এতে উচ্চ ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট উপাদান থাকায় এটি ভিটামিন সম্পূরকগুলির জন্য একটি বিকল্প খাদ্য হিসাবে বিশেষজ্ঞগন খাওয়ার পরমার্শ দিয়ে থাকেন।

Categories
খাদ্যাভ্যাস ঘরোয়া সমাধান

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে করলার যত উপকারিতা

করলা স্বাদে তেতো হলেও, এতে থাকে অনেক পুষ্টিগুণ। করলায় থাকে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, জিংকসহ বিভিন্ন প্রকার ভিটামিন ও খনিজ উপাদান। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে করলার জুস খুবই উপকারী। উপমহাদেশ ও চীনের গ্রামাঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসের ওষুধ হিসেবে করলার রস পান করে আসছেন। 

এছাড়া বাত রোগে, লিভার ও শরীরের কোনো অংশ ফুলে গেলে তা থেকে পরিত্রাণ পেতে করলা ভালো পথ্য। নিয়মিত করলা খেলে জ্বর, হাম ও বসন্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে করলা

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে করলা জুসের উপকারিতা

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ম্যাজিকের মত কাজ করে করলা। এতে এমন উপাদান আছে, যা ইনসুলিনের পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিন করলা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। এক গবেষণায় করলার অ্যান্টিডায়াবেটিক বৈশিষ্ট্য প্রমাণ করে। এটি গ্লুকোজ বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে একটি হাইপোগ্লাইসেমিক প্রভাব প্রয়োগ করে। [1]

করলার শাঁস, বীজ এবং সম্পূর্ণ উদ্ভিদের নির্যাসে একটি হাইপোগ্লাইসেমিক প্রভাব রয়েছে। করলার মধ্যে উপস্থিত স্যাপোনিন, অ্যালকালয়েড এবং পলিফেনলগুলি ইনসুলিন সহনশীলতা এবং গ্লুকোজ গ্রহণ বৃদ্ধির জন্য দায়ী। [2]

এছাড়াও করলায় কয়েকটি সক্রিয় পদার্থ আছে। তাদের মধ্যে একটি হলো চারেন্টিন। এটি রক্তে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে রাখে। করলায় আরও আছে পলিপেপটাইড-পি বা পি-ইনসুলিন নামক একটি যৌগ। যা প্রাকৃতিকভাবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

করলা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। কারণ এটি রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা কমাতে পারে। ইনসুলিনের নিঃসরণ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে করলা।

এছাড়াও করলায় কয়েকটি সক্রিয় পদার্থ আছে। তাদের মধ্যে একটি হলো চারেন্টিন। এটি রক্তে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে রাখে। করলায় আরও আছে পলিপেপটাইড-পি বা পি-ইনসুলিন নামক একটি যৌগ। যা প্রাকৃতিকভাবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

করলা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। কারণ এটি রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা কমাতে পারে। ইনসুলিনের নিঃসরণ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে করলা।

করলা কিভাবে রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে? 

করলা ইনসুলিন রেজিস্টেন্স কমিয়ে রক্ত থেকে শরীরের কোষগুলোর সুগার গ্রহণ করার ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। তা ছাড়া করলা শরীরের কোষের ভেতর গ্লুকোজের বিপাক ক্রিয়াও বাড়িয়ে দেয়। ফলে রক্তের সুগার কমে যায়।

বিজ্ঞানীরা মোট তিনটি উপাদান পেয়েছেন যাদের হাইপোগ্লাইসেমিক ক্রিয়া আছে – এই তিনটি উপাদান হলো – চারেন্টিন, ভিসিন, পলিপেপটাইড-পি। এদের মধ্যে চারেন্টিন এর খুব ভালো গ্লাইসেমিক প্রভাব আছে। এছাড়া করলাতে লেকটিন নামে একটি উপাদান পাওয়া যায় যা রক্তের গ্লুকোজের ঘনত্ব কমিয়ে দেয় |

করলা এবং করলা থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন উপাদানসমুহ বিভিন্ন পদ্ধতিতে আমাদের রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। এটি যেসব পদ্ধতিতে আমাদের রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমায় সেগুলি হল-

  • এটি পেরিফেরাল এবং স্কেলেটাল পেশিতে গ্লুকোজের ব্যবহার বৃদ্ধি করে।
  • ক্ষুদ্রান্ত্রে গ্লুকোজের গ্রহণ কমায়।
  • গ্লুকোনিওজিক হরমোনের উৎপাদন ও ক্রিয়াকৌশলে বাধা প্রদান করে।
  • আইলেটস অব লেঙ্গারহেন্স এর বিটা সেলকে সংরক্ষণ করতে সাহায্য করে।

গবেষণা হতে দেখা যায় যে, করলার রস তাৎক্ষণিকভাবে ৩০ মিনিটের মধ্যে রক্তে শর্করার মাত্রা কমায় এবং ১২০ মিনিটে উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়।

অর্থাৎ করলা ইনসুলিন রেজিস্টেন্স কমিয়ে রক্ত থেকে শরীরের কোষগুলোর সুগার গ্রহণ করার ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। তা ছাড়া করলা শরীরের কোষের ভেতর গ্লুকোজের বিপাক ক্রিয়াও বাড়িয়ে দেয়। ফলে রক্তের সুগার কমে যায়।

শরীরে করলার অন্যান্য উপকারিতা

ডায়াবেটিস কমাতে সাহায্য করে

করলা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য পথ্য হিসাবে বিবেচিত হয়। যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে তাদের বেশি পরিমাণে তেতো খাওয়া উচিত। করলা/উচ্ছের রস এবং এই গাছের পাতা নিয়মিত সেবন করলে তা রক্তে চিনির মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করে।

১। হজমের জন্য ভাল– খাবার হজম করতে সহায়ক এবং হজম শক্তি বর্ধক এই সব্জি। তবে শুধু হজম শক্তিই নয়, করলা ফাইবারে পূর্ণ হওয়ায় এটি কোষ্ঠকাঠিন্যর মতো সমস্যা থেকেও মুক্তি দেয়।

২। হার্ট ভালো রাখে- এর তিক্ত রস এলডিএল অর্থাৎ খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায় এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি হ্রাস করে।

৩। প্রস্টেট ক্যান্সার- করলা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং অ্যালার্জি ও যে কোন রোগের সংক্রমণ রোধ করে। এটি ক্যান্সার কোষের বিস্তার রোধ করে। নিয়মিত করলা খেলে স্তন ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সার এবং প্রস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।

৪। ওজন নিয়ন্ত্রণ- ক্যালরি ও ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ায় করলা ওজন হ্রাসে সহায়তা করে। এটি অ্যাডিপোজ কোষ যা দেহে ফ্যাট সংরক্ষণ করে, তার গঠন এবং বৃদ্ধি বন্ধ করে। এটি পরিপাক ক্রিয়া উন্নতি করে এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টগুলি শরীরকে ডিটক্সাইয়েটে সহায়তা করে যাতে চর্বি হ্রাস করতে পারে।

৫। ক্ষত নিরাময়ে করলা- করলার দুর্দান্ত একটি বৈশিষ্ট্য এটি। কোন স্থানে ক্ষত হলে করলার ব্যবহার তৎক্ষণাৎ ওই স্থানের রক্ত প্রবাহ এবং রক্ত জমাট বাঁধা নিয়ন্ত্রণ করে, যার ফলে ক্ষতের দ্রুত নিরাময় হয়।

৬। রক্ত পরিশোধক– করলাতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এটি রক্ত সঞ্চালন উন্নত করতে সহায়তা করে। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।

৭। দেহে শক্তি জোগায়- নিয়মিত করলা সেবনে দেহে শক্তির মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।

৮। চোখের সমস্যা- করলা ভিটামিন এ সমৃদ্ধ, এটি ছানি প্রতিরোধ করে এবং দৃষ্টি শক্তিশালী করে। 

৯। শক্তিবর্ধক- করলার রস শক্তিবর্ধক হিসেবেও কাজ করে। এটি স্ট্যামিনা বাড়ানোর পাশাপাশি ভালো ঘুমে সহায়তা করে।

এছাড়াও এটি অনিদ্রার মতো সমস্যা হ্রাস করে। ডায়রিয়া ও পেটের অন্যান্য সমস্যাও কমাতে সহায়ক এই সব্জি। আমাদের দেহের ইমিউন সিস্টেমকে বাড়িয়ে তুলে শরীরকে রোগে সংক্রামিত হওয়ার থেকে সুরক্ষা প্রদান করে করলা।

  • যদিও এটি বেশিরভাগ মানুষের পক্ষে নিরাপদ, তবে এটি গর্ভবতী মহিলাদের খাওয়া উচিত নয় কারণ এর বীজ এবং রস প্রাণী গর্ভপাত ঘটানোর কারণ হিসেবে পরিচিত। 
  • বুকের দুধ খাওয়ানো মহিলাদের করলা খাওয়া এড়িয়ে চলতে হবে। এর বিষাক্ত পদার্থের একটি সংখ্যা তাদের শিশুর ক্ষতি করতে পারে।
  • করলা খাওয়ার কারণে যে সমস্ত মানুষের গ্লুকোজ ৬ ফসফেট ডিহাইড্রোজিনেস এনজাইম ঘাটতির জন্য ‘ফেবিজম’ (লোহিত কণিকা ভেঙ্গে যায়, হিমোলিটিক রক্তাল্পতা ঘটায়) নামক অবস্থার বৃদ্ধি হতে পারে এবং তাদেরও এটি এড়িয়ে চলা উচিত। 
  • রস হিসাবে, যদি এটি বেশি পরিমাণে খাওয়া হয় তবে এটি পেট ব্যথা, ডায়রিয়ার কারণ হতে পারে।

ডায়াবেটিক রোগীরা করলা কিভাবে খাবেন?

শুধু করলার জুস খেয়ে কি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব? 

ঔষধ, শরীরচর্চা আর নিয়ম মেনে খাওয়া-দাওয়া করলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে বটে, কিন্তু তা কোনভাবেই পুরোপুরি নিরাময় করা সম্ভব নয়। তাই যদি কেউ ভেবে থাকেন যে কোন রকমের নিয়ম না মেনে শুধুমাত্র করলার জুস খেয়ে ডায়াবেটিস নিযন্ত্রণ করা যাবে তবে তা একেবারেই ভুল ধারণা।

একটানা কতদিন করলার জুস খাওয়া যাবে? 

তিন মাস টানা খাওয়ার পর ১২-১৫ দিন খাওয়া বন্ধ করতে হবে। বাজারে চলতি যে জুস পাওয়া যায়, সেগুলি না খাওয়াই ভাল। এতে সোডিয়াম বেনজোইট মেশানো থাকে ফলে এগুলির কার্যকারিতা একটু হলেও কম হবে।

অতএব দেখা যাচ্ছে, করলার গুণাগুণ ও উপকারিতা ব্যাপক। করলা শুধু ডায়াবেটিক রোগীদের জন্যই না, সবার জন্য স্বাস্থ্যকর একটি সবজি। এটি শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

Diabetes Ad
Categories
ঘরোয়া সমাধান

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে চিরতার ভূমিকা

চিরতার ইংরেজি প্রতিশব্দ Swertia। চিরতা মূলত একটি ভেষজ উদ্ভিদ যা ভেষজ চিকিৎসা ও চিকিৎসা সামগ্রী তৈরিতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এর এক একটি গাছের উচ্চতা প্রায় দেড় থেকে দুই মিটার। মূলত ফুল থাকা আবস্থায় পুরো গাছ তুলে রোদে শুকিয়ে ঔষধ তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়। চিরতা মূলত জ্বর, অ্যালার্জি, চুলকানি, উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রনের পাশাপাশি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে বেশ কার্যকরী ভূমিকা রাখে। চলুন জেনে নি, চিরতা কিভাবে রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণ করে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে চিরতার ভূমিকা

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে চিরতার উপকারিতা

বর্তমান সময়ে ডায়াবেটিস বলতে গেলে প্রকট আকার ধারন করছে। ছোট থেকে বয়স্ক সকল বয়সী মানুষের ডায়াবেটিস হতে পারে। বিশেষ করে মোটা বা স্থুলকায় ও বয়স্কদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। চিরতা রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে থাকে। চিরতা দেহের অভ্যন্তরে অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন নামক হরমোন তৈরির প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। তাতে রক্তের সুগারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং ডায়বেটিসের সমস্যার উন্নতি হয়।

চিরতা কিভাবে রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণ করে?

চিরতার ব্যতিক্রমী হাইপোগ্লাইসেমিক বৈশিষ্ট্য শরীরের রক্তে শর্করার মাত্রাকে শান্ত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। β-অগ্ন্যাশয় কোষ থেকে ইনসুলিন উৎপাদন চিরতা ফর্মুলেশন গ্রহণে সক্রিয় হয়ে ওঠে। এটি গ্লুকোজে স্টার্চের ভাঙ্গন কমাতে সাহায্য করে যা ফলস্বরূপ রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমিয়ে দেয় এবং অবশেষে ডায়াবেটিস পরিচালনায় সহায়তা করে। [1]

Swertia প্রজাতির বিভিন্ন উপাদান থাকা সত্ত্বেও, জ্যান্থোন হল এই প্রজাতির সবচেয়ে বিশিষ্ট প্রাকৃতিকভাবে উদ্ভূত যৌগ, যার মধ্যে একটি স্বতন্ত্র পলিফেনলিক গঠন রয়েছে এবং অনেক ফার্মাকোলজিক্যাল প্রভাব দেখায়, যেমন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টিম্যালেরিয়াল, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিটিউমার, অ্যান্টি-ডায়াবেটিস এবং হেপাটোপ্রোটেকটিভ বৈশিষ্ট্য। 

গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এস চিরতা ৯৫% ইথানোলিক নির্যাস; খাওয়ানোর পর, খালি পেটে ও গ্লুকোজ লোডেড অ্যালবিনো ইঁদুরগুলিতে উল্লেখযোগ্য রক্তে শর্করার কমার প্রভাব দেখা যায়। এস চিরতা নির্যাস মৌখিকভাবে দেওয়ার মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর অ্যালবিনো ইঁদুরের মধ্যে টলবুটামাইডের হাইপোগ্লাইসেমিক কার্যকলাপ বৃদ্ধি পায়। [2]

চিরতার যত উপকারিতা

সুপ্রাচীনকাল থেকে চিরতা সমগ্র বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ ভেষজ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। খেতে তিতা হলেও এটি নানান প্রাকৃতিক ও ভেষজ গুণাগুণে ভরপুর। এই তিতা খাবার আমাদের দেহের ভিতর থাকা বিষাক্ত পদার্থ পরিষ্কার করে দেহকে সুস্থ্য রাখে এবং পাশাপাশি বিপাকীয় কার্যক্রম বাড়ায়। এছাড়াও তিতা_জাতীয় খাবার নানা রোগের উপশম হিসেবে কাজ করে।

  • দেহে রক্তকোষ গঠনের মাধ্যমে রক্তশূন্যতা কমায়। ঋতুস্রাব বা মাসিকে অনেকের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। তাদের জন্য চিরতার রস অনেক উপকারী। এমনকি কোথাও কেটে গেলে সে কাটা স্থানে চিরতার রস লাগিয়ে দিলে দ্রুত রক্ত পড়া বন্ধ হয়। অভ্যন্তরীন রক্তক্ষরণ, নাক দিয়ে রক্তপড়া এসব বন্ধ করতেও চিরতা অত্যন্ত কার্যকর।
  • চিরতায় প্রচুর পরিমাণে হেপাটোপ্রোটেকটিভ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এটি শরীর থেকে টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে এবং লিভারকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এটি লিভারের নতুন কোষের পুনর্জন্মেও সাহায্য করে।
  • গবেষণায় পাওয়া গেছে, যারা নিয়মিত চিরতার রস খায়, তাদের দেহে ক্যান্সারের জীবাণু খুব সহজে ঢুকতে পারে না। বিশেষ করে স্তন ক্যান্সার রুখতে চিরতা অনেক উপকারী।
  • চুল পড়া কমাতে চিরতার ভূমিকা রয়েছে। মাথার চুল পড়া শুরু করলে এক কাপ পরিমান গরম পানিতে ৫-৭ গ্রাম চিরতা ভিজিয়ে রাখতে হবে। সকালে পানি ছেকে নিয়ে সেই পানি দিয়ে মাথা ভালো করে ধুয়ে ফেলতে হবে।
  • শীতকালে ঘা হলে কিছুতেই শুকাতে চায় না। এক্ষেত্রে আগের দিন রাতে এক কাপ গরম পানিতে ৫ গ্রাম চিরতা ভিজিয়ে রেখে পরদিন সেই পানি ছেঁকে পচা ঘা ধুয়ে দিতে হবে। এভাবে ২-৪ দিন চিরতা ব্যবহার করলে ঘায়ের পচানি চলে যাবে ও দ্রুত শুকাবে। 
  • উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল, উচ্চরক্তচাপ, মুটিয়ে যাওয়া মানুষের নিয়মিত চিরতার পানি পান করা উচিত।

যাদের অ্যাজমা বা হাঁপানি জাতীয় রোগ আছে তাদের জন্য চিরতা অনেক উপকারী। আধা গ্রাম চিরতার গুঁড়ো ৩ ঘণ্টা অন্তর মধুসহ চেটে খেলে হাঁপানি দূর হয়।

ডায়াবেটিক রোগীরা চিরতা কিভাবে খাবেন? 

আগের দিন রাতে শুকনো চিরতা গুঁড়ো ৪-৫ গ্রাম পরিমাণ এক গ্লাস (২৫০ মিলিলিটার) গরম পানিতে ভিজিয়ে রেখে পরের দিন ওটা ছেঁকে সকালে খালি পেটে খেতে হবে। এটি খেতে তিতা লাগলেও ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

শুধু কি চিরতা খেলেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকবে?  

চিরতা পাতায় বেশ কিছু এন্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা ডায়াবেটিস induced oxidative stress কমিয়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কিছুটা সাহায্য করে। তবে শুধুমাত্র চিরতা খেয়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব নয়। হেলদি লাইফস্টাইলের পাশাপাশি চিরতা, মেথি, জাম, সজিনা এগুলো খেলে (প্রাকৃতিক উপায়ে) ভাল ফলাফল পাওয়া যায়।

একটানা কতদিন চিরতা খাওয়া যাবে? 

একটানা বেশি পরিমান কিংবা ১০ থেকে ১৫ দিনের বেশি চিরতা খাওয়া উচিত না, সমপরিমাণ দিন বিরতি নিয়ে আবার  খাওয়া উচিত। এতে চিরতা থেকে আশানুরূপ ফল পাওয়া যায়।

চিরতা সেবনে কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে কি?

উপকারের পাশাপাশি মাত্রাতিরিক্ত চিরতা সেবনে ক্ষতি হতে পারে। 

  • গর্ভবতী মায়েদের ও শিশুদের খাওয়ানোর আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। 
  • ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিরতা খাওয়া ভাল। কারণ চিরতা ইনসুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে ব্লাড সুগার লেভেল কমিয়ে আনে। অতিরিক্ত মাত্রায় খাওয়া হলে লো ব্লাড সুগারের প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
  • অতিরিক্ত চিরতা সেবনের ফলে আপনার ব্লাড প্রেসার কমে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। 
  • চিরতা অস্ত্রোপচারের সময় এবং পরে ব্যবহার না করাই ভাল।

পরিশেষে 

এই লেখা থেকে স্পষ্ট যে, ডায়াবেটিসে চিরতা ভালো কাজ করে। শুধু তাই নয়, এটি তিতা স্বাদের হলেও শরীরের জন্য খুবই উপকারী একটি ভেষজ। অন্যান্য অনেক রোগের জন্যও চিরতা খুবই উপকারী। তাই ডায়াবেটিসের রোগী ছাড়াও এটি যেকোন ব্যক্তি যদি নিয়মিত খেতে পারে, তাহলে রোগ-বালাই তার থেকে অনেক দূরে অবস্থান করবে।

Categories
খাদ্যাভ্যাস

ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা

ডায়াবেটিস রোগীকে সব সময় খাদ্যদ্রব্য ভালোভাবে বিবেচনা করে খাওয়া উচিৎ। তা না হলে রোগীর সুগার বেশি হয়ে ক্ষতির কারণ হতে পারে। ডায়াবেটিস ধরা পড়লেই রোগীরা অবিলম্বে তাদের খাদ্যের দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিৎ। এই লেখায় ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা কেমন হওয়া উচিৎ তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস আপনার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে রাখাতে সাহায্য করবে। চলুনজেনে নিই ডায়াবেটিস রোগীদের খাদ্য তালিকায় কি কি থাকা উচিৎ

ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা

ডায়াবেটিক রোগীর খাদ্য তালিকা কেমন হওয়া উচিৎ

একটি স্বাস্থ্যকর ও সুষম ডায়েটের জন্য পাচঁটি প্রধান গ্রুপ বা পদের খাবার খাওয়া প্রয়োজন। খাবারের মূল ৫টি গ্রুপ হল:

  • ফলমূল ও শাকসবজি
  • শ্বেতসার সমৃদ্ধ খাবারঃ লাল বা বাদামী চালের ভাত, লাল আটার রুটি বা পাউরুটি, আলু
  • প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারঃ ডিম, মাছ, মাংস, শিম ও অন্যান্য বীন, ডাল, বিভিন্ন ধরনের বাদাম,
  • দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারঃ দই, ছানা ও পনির এবং
  • বিভিন্ন ধরনের তেল, মাখন, ঘি

ফলমূল ও শাক সবজিঃ 

ফলমূল ও শাক-সবজিতে ভিটামিন ডি, খনিজ পদার্থ ও আঁশ প্রচুর পরিমাণে থাকে। কিন্তু ক্যালরির পরিমাণ অনেক কম থাকে। তাই এগুলো ডায়াবেটিস রোগীর খাবার তালিকায় রাখা উচিৎ। এগুলো রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও প্রধান ভূমিকা পালন করে।

কোন ফলগুলো খাওয়া ভাল?

  • সবুজ আপেল
  • আমড়া
  • আমলকি
  • কালো জাম
  • জাম্বুরা
  • জামরুল

এসব ফলের ক্যালরি খুব সামান্য এবং ফাইবারযুক্ত হওয়াই এগুলো ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বেশ উপকারী।

কিছু কিছু ফল থাকে , যেগুলোতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি থাকে। সে ধরনের ফলগুলো এড়িয়ে চলাই ভালো যেমনঃ

  • আম
  • পাকা কলা
  • কাঁঠাল
  • পাকা পেঁপে

তাই বলে কী আম কলা একেবারেই খেতে পারবো না?

অবশ্যই খাওয়া যাবে যদি আপনার সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রনে থাকে। আম খেলে এক টুকরো খান এবং কলা খেলে সপ্তাহে ১টি খান। তবে ফলের রস খাওয়া যাবে না ডাইবেটিক রোগীদের। ফলের রসে কোনো রকম ফাইবার থাকে না শুধু মাত্র প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি থাকে তাই এটা না খাওয়াই উত্তম।

ফল ও শাক-সবজি কতটুকু খাওয়া উচিত?

প্রতিদিন কমপক্ষে ৫ পরিবেশন ফল ও শাক-সবজি খাওয়া উচিৎ। হাতের তালুতে যতটুকু খাবার উঠে তাকেই ১ পরিবেশন বলে।

ডায়াবেটিক রোগীর সুবিধার জন্য শাকসবজিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।

শর্করা সম্বলিত সবজি

আলু, মিষ্টি কুমড়া, কাঁচা কলা, বরবটি, থোড়, মোচা, বিট, শিম, মাটির নীচের কচু, গাজর, কাঁকরোল, শিমের বিচি, কাঁঠালের বিচি, শালগম, ইঁচড়, ঢেঁড়স, বেগুন, মটর শুঁটি, কচুরমুখী, পাকা টমেটো।

শর্করাবিহীন শাকসবজি

সব ধরনের শাক, যেমন- লালশাক, পুঁইশাক, পালংশাক, কলমিশাক, ডাঁটাশাক, কচুশাক ইত্যাদি এবং সবজি যেমন  ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, ওলকপি, কাঁচা টমেটো, কাঁচা পেপে, শসা, খিরা, উচ্ছে, করলা, ঝিঙা, চিচিঙা, পটল, লাউ, চালকুমড়া, ডাঁটা, সজনা, ধন্দুল, ক্যাপসিকাম, কাঁচামরিচ, মাশরুম ইত্যাদি।

রান্নার উপরও ডায়াবেটিক রোগীর রক্তে শর্করার বাড়া-কমা অনেকটা নির্ভর করে। যেমন- আলুর চিপস বা ফ্রেন্সফ্রাইয়ের চেয়ে সিদ্ধ আলু খেলে শর্করার পরিমাণ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। গাজর কাঁচা না খেয়ে সিদ্ধ অবস্থায় খেলে শর্করার পরিমাণ দ্রুত বেড়ে যায়। তবে সবজি বেশি সিদ্ধ না করে একটু কাঁচা কাঁচা করে রান্না করা উচিত। এতে স্বাদ, গন্ধ, রঙ এবং ভিটামিন অটুট থাকে। [সূত্র]

শর্করা জাতীয় খাবার

আমাদের শরীরে কার্বোহাইড্রেট এর বিশাল ভূমিকা রয়েছে, এটি শরীরের চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। সুতরাং কি ধরনের শর্করা জাতীয় খাবার খাওয়া হচ্ছে এ ব্যাপারে খেয়াল রাখা উচিত। কারণ কিছু শ্বেতসারজাতীয় খাবার খুব দ্রুত রক্তে সুগার তথা গ্লুকজের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, ফলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। এসব খাবারকে বলা হয় উচ্চ ‘গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (জিআই)’-যুক্ত খাবার। আবার কিছু স্লো রিলিজ শর্করা জাতীয় খাবার রয়েছে যাদের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম। এগুলো ধীরে ধীরে শরীরে রক্তের সাথে মিশে ও ধীরে ধীরে ইনসুলিন নিঃসরণে সাহায্য করে।

লাল আটার রুটি, লাল চালের ভাত, ব্রাউন ব্রেড, ওটস, ওটমিল, চিড়া ইত্যাদি হল জটিল শর্করা। এদের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম। এগুলোতে উচ্চ পরিমাণে আঁশ থাকে। এতে করে খাদ্যআঁশ রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

আঁশ যুক্ত খাবার সনাক্তকরণ

কি পরিহার করবেনকি গ্রহন করবেন
সাদা চালের ভাতবাদামি বা লাল চাল এর ভাত
রেগুলার পাস্তাগমের পাস্তা, স্পেগেটি
সাদা পাউরুটিগমের রুটি, লাল আটার রুটি
চিনিযুক্ত সেরিয়ালগোল ওটস
কর্ণফ্লেক্সসবুজ শাক
ইনস্ট্যান্ট ওট মিলআঁশ ও কম চিনি যুক্ত সেরিয়াল

প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার

খাদ্যতালিকায় প্রোটিন একটা আবশ্যিক বিষয়। প্রোটিন এমন ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্ট যা কখনোই বাদ দেওয়া উচিৎ নয় কারণ এটা কোষ মেরামত ও ভাগ করতে সাহায্য করে। প্রোটিন ক্ষুধা নিবারণ করতে সাহায্য করে। পেশি গঠনে সহায়তা করে। এটি দীর্ঘ সময় ধরে পেট ভরা রাখে।

কিছু গবেষণায় টাইপ 2 ডায়াবেটিসের সফল ব্যবস্থাপনা পাওয়া গেছে যার মধ্যে রয়েছে খাবারের পরিকল্পনার সাথে সামান্য উচ্চ মাত্রার প্রোটিন (২০-৩০%), যা তৃপ্তি বৃদ্ধিতে অবদান রাখতে পারে। ডায়াবেটিক কিডনি রোগে আক্রান্তদের জন্য (অ্যালবুমিনিউরিয়া অথবা গ্লোমেরুলার ফিল্ট্রেশন রেট হার কম),  প্রতিদিন প্রতি কিলোগ্রাম শরীরের ওজনের ০.৮ গ্রাম খাদ্যের প্রোটিন সুপারিশ করা হয়েছে। [সূত্র]

উদ্ভিদ ও প্রাণীভিত্তিক উভয় খাবারেই প্রোটিন বিদ্যমান থাকে। ভাল প্রোটিন জাতীয় খাবার হলো ডিম, অল্প চর্বি জাতীয় দুধ, টক দই, দেশজ মাছ ও মুরগি ইত্যাদি। ডায়াবেটিস রোগীদের প্রোটিন জাতীয় খাবারে বাধা নেই যদি না তাদের কিডনি তে কোন জটিলতা না থাকে। অতিরিক্ত ক্যালরি এড়াতে বেকিং বা গ্রিল করার চেষ্টা করতে হবে ও  ভাজা এড়িয়ে চলতে হবে। তবে লাল মাংস (যেমন গরু, খাসি ও ভেড়ার মাংস) ও প্রক্রিয়াজাত মাংস (সসেজ, পেপারনি ও সালামি)-এর পরিমাণ কমিয়ে দিতে হবে, কারণ এগুলো খাওয়ার সাথে ক্যান্সার ও হার্টের রোগের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। 

দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার

খনিজ পদার্থ থেকে প্রোটিন নানা পুষ্টি উপাদানে ভরপুর হলো দুধ। এছাড়াও রয়েছে রকমারি ভিটামিন এবং ক্যালসিয়াম। এই সব উপাদানই ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের জন্য জরুরি। দুধে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি রয়েছে যা হাড়ের শক্তি বজায় রাখে। ডায়াবেটিক রোগীরা দুগ্ধজাত খাবার যেমন-টক দই, মাঠা খেতে পারেন।

ডায়াবেটিক রোগীরা দুধ কিভাবে খেতে পারেন?

ডায়াবেটিক রোগীর খাদ্য তালিকায় বিভিন্ন ধরনের তেল

চর্বি যেমন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, তেমনি রয়েছে এর অনেক গুন। উপকারী চর্বি যেমন, বাদাম, অলিভ ওয়েল, মাছের তেল ইত্যাদি ডায়াবেটিক রোগীরা খেতে পারে। তবে ফ্যাট বা চর্বি জাতীয় খাবারের অতিরিক্ত গ্রহণ ডায়াবেটিক রোগীর জন্য ক্ষতিকর।

স্বাস্থ্যকর চর্বিঃ অসম্পৃক্ত চর্বি সবচেয়ে ভাল, এটির প্রধান উৎস হল মাছ ও উদ্ভিজ্জ তেল যেমন–  অলিভ অয়েল, বাদামের তেল ইত্যাদি। মাছের তেলে থাকে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড যা বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করার  পাশাপাশি মগজ ও                                           হৃদপিণ্ডকে সবল রাখে।

অস্বাস্থ্যকর চর্বিঃ সবচেয়ে খারাপ চর্বি হল ট্রান্স ফ্যাট। ডিপ ফ্রাই খাবার, একই তেলে ভাজা খাবার, প্যাকেটজাত খাবার, প্রাণীজ তেলে ভাজা খাবার হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর চর্বি

সম্পৃক্ত চর্বিঃ সাধারণত বিভিন্ন দুগ্ধজাত পণ্য, লাল মাংস, ট্রপিক্যাল তেল এর উৎস।  এটি খাওয়া যেতে পারে, কিন্তু হিসেব করে।

কি ভাবে অস্বাস্থ্যকর চর্বি বা তেল পরিহার করবেন?

  • চিপস বা ক্র্যাকারস এর পরিবর্তে বাদাম বা বীজ জাতীয় খাবার খেতে পারেন। সাধারণ বাটার বা মাখনের পরিবর্তে পিনাট বাটার বেশ ভাল
  • খাবার কড়া করে ভাজার পরিবর্তে হালকা তেলে ভাজি, সিদ্ধ খাবার বা সেকা খাবার খেতে পারেন
  • প্যাকেটজাত খাবার, প্রক্রিয়াজাত খাবার পরিহার করুন
  • লাল মাংসের (যেমন– গরুর মাংস) পরিবর্তে চামড়াবিহিন মুরগির মাংস, মাছ, কুসম ছাড়া ডিম ও উদ্ভিজ্জ প্রোটিন খেতে পারেন
  • পাস্তা, সবজি ও সালাদে জলপাইয়ের তেল ব্যবহার করতে পারেন
  • স্যান্ডউইচ, বার্গার ইত্যাদির মাংসে থাকে অসম্পৃক্ত চর্বি, এগুলোতে মাংসের বদলে   সবজি যোগ করলে খাবারে ভিন্নমাত্রা আসবে
  • পরিমিত দুগ্ধজাত খাবার গ্রহণ

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে কি কি খাবার বাদ দিতে হবে

ডায়াবেটিস খাবার নিয়ে কিছু ভুল ধারনা

ডায়াবেটিস রোগের খাবার নিয়ে অনেক সময় কিছু ভুল ধারনা মানুষের মধ্যে দেখা যায়-

  • অতিরিক্ত চিনি খাওয়া ডায়াবেটিসের কারণ
  • ডায়াবেটিস হলে আপনাকে অবশ্যই সবার থেকে আলাদা খাবার খেতে হবে
  • মিষ্টি জাতীয় খাবার একেবারেই খাওয়া যাবে না
  • একেবারেই শর্করা সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া যাবে না

কেমন হওয়া উচিত ডায়াবেটিক রোগীর ডায়েট চার্ট

প্রত্যেক ডায়াবেটিক রোগীর জন্য কিন্তু খাদ্যতালিকা একরকম হবে না। ডায়াবেটিক রোগীদের খাবার ক্যালোরির উপর নির্ভর করে। প্রত্যেক রোগীর ইনসুলিন উত্পাদনের মাত্রা, রক্তে সাধারণভাবে বিদ্যমান চিনির মাত্রা, বয়স, লিঙ্গ, উচ্চতা, ওজন, কাজ ইত্যাদি অনুপাতে সংশ্লিষ্ট পুষ্টিবিদের কাছে গিয়ে খাদ্যতালিকা তৈরি করা হয়।

ডায়াবেটিক রোগীদের সঠিক পরিমাণ খাবার খাওয়া এবং সঠিক সময়ে খাবার খাওয়ার ওপর বিশেষ নজর দিতে হয়। খাদ্যের নিয়ম না মানলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব। তবে ডায়াবেটিসের পাশাপাশি যদি শারিরিক অন্য কোন জটিলতা থাকে তবে সে ক্ষেত্রে রোগীর চাহিদা ও অবস্থা অনুযায়ী ডায়েট প্লান করতে একজন ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ নিতে হবে।

এখানে একজন ডায়াবেটিস রোগীর জন্য ১৬০০ ক্যালরির চাহিদার একটি স্যাম্পল ডায়েট চার্ট বা খাবারের মেন্যু দেয়া হল।

সকালের নাস্তাপরিমাণ
গমের আটার রুটিসর্বচ্চ ৩ টা (৯০ গ্রাম)
ডিম অথবা ডাল১টা অথবা (১০ গ্রাম)
সবজি তরকারিপ্রয়োজন অনুসারে
Categories
ঘরোয়া সমাধান রোগ বালাই

বদহজমের লক্ষণ ও ঘরোয়া সমাধান : জানতে হবে

মাঝে মধ্যে বদহজম বা এসিডিটি হয় না এরকম মানুষ খুব কম আছে। তবে বদহজম বা ইনডাইজেশন একটি শারীরিক অবস্থা। এটা ডিসপেপসিয়া নামেও পরিচিত। এই অবস্থায় প্রায়শই পেটে ব্যথার সাথে একটা অস্বস্তিকর অবস্থা সৃষ্টি করে। পরিপাকজনিত সমস্যা বা বদহজমের জন্যই মূলত এই অবস্থা দেখা যায়।

বদহজম কেন হয়?

বদহজম কেন হয়

পাকস্থলীতে থাকা এসিড আপনার পাকস্থলীর আস্তরণ কিংবা গলায় জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে। একারণে বদহজম হয় এবং আপনি জ্বালাপোড়া ও ব্যথা অনুভব করেন। গ্যাস্ট্রিক ক্যানসারের লক্ষণ হিসেবেও বদহজম দেখা দিতে পারে।

বদহজমের আরও কিছু কারণ:

খাদ্যাভ্যাসে ভুল

বদহজম হওয়ার পেছনে খাদ্যাভ্যাস একটি বড় কারণ হতে পারে। অনেকেই-

  • খাবার ভালোভাবে না চিবিয়ে খেয়ে থাকেন এবং খাবারের মাঝে বারবার পানি খেয়ে থাকেন
  • অতিরিক্ত পরিমাণে খাদ্য গ্রহণ
  • তেল মশালাযুক্ত খাদ্য গ্রহণ

খাদ্য গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই শুয়ে পরা ইত্যাদি যা কিনা বদহজম ঘটাতে পারে।

অতিরিক্ত ঔষধ গ্রহণ  

অতিরিক্ত ঔষধ যেমন- অ্যাসপ্রিন বা আইব্রুফেন জাতীয় ঔষধ সেবন শরীরের জন্য মোটেও ভাল নয়। অতিরিক্ত পরিমাণে ওষুধ খেলে শরীরে এসিডের মাত্রায় তারতম্য ঘটে ফলে বদহজমের সৃষ্টি হতে পারে।

মদ্যপান বা ধূমপান

সিগারেটের ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ আমাদের শরীরের ভিতরের হজম সহায়ক এনজাইমগুলোকে নিঃসরণে বাধা দেয় ফলে হজম প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটায়। এর ফলে অনেকক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় ধরে শরীর কোন খাবার হজম করতে পারে না।  

অতিরিক্ত মদ্যপান বদহজমের সমস্যার জন্য দায়ী। বেশি মদ পান করলে তা শরীর থেকে পানি সরিয়ে কোষকে সংকুচিত করে তুলে। ফলে শরীরে পানি স্বল্পতা সৃষ্টি হয়ে বদহজম হতে পারে।

মানসিক চাপ

অতিরিক্ত মানসিক চাপ, মন খারাপ বা অবসাদ এবং দুশ্চিন্তা করলে তা শরীরের হরমোনের পরিবর্তন ঘটিয়ে থাকে। আর এর ফলে শরীরে খারাপ এনজাইমের নিঃসরণ হয় যা খাদ্য হজমে ব্যাঘাত ঘটিয়ে থাকে।

ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ

এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ যার নাম Helicobacter pylori। এর কারণেও বদহজম হতে পারে

বদহজমের লক্ষণ

বদহজমের লক্ষণ

বদহজমের কারনে এক বা একাধিক উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

  • পেট ব্যথা
  • উপরের পেটে অস্বস্তি
  • পেট ফাঁপা
  • বমি বমি ভাব
  • অল্প খাওয়ার পরই পেট ভার ভাব

বদহজমের সমস্যা গুরুতর হলে অন্যান্য অনেক উপসর্গ দেখা যায়। সেইরকম কিছু হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।

  • বমির সাথে রক্তপাত
  • ওজন হ্রাস
  • খাবার গিলতে অসুবিধা
  • কালো বর্ণের মলত্যাগ

বদহজম ও এসিড রিফ্লাক্সের মধ্যে পার্থক্য

বদহজমএসিড রিফ্লাক্স
বদহজম হল উপরের পেটে ব্যাথা বা অস্বস্তি।এসিড রিফ্লাক্স হল বুক জ্বালা-পোড়ার সাথে সম্পর্কিত একটি বিষয়।
বদহজমের মূল কারণগুলো হল অতিরিক্ত খাবার খাওয়া, দ্রুত খাবার খাওয়া, ধূমপান ইত্যাদি।এসিড রিফ্লাক্সের মূল কারণগুলো হল বেশি খাবার খাওয়া, ভারী খাবার খাওয়ার পর পরই শুয়ে পরা, ঘুমানোর আগে স্ন্যাক্স খাওয়া ইত্যাদি।
এটা সম্পূর্ণটাই নির্ভর করে বদহজমের নির্দিষ্ট কারণ এবং তার প্রকারের ওপর। কারোর ক্ষেত্রে অল্প সময়ের মধ্যে এই সমস্যা দূর হয়ে যায় কারো ক্ষেত্রে আবার দীর্ঘদিন যাবৎ এই সমস্যা স্থায়ী হতে পারে।এটি সাধারণত কিছু সময়ের জন্য (দুই ঘন্টা) পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
এর প্রতিকার হল মসলাযুক্ত খাবার পরিহার করা এবং ধূমপান বর্জন করা, রাতের খাবার দেরিতে না খাওয়া।এসিড রিফ্লাক্সের প্রতিকার হল এন্টাসিড জাতীয় ওষুধ যা পাকস্থলির এসিডকে প্রশমিত করে।

বদহজমের ঘরোয়া চিকিৎসা

বদহজম দূর করতে আমরা সাধারনত ঔষধের উপর নির্ভর করে থাকি। কিন্তু আমরা চাইলে ঘরোয়া কিছু উপায় মেনে বদহজম দূর করতে পারি।

১। থেরাপি

মানসিক চাপের কারণেও অনেক সময় হজমের সমস্যা দেখা যায়। এইসব ক্ষেত্রে বদহজম দূরীকরণের জন্য সবার প্রথম মানসিক চাপ কমানো দরকার। আর মানসিক চাপ কম করার জন্য এবং প্রয়োজনীয় থেরাপির পরামর্শ গ্রহণের জন্য একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা দরকার।

২। খাদ্যাভ্যাস

  • খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। দুধ ও দুগ্ধজাতীয় খাবার রোগীর উপসর্গ বাড়িয়ে দেয়। তাই এগুলো পরিহার করতে করা উচিত।
  • চা, কফি, কোমল পানীয় বাদ দিতে হবে।
  • অতিরিক্ত মসলা ও চর্বিযুক্ত খাবার বর্জন করতে হবে।
  • রাতের খাবার খাওয়ার ৩ ঘন্টা পর ঘুমাতে হবে।

৩। শারীরিক ব্যায়াম

যাদের বদহজমের সমস্যা তারা যদি কিছু ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রম করেন তবে এই সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব।

কখন ঔষধ প্রয়োজন?

তবে কিছুক্ষেত্রে বদহজম বা এসিডিটির মাত্রা মারাত্মক আকার কিছু ঔষধ এসিডের পরিমাণ কমায় সেগুলো হল-

  • এন্টাসিড (Antacid)
  • প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর

তবে যাদের বদহজমের সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে, তারা চিকিতসকের পরামর্শ নিয়ে ঔষধ গ্রহণ করতে পারেন। [2]

কোন কোন রোগে বদহজমের সমস্যা হয়?

  • হায়াটাস হার্নিয়া (Hiatus hernia)
  • গ্যাস্ট্রিক
  • পেপটিক আলসার
  • পাকস্থলীর ক্যান্সার 
  • গলগণ্ড ও অগ্নাশয়ের সমস্যা
  • গলব্লাডারে পাথর
  • কিডনীতে পাথর
  • খাদ্য নালীর অপারেশন 
  • Helicobacter pylori নামক জীবাণু দ্বারা সংক্রমণ 

গ্যাস্ট্রো-এসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ (gastro-oesophageal reflux disease) হলেও বদহজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

গর্ভবতী মহিলাদের বদহজমের সমাধান

বদহজমের অপ্রীতিকর লক্ষণগুলি আরাম ও প্রতিরোধে বেশ কয়েকটি পুরানো প্রতিকার ব্যবহার করা যেতে পারে। যদিও তাদের বেশিরভাগ বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়, অনেক প্রত্যাশিত মায়েরা তাদের সহায়ক বলে মনে করেন ।

  • খাওয়ার পরে গর্ভবতী মহিলাদের পেটে অতিরিক্ত চাপ দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • খাবারকে ৫-৬ বেলায় ভাগ করে বারে বারে খেতে হবে।
  • খাবারটি গিলে ফেলার আগে ধীরে ধীরে চিবিয়ে খেতে হবে।
  • কফি এবং কোমল পানীয় সীমিত করতে হবে। গর্ভাবস্থায় এগুলি থেকে দূরে থাকা উচিত।
  • চর্বিযুক্ত খাবার, চকোলেট এবং অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। কারণ এগুলো বদহজমকে আরও খারাপ করে তোলে।
  • খাওয়ার সময় সোজা হয়ে বসে থাকতে হবে। এটি পেট থেকে চাপ সরাতে সাহায্য করে এবং হজমকে সহজ করে তোলে।
  • ঘুমোতে যাওয়ার কমপক্ষে দুই থেকে তিন ঘন্টা আগে রাতের খাবার শেষ করতে হবে।
  • বিছানায় শোবার সময় আপনার মাথা ও ঘাড় উঁচু অবস্থানে রাখতে হবে- এটি ঘুমের সময় পাকস্থলীর এসিড গলা পর্যন্ত উঠে আসা বন্ধ করতে পারে। 
  • খাবারের সময় পানি পান করবেন না কারণ এটি বদহজমের লক্ষণগুলিকে বাড়িয়ে তোলে। খাওয়ার আগে বা পরে পান করতে হবে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে।
  • কোমরের চারপাশে আলগা এবং আরামদায়ক পোশাক পরিধান করতে হবে।
  • মানসিক চাপ কমাতে হবে।

কখন ডাক্তার দেখাবেন?

গর্ভাবস্থায় যদি উপসর্গগুলি আরও খারাপ হয়ে যায় তবে চিকিৎসকের সাহায্য নিতে হবে।

  • খাবার গিলতে অসুবিধা
  • তীব্র গ্যাস হলে
  • বমি বা পায়খানার সাথে রক্ত যাওয়ার সমস্যায় 
  • জ্বলন্ত সংবেদনের কারণে ঘুমাতে অক্ষম
  • কালো মল হলে
  • অতিরিক্ত ওজন কমে গেলে
  • পেটে তীব্র ব্যথা অনুভব করলে

গর্ভাবস্থায় বুকজ্বালা সন্তানের ক্ষতি করবে না বা প্রসবের উপর কোন প্রভাব ফেলবে না। তবে দীর্ঘস্থায়ী সময়কালের জন্য বুকজ্বালা থাকলে ডাক্তারের সাথে কথা বলতে হবে। এটি প্রি-এক্লাম্পসিয়ার চিহ্ন হতে পারে। এই অবস্থা প্রস্রাবের মধ্যে প্রোটিন এবং উচ্চ রক্তচাপ দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। মায়ের পাশাপাশি শিশুর জন্য এটি খুব বিপজ্জনক হতে পারে।

Categories
Uncategorized

ডায়াবেটিস নিরাময়ে সজিনা পাতার যত উপকারিতা

সজিনা একটি অতি পরিচিত দামি এবং সুস্বাদু সবজি। সজিনার ইংরেজি নাম Drumstick এবং বৈজ্ঞানিক নাম Moringa Oleifera উৎপত্তিস্থল পাক-ভারত উপমহাদেশ হলেও এ গাছ শীত প্রধান দেশ ব্যতীত সারা পৃথিবীতেই জন্মে। বারোমাসি সজিনার জাত প্রায় সারা বছরই বার বার ফলন দেয়। আমাদের দেশে ২-৩ প্রকার সজিনা পাওয়া যায়। বসতবাড়ির জন্য সজিনা একটি আদর্শ সবজি গাছ।

ডায়াবেটিস নিরাময়ে সজিনা পাতার উপকারিতা

সজিনা পাতা

১। ড্রামস্টিক বা মরিঙ্গা ওলিফেরা পাতা রক্তে শর্করার মাত্রা কমিয়ে ডায়াবেটিস-বিরোধী বৈশিষ্ট্য দেখায়। কারণ এতে আছে ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড যা রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল করে।

২। এতে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যগুলি প্রদর্শন করে যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। 

৩। এছাড়াও এই  পাতায় প্রচুর পরিমাণে অ্যাসকরবিক অ্যাসিড থাকে, যা শরীরে ইনসুলিন নিঃসরণ বাড়ায়, যার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যায়।

৪। এতে উপস্থিত বিভিন্ন ভিটামিন এবং খনিজ রক্তে-গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, এতে থাকা বিভিন্ন প্রোটিন রক্তে শর্করার মাত্রা কমায়। তাই এটি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য খুবই উপকারী। এটি পিত্তথলির কার্যকারিতাও বাড়াতে পারে, যা রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা হ্রাস করে। [1]

৫। ৩০ জন মহিলার মধ্যে একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে তিন মাস ধরে প্রতিদিন ১.৫ চা চামচ (৭ গ্রাম) সজিনা পাতার গুঁড়ো গ্রহণ করলে গড়ে খালি পেটে রক্তে শর্করার মাত্রা ১৩.৫% কমে যায়। 

৬। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছয়জনের মধ্যে আরেকটি ছোট গবেষণায় দেখা গেছে যে খাবারে ৫০ গ্রাম মরিঙ্গা পাতা যোগ করলে রক্তে শর্করার বৃদ্ধি ২১% কমে যায়। [2]

সজিনা কিভাবে রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে?

মরিঙ্গা ওলিফেরাতে বেশ কয়েকটি পলিফেনল পাওয়া যায়। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ফ্ল্যাভোনয়েড কোয়ারসেটিন, কেম্পফেরল, ফেনোলিক এসিড, ক্লোরোজেনিক এসিড এবং ক্যাফেওয়েলকুইনিক এসিড। এই যৌগগুলি অ্যান্টিহাইপারগ্লাইসেমিক বৈশিষ্ট্য প্রদান করে বলে মনে করা হয় এবং গ্লুকোজের অন্ত্রের শোষণ হ্রাস করে।

মরিঙ্গা ওলিফেরার জলীয় পাতার নির্যাস α-glucosidase, pancreatic α-amylase এবং অন্ত্রের সুক্রোজের কার্যকলাপকে বাধা দিতে দেখা গেছে, যা অ্যান্টিহাইপারগ্লাইসেমিক বৈশিষ্ট্যগুলিতে অবদান রাখে। 

মরিঙ্গা ওলিফেরাতে উপস্থিত ফেনল, ফ্ল্যাভোনয়েড এবং ট্যানিনের কারণে এই প্রতিরোধক প্রভাবগুলি সম্ভব। কার্বোহাইড্রেট হজমে বিলম্ব, এই এনজাইমগুলির বাধার কারণে, পোস্ট-প্র্যান্ডিয়াল হাইপারগ্লাইসেমিয়া এবং হিমোগ্লোবিন A1C (HbA1C) হ্রাসের দিকে পরিচালিত করে। [3]

আরেকটি গবেষণায় দেখা যায়, কোনো প্রতিকূল প্রভাব সৃষ্টি না করেই, মরিঙ্গা পাতা গ্লাইসেমিয়া কমাতে দেখা গেছে। গ্লাইসেমিয়া হ্রাস করার জন্য প্রস্তাবিত প্রক্রিয়াগুলির মধ্যে রয়েছেঃ

  • α-amylase এবং α-গ্লুকোসাইডেস কার্যকলাপের বাধা, 
  • পেশী এবং লিভারে গ্লুকোজ গ্রহণ বৃদ্ধি, 
  • অন্ত্র থেকে গ্লুকোজ গ্রহণে বাধা, 
  • লিভারে গ্লুকোনিওজেনেসিস হ্রাস এবং ইনসুলিন সিক্রেটিভিটি বৃদ্ধি।

সজিনা পাতার আরো অনেক উপকারিতা

ডায়াবেটিস নিরাময়ে সজিনা পাতার উপকারিতা

এই পাতার নানা গুণাগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। লেবু থেকে সাত গুন বেশি ভিটামিন-সি রয়েছে এতে। যা আমাদের দেহের ভিটামিন-সির চাহিদা পূরণে সক্ষম।

ডায়েটে সজিনা কীভাবে অন্তর্ভুক্ত করবেন? 

ড্রামস্টিক, বীজ এবং পাতা তিনটি বিভিন্ন উপায়ে ব্যবহার করা যেতে পারে। পাতা কাঁচা, গুঁড়ো বা রস আকারে খাওয়া যেতে পারে। পানিতে ড্রামস্টিক পাতা সিদ্ধ করে এর সাথে মধু ও লেবু মিশিয়ে খাওয়া যায়। এছাড়াও ড্রামস্টিক স্যুপ এবং তরকারীগুলিতেও ব্যবহার করা যেতে পারে। এক চা চামচ বা ড্রামস্টিকের প্রায় ২ গ্রাম একটি ডোজ নিয়মিত গ্রহণ করা উচিত। ডায়াবেটিক রোগীদের সঠিক ডোজ জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সজনে পাতার কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া 

মরিঙ্গা বা কোনো সম্পূরক গ্রহণ করার আগে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ নিতে হবে বিশেষ করে যদি কোনো ওষুধ খাওয়া হয়।

ডায়াবেটিক রোগীরা সজিনা কিভাবে খাবেন? 

  • সজিনা পাতা শুকিয়ে গুঁড়া করে সংরক্ষণ করা যায়। পরে চায়ের পাতার মতো ব্যবহার করা যায় অথবা শুকনা পাতা ফুটানো পানিতে দিয়েও চা বানানো যায়। 
  • তাজা সজিনা পাতা পানিতে ফুটিয়ে চায়ের মতো খাওয়া যায়।

সজিনা পাতায় আইসো থায়োসায়ানেট থাকে। ফলে নিয়মিত সজিনা পাতা খাওয়া হলে তা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমায় এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সজিনা পাতার চা বেশ উপকারী।

শুধু সজিনা খেলেই কি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকবে?

নিয়মিত সজিনা পাতা খাওয়ার মাধ্যমে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তবে তার পাশাপাশি ডায়াবেটিক রোগীকে অবশ্যই নিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা ও সঠিক খাদ্যাভ্যাস মেনে চলতে হবে। কারণ নিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা ও সঠিক খাদ্যাভ্যাস মেনে না চললে শুধু সজিনা খেয়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না।